ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইরাকে প্রবাসীকে অপহরণ-নির্যাতন, দেশ থেকে মুক্তিপণ আদায়
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১, ৪:২৬ পিএম আপডেট: ৩০.০৮.২০২১ ৮:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 274

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা বাদল মিয়া। তিন সন্তানের মধ্যে রাব্বি বড়। সংসারের অভাব ঘোচাতে বছর তিনেক আগে রাব্বিকে বিদেশে পাঠান। ইরাকের কুর্দিস্তানের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ পেয়েছিলেন রাব্বি। ভালোই চলছিলো সবকিছু; কিন্তু করোনায় বন্ধ হয়ে যায় রেস্টুরেন্ট। শুরু হয় রাব্বির কষ্টের দিন। এই সুযোগকে পুঁজি করে একটি চক্র। তারা রাব্বিকে আশা দেখায় ইউরোপে যাওয়ার।

ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে রাব্বিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুঠোফোনে ইমো অ্যাপস ব্যবহার করে তার মাছ বিক্রেতা বাবাকে ফোন করে জানায়, ‘রাব্বিকে জিম্মি করা হয়েছে। মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে পুড়িয়ে দেওয়া হবে লাশ।’ ভিডিও কলে দেখানো হয় রাব্বিকে অমানবিক নির্যাতনের দৃশ্য। ভয় দেখানো হয়- পুলিশকে জানালে রাব্বিকে হত্যা করা হবে।

এই অপহরণকাণ্ডে সম্পৃক্ত এক নারীসহ দুই জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। গ্রেফতারকৃত দুইজন আদালতে এই অপহরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

যেভাবে অপহরণের তথ্য পেলেন বাদল মিয়া
সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপ ইমোতে গত ৩ আগস্ট একটি ভিডিও ক্লিপ আসে। সেটি চালু করতেই দেখেন, ইরাক প্রবাসী ছেলে আব্দুল্লাহ হক রাব্বিকে (২২) শিকল দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন তিনি। দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল্লাহকে ছাড়তে রাজি হয় তারা।

মুক্তিপণ দাবি করা চক্রটি ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে একটি একাউন্ট নম্বর পাঠায় রাব্বির বাবাকে। ছেলের জীবন বাঁচাতে ধার দেনা করে অতিকষ্টে পাঁচ লাখ টাকা যোগাড় করে সেই অ্যাকাউন্টে পাঠায় রাব্বির বাবা।

টাকা পাঠানোর পর থেকেই মুক্তিপণ দাবিকারী চক্র ও রাব্বির সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই পরিবারের। একদিকে ধার-দেনা করে সংগ্রহ করা টাকা, অন্যদিকে ইরাকে জিম্মি ছেলের সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা পরিবারটি সহযোগিতা চায় হাতিরঝিল থানা পুলিশের।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রটি ফরিদপুরের সদরপুর থেকে ঢাকা হয়ে ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত। গত ২৫ আগস্ট (বুধবার) ওই চক্রের দুই সদস্য রনি মুনসি ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। শাহনাজ বেগম পেশায় রাজারবাগ প্রশান্তি হাসপাতালের আয়া।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুজন ছাড়া এই চক্রের আরও ৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্য ৪ জন ইরাকে অবস্থান করছেন। তারা হলেন- ফরিদপুর সদরপুর থানার জহিরুল ইসলাম, হাবিব ফকির, জিয়াউর রহমান ও সুনামগঞ্জের ছাতক থানার শিহাব উদ্দিন। বাংলাদেশে অবস্থানরত চক্রটির অপর দুই সদস্য আতিয়া সুলতানা নিপা ও মুরাদ ফকির পলাতক। নিপা এই চক্রের সদস্য ইরাক প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। মুরাদ ফকির এক মাস আগে ইরাক থেকে দেশে ফেরেন। তিনি জহিরুল ইসলামের চাচাতো ভাই।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় পৈশাচিকভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে ইরাক প্রবাসী একজনকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত আট সদস্যকে আমরা শনাক্ত করেছি, তাদের মধ্যে চার জন ইরাকে অবস্থান করছেন। তাদের ডিটেইল তথ্য পেয়েছি। তারা বৈধ নাকি অবৈধ পথে ইরাকে গেছে, তা ভেরিফাই করে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এনসিবি শাখা ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

পুলিশের পক্ষ থেকে মুক্তিপণের ভাগ-বাটোয়ারার তথ্যও জানানো হয়েছে। ইরাক প্রবাসী জহুরুল ইসলাম পায় ৯০ হাজার টাকা, ইরাক প্রবাসী জিয়াউর রহমান এক লাখ টাকা, ইরাক প্রবাসী হাবিব ফকির ৩০ হাজার টাকা, এক মাস আগে ইরাক থেকে দেশে ফেরত মুরাদ ফকির ১০ হাজার টাকা, গ্রেফতারকৃত রনি মুনসি ৭০০০ টাকা এবং গ্রেফতারকৃত শাহনাজ বেগম পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা।

এদিকে, অপরাধী চক্রটি এ ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত দুজন জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন- এ চক্রটি এ ধরনের আরও অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সেগুলোও ভেরিফাই করব। দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন, এ চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

/এসএ/জেডও/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]