ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

এএসআই ও কথিত তিন সাংবাদিক গ্রেফতার
হত্যা মামলার তদন্ত রিপোর্ট পাল্টে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাৎ
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৫২ এএম আপডেট: ১২.০৯.২০২১ ৯:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 65

হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিকে খালাস দেওয়া হবে। এজন্য আগেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে লেখা হবে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। এ ছাড়া পুলিশের তদন্ত রিপোর্টও ঘুরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে করে আসামি বেকসুর খালাস হয়ে যাবে। এমনই প্রলোভনে হাতিরঝিল থানার কামরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দি কাজী জিকুর স্ত্রীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল পুলিশের একজন এএসআই এবং নামসর্বস্ব পত্রিকার কথিত তিন সাংবাদিকের একটি চক্র। তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। শুক্রবার রাতে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ওই চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতাররা হলোÑ সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজারবাগে সংযুক্ত থাকা পুলিশের এএসআই কাজী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মামুন, স্বল্প প্রচলিত দৈনিক বর্তমান কথা নামক পত্রিকার সহসম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওরফে সোহাগ, ওই পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান মিজান এবং একই ধরনের আরেক পত্রিকা ভোরের সময়ের বার্তা সম্পাদক মো. কাজল। গ্রেফতার আসামিদের কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার গ্রেফতার ওই চারজনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম আজম।

এ বিষয়ে কথা বলতে গত রাতে হাতিরঝিল থানার ওসি এবং দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তারা ফোন কেটে দেন। তবে মামলার বাদী হাতিরঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম আজমের এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট হাতিরঝিল থানার উলনের একটি ভাড়া বাসায় বাড়ির মালিকের ছোট ভাই  কাজী জিকুর হাতে পরিবারের সদস্যদের সামনে নৃশংসভাবে খুন হন কামরুল ইসলাম (৬৫)।

ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া কাজী জিকুকে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী থেকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কাজী জিকু পুলিশকে জানায়, তাকে কামরুল হত্যা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জিকুর স্ত্রী রোকসানা আক্তারের কাছ থেকে এএসআই (সাময়িক বরখাস্ত) সাজ্জাদ হোসেন মামুন ও নিজাম উদ্দিন সোহাগসহ ওই চক্র দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। মামুন ও সোহাগ কাজী জিকুর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সে সুবাদে মামুন ও সোহাগ মিলে মিজান এবং কাজলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের স্টাফ হিসেবে পরিচয় করিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাল্টে দেওয়ার কথা জানায়।

এভাবে এই প্রতারকরা এক পর্যায়ে কাজী জিকুর স্ত্রীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেয়। এই টাকার মধ্যে মামুন ও সোহাগ নেয় ৬০ হাজার করে, কাজলকে ১৪ হাজার, মিজান ১০ হাজার এবং বাকি ৬ হাজার টাকা বিভিন্ন কাজে খরচ হয়েছে বলে গ্রেফতাররা পুলিশকে জানিয়েছে। তবে সোহাগ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার গাড়িতে ৩৭ হাজার টাকা রাখা আছে বলে জানালে পুলিশ তা জব্দ করেছে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]