ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রোগ-ব্যাধি গুনাহ মাফের সুযোগ
মাসুম আলভী
প্রকাশ: রোববার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 110

মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ কখনও সুখ-শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক পালাক্রমে দিয়ে থাকেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর ভালো ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা আম্বিয়া : ৩৫)।

রোগ-শোকে পতিত হলে মানুষ বিচলিত হয়ে পড়ে। অথচ তারা জানে না, রোগ-শোকও মুমিনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। রাসুল (সা.) একদা আয়েশার (রা.) কাছে গেলেন। দেখলেন আয়েশা (রা.) কপালে একটি জলপট্টি দিয়ে আছেন এবং ব্যথার প্রকোপে কাঁপছেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে আয়েশা?’ তিনি বললেন, ‘জ্বর হয়েছে, আল্লাহ দ্রুত আরোগ্য দান করুন।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘জ্বরকে মন্দ বলবে না। এটি বনি আদমের গুনাহকে এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে আগুন শুকনো লাকড়িকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়।’ (মুসলিম : ২৫৭৫)।

আসলে জ্ঞানের দীনতার কারণে অনেক সময় গুনাহ মাফের এই অপার সুযোগ হাতছাড়া হয় এবং আল্লাহর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মানুষ। আল্লাহ তো সামান্য রোগের মাধ্যমে বান্দাকে পরীক্ষা করেন, বিনিময়ে বান্দাকে জান্নাতের জন্য প্রস্তুত করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম যখন কোনো কষ্টের মুখোমুখি হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহগুলো এমনভাবে ঝেড়ে ফেলে দেন, যেমন গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ে যায়।’ (বুখারি : ৫৬৪৭)।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, রোগ-ব্যাধি আবার নেয়ামত হয় কীভাবে? রোগ-ব্যাধি কতটা কল্যাণকর একটু ইঙ্গিত দিলেই বুঝতে সহজ হবে। অর্থবিত্তের দম্ভ, পদমর্যাদার উষ্ণতা ও যৌবনের শক্তিমত্তার কারণে মানুষ অনেক সময় মৃত্যু ও পরকালের কথা ভুলে যায়। অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যখন মানুষকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। অতঃপর আমি যখন তার বিপদ দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে, মনে হয় যেন তাকে কোনো বিপদ স্পর্শ করার কারণে সে আমাকে ডাকেনি!’ (সুরা ইউনুস : ১২)।

কিছু মানুষ অসুস্থতায় ও বিপদে অধৈর্য হয়ে আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করে বসে। এটা অনুচিত কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা সবর করবে এবং সৎকর্ম করবে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।’ (সুরা হুদ : ১১)। প্রতিটি মুসলমানের চিন্তা-চেতনায় বদ্ধমূল থাকা চাই, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের দুনিয়ায় সামান্য দুঃখ-কষ্ট, রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে গুনাহগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘মুসলমান কোনো যাতনা, রোগ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, নির্যাতন ও শোকের শিকার হলে, এমনকি তার দেহে কাঁটা বিদ্ধ হলেও এর বদলে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহ মাফ করে দেন।’ (মুসলিম : ৬৩২৭)

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]