ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইইউর ভিসা নিষেধাজ্ঞা : বাংলাদেশের পক্ষে ফ্রান্স, বিপক্ষে জার্মানি-মাল্টা
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:১৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 108

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভিসা পেতে বাংলাদেশসহ তিনটি দেশের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় কাউন্সিলকে গত ১৪ জুলাই পরামর্শ দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। চলতি সেপ্টেম্বরে বিষয়টি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ওঠার কথা রয়েছে। তার আগে ইইউ সদস্য দেশগুলোর সচিবালয় থেকে এই বিষয়ে মত প্রকাশ করে ইইউ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। যেখানে জার্মানি ও মাল্টা বাংলাদেশকে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে। ফ্রান্স ইইউ কমিশনের ভিসা কড়াকড়ির প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ও স্পেন বাংলাদেশ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের ভিসা পেতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশন তাদের শীর্ষ সংস্থা ইউরোপীয় কাউন্সিলকে গত ১৪ জুলাই পরামর্শ দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতি প্রকাশের পর ইইউ সদস্য দেশগুলোর সচিবালয় থেকে ইইউ কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে জার্মানি, ফ্রান্স, মাল্টা, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন মতামত জানিয়েছে।

জার্মান সচিবালয় থেকে এই বিষয়ে লিখিত মতামতে বাংলাদেশকে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তারা লিখেছে, অনিয়মিত নাগরিকদের নিয়মিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ কিছুটা উন্নতি করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। তবে এসব বৈঠকে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল তার সবটুকু পালন করেনি। গত জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ জনের পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে কথা দিলেও তা পূরণ করেনি।

জার্মানি আরও লিখেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইইউ কমিশনের ভিসা কড়াকড়ির প্রস্তাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আপাতত স্থগিত রেখে বাংলাদেশকে আগামী মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কেননা কড়াকড়ি আরোপের আগে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহযোগিতা না করলে বছর শেষে তাদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

ইইউ কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে মাল্টা বলেছে, অনিয়মিতদের শনাক্তে মাল্টায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। চলতি বছর মাল্টা থেকে অনিয়মিতদের বাংলাদেশ ফিরিয়ে নিয়েছে। মাল্টা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়ে সতর্ক আছে। সার্বিক বিবেচনায় এখনই নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে অবস্থার উন্নতিতে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করা যেতে পারে, যেখান থেকে সঠিক সমাধান আসতে পারে।

ইইউ কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে নেদারল্যান্ডস ও স্পেন বাংলাদেশ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সুইজারল্যান্ড বলেছে, এসওপির (স্ট্যান্ডার্ড ওপারেটিং প্রসিডিউর) আওতায় বাংলাদেশ অনিয়মিতদের বিষয়ে কাজ করছে কিন্তু সময় নিচ্ছে বেশি। এই বিষয়ে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো অসুবিধায় পড়লে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিলে সুইজারল্যান্ড তাতে দ্বিমত প্রকাশ করবে না।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও জানাচ্ছে, জুলাইয়ে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় কাউন্সিলকে সুপারিশ করে বিবৃতি দিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কাউন্সিলের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হলেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। কিন্তু তার আগেই সব সুরাহা হয়ে যাবে। যার লক্ষণ হচ্ছে এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইইউভুক্ত সদস্য দেশগুলোর একাধিক রাষ্ট্রের বাংলাদেশের পক্ষে মতামত দেওয়া। এরই মধ্যে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা ইইউ সংশ্লিষ্টদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে তাতে অনিয়মিতভাবে কোনো বাংলাদেশির ইউরোপে থাকার কথা নয়। তারপরও কেন এমন হচ্ছে বাংলাদেশ এই বিষয়ে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মিতদের শনাক্ত করতে বাংলাদেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাসান মাহমুদ এই প্রতিবেদককে বলেন, চার বছর আগে এসওপির আওতায় ৯১ হাজার আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৮০ হাজার নিয়মিত হয়েছে। এদের একটা অংশ দেশেও ফিরে গেছে। করোনার কারণে কিছু বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগছে।

ইইউ কমিশনের গত জুলাইয়ের বিবৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে আমরা ৯১ হাজার আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশির বিষয়ে মোটামুটি নিষ্পত্তি করেছি; কিন্তু এর মধ্যে আরও এমন সংখ্যার আনডকুমেন্টেড ইইউর বিভিন্ন দেশে জড়ো হয়েছে। এই কারণেই তারা চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তবে আমরা বিষয়টি সুরাহা করার জন্য কাজ করছি।

/জেডও/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]