ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কতোটা সক্ষম হবেন মমতা?
মুকুল বসু, কলকাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ৯:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 82

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে কাজ করছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জন্য কাজ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। 

মূলত শত্রুর শত্রু আমার মিত্র- এই নীতিতে এগোতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফায় দফায় একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে নানা রাজনৈতিক  সমীকরণ তৈরি হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। তবে সব সমীকরণকে ছাপিয়ে একটা বিষয় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে তৃণমূল কংগ্রসের যৌথ উদ্যোগেই তৈরি হবে বিজেপি বিরোধী ঐক্যের জোট। আর সেই কাজ কতোটা করে উঠতে পারবেন মমতা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।  

একুশে বঙ্গ জয়ের পরে জাতীয় ক্ষেত্রে আরও বড়ো লড়াইয়ে নামতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় সদস্য সংখ্যার হিসাবে তৃণমূলের আধিক্য কোনও অংশে কম না। তাই এবার  বৃহত্তর ক্ষেত্রে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে মরিয়া তৃণমূল। বঙ্গে গেরুয়া ঝড় রুখে দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই বেশ গুরুত্ব বাড়িয়ে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রণকৌশলে বিজেপি যে কুপোকাত হতে পারে এই বিশ্বাস একটু একটু করে হলেও জন্মাতে শুরু করেছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। 

ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল সুপ্রিমোর গুরুত্ব বেড়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিরোধী ঐক্যের পথে হাঁটতে গিয়ে  দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার মধ্যে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তার বৈঠক ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারপরেই তিনি বৈঠক করেন আম আদমি পার্টির  প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে। এ ছাড়া এনসিপি, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি পার্টির সঙ্গেও সঙ্গেও কথা বলেছেন মমতা। সেখানে দাঁড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।  তা হলো, কংগ্রেসকে ছাপিয়ে যেতে পারবেন কি মমতা?  

সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেসকেই সকলে নেতৃত্বের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রায় ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। নিজেদের একাধিক কেন্দ্রে হেরেছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতারা। রাহুল গান্ধী দুটি জায়গায় না দাঁড়ালে হয়তো এবার সংসদে জায়গা পেতেন না। তার উপরে কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। শচিন পাইলট ক্ষুব্ধ দলের প্রতি। অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট আকার নিয়েছে। পাঞ্জাবে সিধু বনাম অমরিন্দরের চাপা সংঘাত মাঝে মাঝেই প্রকাশ্যে এসে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্যের নেতৃত্বের হাল মমতা অনায়াসেই ধরতে পারেন। 

তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু সংশয়। বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল মমতার ডাকে সাড়া দিলেও বেশ কয়েকটি দল মধ্যপন্থা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তারা মোদী এবং মমতা দুই জনের  সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে নবীন পট্টনায়কের বিজেডি, বিহারের নীতীশ কুমারের জেডিইউ, মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি  এবং জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস। এরা সকলেই মধ্যপন্থায় কাজ করছেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের একজোট করতে কী করেন সেটা এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসলে দিল্লিই প্রধান টার্গেট মমতার। ইতিমধ্যে বাংলার বাইরে একাধিক রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস হাঁটি হাঁটি  পা পা করে চলা শুরু করলেও বিজেপির মতো সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তেমন দাপট এখনও দেখাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। কাজেই গোটা দেশে লড়তে হলে বিরোধী ঐক্যের উপরেই ভরসা রাখতে হবে মমতার। আর সেই কাজ তিনি কতোটা করে উঠতে পারবেন সেটাই এখন দেখার।

/আরএ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]