ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

৪০০ বছরের পুরনো বরুণা মসজিদ
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৬:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 67

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫নং কালাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বরুণা গ্রামে অবস্থিত আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বরুণা বড় জামে মসজিদ। মসজিদটির স্থাপনা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মসজিদটি সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটা জানতে পারেন যে, আনুমানিক ৪০০ বছর আগে অর্থাৎ ১০০০ বাংলা মোতাবেক ১৫৯৩ইং সনে (ওই সন মসজিদের প্রধান ফটকে লেখা রয়েছে) মসজিদটি স্থাপিত হয়। 

প্রায় ৬০ শতাংশ ভূমির ওপর নির্মিত মসজিদের চার কোনায় বিরাটাকায় ৪টি ও বারান্দায় ৮টি পিলার এবং মসজিদের ওপরে ৩টি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭০ ফুট, দেওয়াল ৪ ফুট প্রস্থ। 

 মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা ও উভয় পাশে মাত্র ২টি জানালা রয়েছে। প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণশৈলী ও অবকাঠামো নির্মাণে পোড়ামাটি, চুন, ইট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আশ্বর্যের ব্যাপার হলোÑ মসজিদটি নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। 

বিগত ২০১৬ সালে মসজিদের প্রবেশপথে মসজিদ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য দৃষ্টিনন্দন মিনার নির্মাণ করা হয়। মসজিদের চারপাশে সবুজ গাছগাছালি এবং বিভিন্ন রকমের ফলফলাদির গাছপালায় ভরপুর। মসজিদের সম্মুখে রয়েছে বিরাটাকায় কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ। যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২-৩ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ছাড়াও মসজিদের পেছনে ঐতিহাসিক স্থাপনায় রয়েছে সানদার পুকুর ঘাট। 
স্থানীয় কয়েক জন প্রবীণ মুসল্লি বলেন, ‘মসজিদটি কখন, কবে স্থাপিত হয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিংবা আমাদের পূর্বসূরি কেউই জ্ঞাত নয়। তবে মসজিদটি স্থাপনের পর থেকে বরুণার পীর শায়খ লুৎফুর রহমান হামিদীসহ (রহ.) সিলেটের বরেণ্য আলেমরা এখানে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন এবং পথহারা মুসলমানদের সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন। 

এ ছাড়াও বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতি রমজানে সিলেটের বরেণ্য বুজুর্গ আল্লামা ফুলতলী সাহেবের হাতে গড়া কেরাত প্রশিক্ষণ সেন্টার দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট কর্তৃক প্রায় ৫শ ছেলেমেয়েদের কোরআনের শিক্ষা দেওয়া হয়।’

এলাকার তরুণ আলেম মুফতি ফাহিম আল হাসান জানান, ‘মসজিদটি স্থাপনের ব্যাপারে আমাদের পূর্বসূরিদের থেকে আজ অবধি সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনেকেই ধারণা করেন মসজিদটি গায়বি। তবে এই ধারণা আধো সত্য নয়। সরকারি তত্ত্বাবধানে মসজিদটির স্থাপত্য নিয়ে পর্যবেক্ষণ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি এর সঠিক তথ্য উদঘাটন করা যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা ঐতিহাসিক এই মসজিদের সঠিক তথ্য জানবে বলে বিশ্বাস রাখি।’ এ ছাড়াও মসজিদের পশ্চিম পাশ্বে থেকে পড়ন্ত বিকালে বরুণা অঞ্চলের হাইল হাওর ও সূর্যাস্তের সোভা-সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। যা উপভোগ করতে স্থানীয় লোকজন এখানে এসে ভিড় জমান।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]