ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিএনপির রাজনীতি করোনার পেটে
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ১:১৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 93

দীর্ঘদিন ধরেই মিটমিটে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বিএনপি। গত বছর থেকে শুরু হওয়া মহামারি করোনাভাইরাস সেটাকেও ধসিয়ে দিয়েছে। দফায় দফায় করোনার ঢেউ কুলকিনারাহীন করেছে দলের রাজনীতিকে। নেতারা বলছেন, চেষ্টা থাকলেও করোনার কারণে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। সাংগঠনিক কার্যক্রমেও লম্বা স্থবিরতা পড়েছে। 

মহামারি শুরুর পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে মূলত তালা পড়েছে। বন্ধ রয়েছে মাঠের রাজনীতি। তবে বাকযুদ্ধ চলছে মাঝেমধ্যে। করোনার কথা বলে শাটডাউনে চলে যান অনেক সক্রিয় নেতা। এর পেছনে বয়স ও মহামারি সঙ্কটকে সামনে আনা হচ্ছে। তবে অনেক তরুণ নেতা করোনার মধ্যে নিজেকে জানান দিয়েছেন। সঙ্কটের মধ্যেও সক্রিয় থেকেছেন ঝুঁকি নিয়ে।

বিএনপির মধ্যম সারির নেতারা ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির পেছনে সামগ্রিকভাবে দলের তেমন ভূমিকা নেই। কার্যত চেয়ারপারসনের মুক্তিতে দল ব্যর্থ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি দিয়ে জোরালো আন্দোলনকে আড়াল করা হয়েছে। এতে দলের শক্তি-সামর্থ্যই ক্ষয় হয়েছে।

এ নিয়ে একাধিকবার সামনাসামনি পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। এরপর খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে বিএনপি মুখে হুঙ্কার ছুঁড়লেও আসলে কিছুই করতে পারেনি। যতটুকু হচ্ছে সবই খালেদা জিয়ার পরিবারের একান্ত চেষ্টাÑ এমন ধারণা এখন সবার। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামের কথায়।

তিনি মাসখানেক আগে বলেছিলেন, বিএনপির উচিত তাদের নেত্রীর জন্য কিছু করা। তাদেরও দায়িত্ব আছে। কিন্তু দল কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না। অন্যদিকে করোনার কারণে বন্ধ আছে দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম। কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে গেছে। কমিটি নেই বহু সাংগঠনিক ইউনিটে। ২০০৯ সালের পর অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি বিএনপি। 

৮২টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করতে গিয়ে ২০১৬ সালে বেশ কিছু জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছিল দলটি। এরপর ২০১৯-২০ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠনে চেষ্টা চালান। পুরনো কমিটি ভেঙে ৩৭টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটিও করে দেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দু-চারটি জেলা ছাড়া সবগুলোতেই ব্যর্থ হন তারা। ২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির প্রায়। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরে নতুন কমিটি নিয়ে বেশ তোড়জোর দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটি আর দেখা যায়নি।


এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, করোনার কারণে চাইলেও নির্ধারিত সময়ে কমিটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি আসলে অনুকূলে নেই। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি নেই।

অন্যদিকে করোনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিএনপির অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা রাজনীতিতে ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বয়স ও রোগে দূরে সরে যাচ্ছেন। আরেক সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান নানা কারণে চুপসে গেছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই খন্দকার মোশাররফ হোসেনও ঘরবন্দি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করতে চাই। করোনাভাইরাস রোধে পরামর্শ ও সহায়তা করতে চাই। কিন্তু সরকার আমাদের একটিবারের জন্যও ডাকেনি। আমরা তাদের আগে প্রস্তাবনা রেখেছি। তারা রাখেননি। আমাদের নিয়ে তো বসতে হবে, ডাকতে হবে। না হলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটা করব কীভাবে।’

তিনি জানান, করোনায় ভুক্তভোগী মানুষের জন্য কাজ করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। দলীয় কর্মকাণ্ড স্থবির রেখে করোনা মোকাবিলায় সচেষ্ট আছে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপির সমালোচনা সরকারকেই তার ভুল বা সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। যদি সরকার তা ইতিবাচকভাবে নেয়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। করোনার সময়েও রুটিন রাজনীতির সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপিরও উচিত সরকারের গৎবাঁধা সমালোচনার বাইরে এসে টু দ্য পয়েন্টে কথা বলা। আসল ফুটোগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। এতে অসঙ্গতিগুলো সহজভাবে ফুটে উঠবে।

বিএনপির সমালোচক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপির ঘুম কাটেনি। করোনা বিএনপিকে আরও ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে। তারা চাইলে মহামারির মধ্যেও প্রশংসনীয় কাজ করতে পারত। সেই সুযোগ তারাই বিনষ্ট করছে। যার ফলে তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। ঝিমিয়ে যাচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

/টিএম/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]