ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ, মানবিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ
হাবীব রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ১:১৩ এএম আপডেট: ৩০.০৭.২০২১ ১:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 75

করোনা সংক্রমণের প্রকোপ না কমলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নামবে না আওয়ামী লীগ। চলমান মহামারিতে শুধু মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখেছে দলটি।

গত ১৩ জুলাই, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দলের সব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। দলের সবাইকে সাধ্যমতো মানবিক সহায়তা নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের এ মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। 

সবশেষ গত মঙ্গলবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে যেখানে এভাবে দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করে, যেটি বাংলাদেশে আমরা করছি। এটা অব্যাহত রাখতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের আদর্শ, এটাই আমাদের কাজ। এটাই আমাদের জাতির পিতা শিখিয়ে গেছেন। এ মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেই আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন একমাত্র কর্মসূচি হচ্ছে অসহায় মানুষের পাশে থাকা। করোনার এই সঙ্কটে একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এটাই এখন আওয়ামী লীগের একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি।

মানবিক কর্মকাণ্ডকেই বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি মনে করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, করোনার এই দুর্যোগের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে যুক্ত। মানুষ যখন ভয়ে বাইরে বের হয় না, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তখন তাদের জন্য খাবার নিয়ে ছুটেছেন। টাকা নিয়ে গেছেন। করোনায় লাশের সৎকার করেছেন। এমনকি ধানও কেটেছেন।

মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হলেও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক দুশ্চিন্তাও আছে ক্ষমতাসীনদের। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের সব পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ তিন বছর। ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন হয়। গত দেড় বছরে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র তিনটি জেলায় সম্মেলন করেছে দলটি।

তিনটি সাংগঠনিক জেলা হলোÑ জয়পুরহাট, রাজশাহী মহানগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। নতুন কমিটি হয়েছে ২৭টি উপজেলায়। গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণের পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখে আওয়ামী লীগ। পরবর্তী সময়ে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু হলেও করোনার দ্বিতীয় আঘাতে পুনরায় থেমে যায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তাই করোনার প্রকোপ কমে এলে ঘরোয়াভাবে সম্মেলন শুরুর চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৌশলও খুঁজছেন নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, করোনার কারণে আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। এ মুহূর্তে আমাদের নেতাকর্মীরা মানবিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত। এটা রাজনীতির সময় না। করোনার প্রকোপ কমলেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে।

৭৮ সাংগঠনিক জেলা কমিটির ৪৩টিই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। সে সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয়শ উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটির দুই-তৃতীয়াংশেরই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে অনেক আগে। কোথাও কোথাও ২০-২২ বছরেও সম্মেলন হয়নি। কয়েক হাজার ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির মধ্যে ঠিক কতগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ, সে পরিসংখ্যানও নেই দলের কাছে।

মহামারির এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, দল সে কৌশল খুঁজছে বলে জানান আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, করোনায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে জরুরি কাজগুলো আমরা সম্পন্ন করতে পারিনি। এটা পুষিয়ে নিতে আমাদের নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, সারা দুনিয়া যেভাবে চলছে, মহামারি চলতে থাকলে আমাদের সীমিত পরিসরে ঘরোয়া অথবা ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় এগোতে হবে।

করোনায় মানবিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ব্যস্ত আছে উল্লেখ করে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, করোনাকালে সাংগঠনিক লাভ-ক্ষতির হিসাবে যাব না। আওয়ামী লীগ তার সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ফের সম্মেলন ও সমাবেশে নজর দেব। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলায় সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, করোনার সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থমকে দাঁড়ালেও দলের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এসএম কামাল জানান, রাজশাহী বিভাগের তিনটি সাংগঠনিক জেলায় এবং বেশ কিছু উপজেলায় তিনি সম্মেলনের ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে করোনার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। সংক্রমণ কমে এলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে ফের সাংগঠনিক কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মহামারিতে সম্মেলনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা এলেও তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-প্রোপাগাণ্ডা রোধে বিভাগভিত্তিক সভা করেছে আওয়ামী লীগ। আট বিভাগের এসব মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান সারা দেশের দফতর ও উপদফতর সম্পাদকদের নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সাংগঠনিক জেলাগুলোর অবস্থা : ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক জেলা ১৭টি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলেও থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির বেহাল অবস্থা। এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ওয়ার্ড-ইউনিট কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিলেও করোনার থাবায় তা আটকে আছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাড়া এ বিভাগের বাকি ১৫ সাংগঠনিক জেলাই মেয়াদোত্তীর্ণ।

চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ১৫টি। এর মধ্যে আটটির সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। এ বিভাগে ১২৯ উপজেলা সমমর্যাদার শাখা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সম্মেলন হয়েছে ৫৯টির।
রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের আট জেলা ও এক মহানগর। ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী মহানগরের সম্মেলন হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগের ২৭ উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব জেলা সম্মেলন ও কমিটি গঠনের কাজ শেষ করার প্রত্যাশা রয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনের।

রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের আট জেলা ও এক মহানগর। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়। ময়মনসিংহ বিভাগে আওয়ামী লীগের চার জেলা ও এক মহানগর। এর সবই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। একই অবস্থা বিভাগের উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোরও।
খুলনা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১১ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা।

বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের সাত সাংগঠনিক জেলা। ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরিশাল মহানগরের সম্মেলন হয়েছে। এ তিন সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি চার জেলা এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ।

সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। গত জাতীয় সম্মেলনের আগে সুনামগঞ্জ ছাড়া এ বিভাগের অন্য জেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হয়েছে। তবে অনেক উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
/টিএম/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]