ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনাকালে ডেঙ্গুর ভয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৭:২২ এএম আপডেট: ০৪.০৮.২০২১ ৯:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 37

বিশ্বে করোনাভাইরাস এখন আতঙ্কের নাম। করোনাভাইরাস বিশ্ববাসীকে চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দিন পার করছে বিশ্বের মানুষ। এর বিরূপ প্রভাবে থমকে গেছে প্রায় ছয়শ কোটি মানুষের জীবনযাত্রাও। দেশে দেশে চলছে লকডাউন ও কারফিউ। বন্ধ রয়েছে অনেক দেশের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। বাংলাদেশেও চলছে কঠোর লকডাউন। এমন অবস্থা থেকে বিশ্ববাসী কবে নাগাদ মুক্তি পাবে তা কেউ বলতে পারছে না। করোনাভাইরাস বিষয়ে সবার মধ্যে কাজ করছে ভয়। আপাতত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরাটাই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। তাই সেই পথেই হাঁটছে পুরো বিশ্ব। টিকা নিচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

স্বাভাবিকভাবেই এমন খবরে সবার মধ্যে কাজ করছে অস্বস্তি ও ভয়। অস্বস্তি রয়েছে আরও বেশ কিছু জায়গায়। কেননা, করোনাভাইরাসের পাশাপাশি আরও একটি রোগ আমাদের সামনে চলে এসেছে অনেকটা নীরবে। যা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। সেটা ডেঙ্গু। করোনা আসার আগে দেশের মানুষ ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে। এ সময় মারাও গেছে অনেক মানুষ। এবারও ডেঙ্গু সবার মধ্যে ধীরে ধীরে ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে। এখানে সবচেয়ে শঙ্কার জায়গাটা হলো অনেকে জ্বর-কাশি নিয়ে করোনা টেস্ট করার পর দেখেন রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এখানে করোনা থেকে বেঁচে যাওয়ার আনন্দ মনে কাজ করলেও অন্য জায়গায় আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না ডেঙ্গু টেস্ট করানো হচ্ছে। তাই এ সময়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ডেঙ্গুর কথা ভুলে গেলে চলবে না। এ বিষয়ে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা।

দেশে ডেঙ্গু এখন আর কোনো নতুন রোগ নয়। আমাদের দেশে সাধারণত এপ্রিল মাসকে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর মাস ধরা হয়। শেষ হয় জুলাই-আগস্টে। কিন্তু গত দুই বছর আর এই সময়সীমা মানেনি ডেঙ্গু। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা ছিল অনেক বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল অক্টোবরের পর ডেঙ্গু আর ছড়াবে না। সেই তথ্য মিথ্যে প্রমাণ করে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর ছিল প্রায় বছরজুড়েই। এবারও বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু বিষয়ে সবার মধ্যে ভয় কাজ করছে। কারণ ডেঙ্গু রোগের প্রধান বাহক হলো এডিস মশা। এডিস মশা বিভিন্ন পাত্রে বৃষ্টির পানির মধ্যে ডিম পেড়ে বংশ বৃদ্ধি করে। এবারও বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ার পর ডেঙ্গু বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবারও তেমন শঙ্কায় রয়েছে মানুষ। যা করোনার মতো এমন কঠিন সময়ে সত্যিই ভয়ের খবর। তাই এ বিষয়ে এখনই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননও বেড়ে যায়। এখন বৃষ্টিও বেশি হচ্ছে। তাই এডিস মশার প্রজনন শুরুর সময় শুরু হয়ে গেছে। আমরা শহরের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো দখল-দূষণে জর্জরিত করে তুলছি। কিছু কিছু খাল রয়েছে সেগুলো যেন একেকটি মশা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। এসব জলাধারগুলো পরিষ্কার করার বিষয়ে কেউ খুব একটা উদ্যোগী নয়। তাই পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গুর সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। যদি পরিকল্পিত নগরায়ণ, নগরের জলাধার রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা রোধ, প্রকৃতি রক্ষা, দূষণ রোধের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া যায় তবে অনেকাংশে কমে যাবে এসব সমস্যা। 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কিছু বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় দায় অবশ্য দুই সিটি করপোরেশনের। গত কয়েক বছর ধরে মশা নিধনের ক্ষেত্রে আহামরি কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন। তাই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে এখনই দ্রুত ও কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। কারণ এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা রোধ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলোÑ এডিস মশার বিস্তার রোধ। পাশাপাশি এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের নাগরিক জীবনের অনেক সমস্যার মধ্যে মশার উপদ্রব একটি প্রধানতম সমস্যা। 

মশা নির্মূলে প্রতিবছর সরকারি বড় বাজেট হয়। আলোচনা-সমালোচনাও কম হয় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো কাজের কাজ তেমন কিছুই হয় না। শুধু রোগ বৃদ্ধির সঙ্গে আতঙ্কের পরিমাণও বাড়ে। এখন মশা নির্মূলে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না। পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ছাড়া জনগণের দায়বদ্ধতা ও সচেতনতাও প্রয়োজন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতায় সম্ভব ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ভূমিকা আশা করছি। 

ষ  সাহাদাৎ রানা, গণমাধ্যমকর্মী




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]