ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

অশান্তির অন্যতম কারণ হিংসা
হাবিব মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ৪:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 70

একটি সমাজের মূল চালিকাশক্তি হলো মানুষ। তাদের ওপরই নির্ভর করে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা। যে সমাজের মানুষ যত বেশি আত্মিক উৎকর্ষের চূড়ায় পৌঁছতে পারবে সে সমাজ শান্তি-শৃঙ্খলায় তত বেশি চূড়ায় পৌঁছতে পারবে। মানুষ যত ভালো হবে, সমাজ তত সুন্দর হবে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো হিংসা-বিদ্বেষ, যা মানুষকে ঝগড়া-বিবাদ, অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-নির্যাতনের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে একটি সমাজে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তাই ইসলাম কঠোরভাবে তা নিষেধ করেছে এবং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.)-কে হিংসুকের হিংসা থেকে তাঁর নিকট পানাহ চাইতে আদেশ করেছেন। (সুরা ফালাক : ৫)। আর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির অন্তরে ঈমান এবং হিংসা একত্রিত হতে পারে না। (নাসায়ি : ৩১০৯)। অন্যত্র বলেছেন, তোমরা হিংসা হতে দূরে থাকো, কেননা হিংসা নেক আমল ধ্বংস করে দেয় যেমন আগুন শুকনা কাঠকে ধ্বংস করে দেয়। (আবু দাউদ : ৪৯০৩)

তা ছাড়া হিংসা আসমান ও জমিনে গঠিত প্রথম অপরাধ, যা শয়তানকে আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালনে অবাধ্য করেছে। ফলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হয়েছে এবং যা হযরত আদম (আ.)-এর সন্তান হাবিল তার ভাই কাবিলকে হত্যা করতে উদ্যত করেছে। পরিণতিতে সে কেয়ামত পর্যন্ত সব হত্যাপরাধের বোঝা বহন করছে।

হিংসা মুমিনের গুণ নয়। তা অমুসলি ও মুনাফিকদের স্বভাব। কোরআনে কারিমে বিভিন্ন জায়গায় তা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী জাতির রোগ ‘হিংসা-বিদ্বেষ’ ঢুকে পড়েছে, যা ধ্বংসাত্মক একটি ব্যাধি, তা দ্বীনকে ধ্বংসকারী। (তিরমিজি : ২৫১০)। জনৈক তাবেয়ি বলেন, মুমিন ঈর্ষা করে আর মুনাফিক হিংসা করে। (আদাবুদ দ্বীন ওয়াদ দুনিয়া : ৩৭০)। হিংসা হচ্ছে অপর ব্যক্তির ভালো নির্মূলের ইচ্ছা আর ঈর্ষা হচ্ছে অপরের ভালো নিজেও লাভ করার আশা। এজন্য ইসলামে হিংসা নিষিদ্ধ হলেও ঈর্ষা অবৈধ নয়। হিংসাকে আরবিতে বলে হাসাদ আর ঈর্ষাকে বলে গিবতা।

এটি স্বীকৃত যে, হিংসার কোনো ভালো ফল নেই; বরং তা এমন ব্যাধি যা মানুষকে অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-নির্যাতনের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি সৃষ্টি হয়। হিংসা থেকেই পৃথিবীতে প্রথম অপরাধ ঘটে এবং তার কারণে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। হিংসুক সবসময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে, যন্ত্রণা ও বিষণ্নতায় ভোগে। হিংসার স্বীকার ব্যক্তির উন্নতি ও মর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হিংসুকের যন্ত্রণা ও পেরেশানিও বাড়তে থাকে। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, হিংসা সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্বভাব, অন্যের ক্ষতি করার আগে হিংসুক নিজেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়। (আদাবুদ দ্বীন ওয়াদ দুনিয়া : ৩৬৯)

আখেরাতেও হিংসা মানুষের ক্ষতি বয়ে আনবে। হিংসা অনেক সময় সত্যগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করে। অন্যায়, জুলুম, অবাধ্যতা ও নাফরমানির দিকে ঠেলে দেয়। যেমন অবাধ্য হয়েছে শয়তান, জুলুম ও পাপ করেছে হাবিল, বঞ্চিত হয়েছে আহলে কিতাবিদের অনেকেই। তা ছাড়া হিংসা করা প্রকারান্তরে আল্লাহর ফায়সালাকে অস্বীকার করা। আল্লাহ তায়ালার ন্যায় ও ইনসাফের ওপর আপত্তি তোলা, যা ঈমান-আমল বিধ্বংসী অপরাধ।

হিংসা থেকে মুক্তির উপায় বের করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। ঠান্ডা মাথায় উপলব্ধি করা যে, হিংসা একটি আত্মিক ব্যাধি। ক্ষতি ছাড়া তাতে কোনো উপকার নেই এবং তা শয়তানের কাজ, পক্ষান্তরে মুমিন, মুত্তাকি ও নবীদের গুণ হিংসামুক্ত থাকা এবং অন্যের উপকার করা। হিংসা ঈমান-আমল বিনষ্টকারী এবং তা অন্যায়, অপরাধ ও জুলুম, নির্যাতনের দিকে ঠেলে দেয়। এভাবে হিংসার ক্ষতিগুলো নিয়ে চিন্তা করা এবং তা ভালোভাবে উপলব্ধি করা। সঙ্গে সঙ্গে কিছু পালনীয় আমল হলো- হিংসা যা প্ররোচনা দেয় তার বিপরীত করা। গালি ও গীবতের বিপরীতে প্রশংসা করা। অহঙ্কারের বিপরীতে বিনয়ী হওয়া। কৃপণতার বিপরীতে হাদিয়া দেওয়া। দেখা হলেই সালাম দেওয়া। তা হলে ইনশাল্লাহ পরস্পর মহব্বত তৈরি হবে এবং হিংসার ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আল্লাহ তায়ালা বোঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]