ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সহজ ও সুন্দর একটি সদকা
মুহাম্মাদ হাবীব আনওয়ার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৬:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 105

মানুষকে আকৃষ্ট করার সহজ, সুন্দর ও পারিশ্রমিকহীন কাজ হচ্ছেÑ কারও দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসা আর নাম মনে রাখা। আপনি যখন কারও দিকে তাকিয়ে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে একটু মুচকি হাসি দেবেন তখন আপনার প্রতি তার হৃদয়ে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে। মুচকি হাসা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক ভাষা। 

সৌজন্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। মানবিক আচরণ ও উত্তম চরিত্রের অন্যতম সৌন্দর্য। মুচকি হাসার মাধ্যমে অন্যের হৃদয়ে যেমন জায়গা করে নেওয়া যায় তেমনি নিজের দাগহীন হৃদয়ের সচ্ছতাও প্রকাশ প্রায়। মুচকি হাসি বলা হয়, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও আনন্দ চিত্তের ফলে আওয়াজহীন দাঁত প্রকাশ হওয়া। নবীজির (সা.) অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল মুচকি হাসি। তিনি সর্বদা মুচকি হাসতেন। আপন-পর, বন্ধু-শত্রু সবার সঙ্গে তিনি উত্তম আচরণ করতেন। হাসিমুখে কথা বলতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযয়ি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি : ৩৬৪১)।

আল্লাহর রাসুল শুধু নিজেও যেমন সবসময় হাসিমুখে থাকতেন তেমনি হাস্যমুখ করে থাকাকে ইবাদত বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। হযরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে তোমার ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। তোমার সৎ কাজের আদেশ এবং তোমার অসৎ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ তোমার জন্য সদকাস্বরূপ। পথ হারা লোককে পথের সন্ধান দেওয়া তোমার জন্য সদকা স্বরূপ, স্বল্প দৃষ্টি সম্পন্ন লোককে সঠিক দৃষ্টি দেওয়া তোমার জন্য সদকা স্বরূপ। 

পথ থেকে পাথর, কাঁটা ও হাড় সরানো তোমার জন্য সদকা স্বরূপ। তোমার বালতি দিয়ে পানি তুলে তোমার ভাইয়ের বালতিতে ঢেলে দেওয়া তোমার জন্য সদকা স্বরূপ। (তিরমিজি : ১৯৫৬)।

হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও মুচকি হাসির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মানুষের হৃদয়েও একটা তালা আছে। সেই তালার উত্তম চাবি হচ্ছে মুচকি হাসি। হাসির মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা, হৃদ্যতা, কল্যাণ ও মমতাবোধ তৈরি হয়। যার ফলে অহংকার, হিংসা-প্রতিহিংসা দূর হয়। প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব উবে যায়। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হয়। ভ্রাতৃত্ব মজবুত হয়। আর এমন সমাজই সবার কাম্য। এই সাধারণ বিষয়গুলো ঈমানের অংশও বটে।

বর্তমান সময়ে নৈতিকতার অবক্ষয় প্রবল আকার ধারণ করেছে। হিংসা, অহংবোধ আর স্বার্থের বিষাক্ত বীজ আমাদের হৃদয়ে এমনভাবে প্রোথিত হয়েছে, অনেক জোর করেও আমাদের মুখে মুচকি হাসি আনা সম্ভবপর হয় না। এর মূল কারণ হচ্ছে আমাদের হৃদয় সচ্ছ নয়। মুচকি হাসি, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও কথাবার্তায় নম্রতা তখনি আসে যখন হৃদয় স্বচ্ছ থাকে। এ কাজগুলো হতে হয় অন্তরের গভীর থেকে। হৃদয়ের সচ্ছতার ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যার মন পরিষ্কার, অন্তর সচ্ছ সে শ্রেষ্ঠ মানুষ। 

হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ যার কোনো গুনাহ নাই, নাই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মঅহমিকা ও কপটতা। (ইবনে মাজা : ৪২১৬)

সচ্ছ হৃদয়ের জন্য প্রয়োজন সাধনা। সুস্থ পরিবেশ। খোদা ভীতি। অন্তরের মাঝে ঝিয়ে রাখা অহমিকা ও আত্মগরিমা দূর করতে হবে। অন্তরে দাম্ভিকতা পুষে রাখলে কখনও সফলতা আসবে না।

হৃদয়ের নূর নষ্ট হয়ে যাবে। অহংকার, দাম্ভিকতাকে আল্লাহ তায়ালাও অপছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ-পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না। (সুরা বনি-ইসরঈল : ৩৭)। অন্তর থেকে অহংকার ও আত্মগরিমা দূর করার পাশাপাশি মানবপ্রেম ঢুকাতে হবে। 

মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও অলংকারপূর্ণ ভাষায় কথা বলা। ক্রোধ সংবরণ করা। ক্ষমা করার মনোভাব তৈরি করা। সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুখ থাকা। ভুল পথ এড়িয়ে চলা। সত্যনিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। হৃদয়কে মমতাময়, সজীব ও কোমল করে গড়ে তুললে মনের অজান্তেই মুচকি হাসি আপনার মুখাবয়বকে উজ্জ্বল করবে। সেই সঙ্গে ইবাদতের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]