ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনায় পোয়াবারো ইয়াবা কারবারিদের
মাদকবিরোধী অভিযান জোরালো করুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৭:২৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 67

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা থমকে গেলেও থেমে নেই ইয়াবা কারবারিদের তৎপরতা। বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে মরণ নেশা ইয়াবার বিস্তার। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। কঠোর অভিযান-নজরদারির পরও ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবার চোরাচালান।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেকনাফের নাফ নদসহ বিস্তৃত দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে ঢুকছে ইয়াবার চালান।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইয়াবা তৈরির অন্তত ৩৫টি কারখানা ও বেশ কিছু ল্যাব। দেশটির প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদেই চলছে এসব কারখানা। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার একশ্রেণির মাদক কারবারি ও মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা মিলেমিশে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবার ব্যবসা। তারা স্কুলব্যাগে, পেটের ভেতরে, বিভিন্ন পণ্যের আড়ালেসহ নানা কৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ইয়াবা সরবরাহ করছে।

শুধু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত এই সাত মাসে ৬৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ২ হাজার ৪১৯ জনকে। এ ছাড়া বিগত সাড়ে চার বছরে (২০১৭ সাল থেকে গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত) র‌্যাবের অভিযানে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৮৭ জনকে। এ ছাড়া বিজিবি গত জুন মাসে সর্বমোট ১০ লাখ ৫২ পিস ইয়াবা আটক করেছে। 

চলতি মাসেও ইয়াবার বেশ কয়েকটি বড় চোরাচালান আটক করা হয়েছে। র‌্যাব শুরু থেকেই মাদক তথা ইয়াবার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। মাদকের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে র‌্যাব। কিন্তু মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত গতিপথ পাল্টাচ্ছে। সে অনুসারে র‌্যাবও কৌশল পাল্টে অভিযান পরিচালনা করছে।

তবে এ কথা অনস্বীকার্য, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে মাদক পাচার ও সরবরাহ অনেকটা কমেছে। বর্তমান করোনা মহামারির কারণে নজরদারির কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিরা। দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের কারবারিরা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার চালান বন্ধ রাখেনি। কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো পার্সেলে; এমনকি ত্রাণ বিতরণ ও ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন কৌশলে মাদক বিক্রি করছে তারা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পচনশীল পণ্য; যেমনÑ শাকসবজি ও ফলমূল বহনকারী যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তেমন নির্দেশনা রয়েছে। আর এ সুযোগটিকেই বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে আমাদের যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

আমরা মনে করি, ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি ও মাদকের চোরাচালান রোধ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের পক্ষে কঠিন হবে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে সারা দেশে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক, মনোচিকিৎসক, মনোবিদসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। আর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা নেওয়ার এখনই সময়। অন্যথায় আমাদেরকে অনেক বেশি খেসারত দিতে হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]