ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনায় পোয়াবারো ইয়াবা কারবারিদের
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ১২:১৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 231

মরণ নেশা ইয়াবার বিস্তার বেড়েই চলেছে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে তীব্র স্রোতের মতো দেশে ঢুকছে ইয়াবা। কঠোর অভিযান-নজরদারির পরও ঠেকানো যাচ্ছে না এই নেশাপণ্য। করোনায় সবকিছুতে স্থবিরতা বিরাজ করলেও থেমে নেই ইয়াবা কারবারিদের তৎপরতা; বরং প্রতিনিয়তই বাড়ছে। 

এতে ইয়াবার মায়াবী নেশার জালে প্রতিনিয়ত আটকে যাচ্ছে তরুণরা। আর ইয়াবা বন্ধে উৎপাদনকারী দেশ মিয়ানমারও বারবার কথা দিয়ে কথা রাখছে না। এ অবস্থায় কঠোরভাবে সীমান্ত বন্ধের বিষয়েই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমানা ভাগ করা টেকনাফের ‘নাফ নদ’সহ বিস্তৃত দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে ঢুকছে ইয়াবার চালান। বলা হচ্ছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ইয়াবা তৈরির অন্তত ৩৫টি কারখানা ও বেশকিছু ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশটির প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদেই চলছে ইয়াবার কারখানা। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার একশ্রেণির মাদক কারবারি ও মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা মিলেমিশে বেশ চাঙ্গাভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবার ব্যবসা। স্কুলব্যাগে, পেটের ভেতরে, বিভিন্ন পণ্যের আড়ালেসহ নানা কৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ইয়াবা সরবরাহ করছে মাদকচক্র। 

গতকাল বুধবারও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কায়দায় সৌদি আরবে পাচারকালে প্রায় ৯ হাজার ইয়াবাসহ সাদ্দাম নামে এক যাত্রীকে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এপিবিএন)। এদিকে গতকাল চট্টগ্রামে ইয়াবা বহনকালে হারুন-অর-রশিদ ও ইসমাইল পারভেজ নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। রাজধানীতেও গতকাল ৪০৩ পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে,  কেবল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত এই সাত মাসে ৬৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজার ৪১৯ জনকে। এ ছাড়া বিগত সাড়ে চার বছরে (২০১৭ সাল থেকে গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত) র‌্যাবের অভিযানে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৮৭ জনকে। এ ছাড়া বিজিবি গত জুন মাসে সর্বমোট ১০ লাখ ৫২ পিস ইয়াবা আটক করেছে। চলতি মাসেও ইয়াবার বেশ কয়েকটি বড় চোরাচালান আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সময়ের আলোকে বলেন, মিয়ানমার তো কোনো কথায় রাখে না। তারা (মিয়ানমার) প্রত্যেকবারই আসে বা বসে; কিন্তু যৌথ কোনো সমঝোতা বা কাগজে স্বাক্ষর করে না। কাজেই তাদের সঙ্গে আর কথা বলে লাভ নেই। এখন স্ট্রংলি বর্ডার ক্লোজ (শক্তভাবে সীমান্ত বন্ধ) করা ছাড়া আর উপায় নেই। সে বিষয়েই চিন্তা করা হচ্ছে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদ্যবিদায়ি মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার সময়ের আলোকে বলেন, কিছুদিন আগেই মিয়ানমারের সঙ্গে ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইয়াবা উৎপাদনে ৩৫টি কারখানা ও বেশকিছু ল্যাবের বিষয়ে মিয়ানমারও স্বীকার করেছে। কিন্তু যখন সেগুলো বন্ধের বিষয়ে সমঝোতায় স্বাক্ষর করার পালা তখনই তারা সরাসরি তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এভাবে প্রতিবারই তারা ইয়াবা বন্ধে লিখিত বিষয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মাদকের কারবার রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইয়াবার চাহিদা কমানোর দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। 

র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সময়ের আলোকে বলেন, র‌্যাব শুরু থেকেই মাদক তথা ইয়াবার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। মাদকের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে র‌্যাব। তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত গতিপথ পাল্টাচ্ছে। সে অনুসারে র‌্যাবও কৌশল পাল্টে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে গত এক বছরে করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিকভাবে প্রচারাভিযান সেভাবে হয়নি। ইয়াবা প্রতিরোধে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা, পরিবার সবখানেই মাদকবিরোধী অবস্থান গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে জরুরি। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, তরুণ-তরুণীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সবার আগে মা-বাবাসহ পরিবার ও সমাজকে সবার আগে ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরবরাহ বন্ধে আরও কঠোর হতে হবে। সামাজিকভাবে সব স্তরে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। 

র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি আ ন ম ইমরান খান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত প্রায় সাত মাসে ৬৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে মোট ইয়াবা উদ্ধার ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩২১ পিস এবং গ্রেফতার ৪ হাজার ৫৪৪ জন। ২০১৯ সালে ইয়াবা উদ্ধার ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৭৮১ পিস এবং গ্রেফতারের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৪৭ জন। তার আগের বছর ২০১৮ সালে মোট ইয়াবা উদ্ধার ৯৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৩৯ পিস ও গ্রেফতার হয়েছে ৪ হাজার ৯ জন। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ইয়াবা উদ্ধার করা হয় ৭৮ লাখ ১৬ হাজার ৮২৯ পিস। এই সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হয় ১ হাজার ৬৬৮ জনকে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]