ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কিউইরাই শিক্ষা দিলো টাইগারদের
নাজমুল হক তপন
প্রকাশ: রোববার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 127

বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে। মিরপুরে নিজেদের মনমতো উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশলে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা, এই অভিযোগ যদি বাদ দিয়েও বলা যায়, সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মেজাজ সর্বোপরি স্পিরিট কিন্তু দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড। পুরো সিরিজেই টি-টোয়েন্টি স্পিরিটের ধার দিয়েও যায়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

সিরিজের একমাত্র দেড়শোর্ধ্ব রানের ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডের। শেষ ম্যাচে সফরকারীরা সংগ্রহ করে ১৬১ রান। পুরো সিরিজে স্বাগতিক ইনিংসে সর্ব্বোচ্চ রান ১৪১। আমাদের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক আফিফ হোসেন ধ্রুব ছাড়া বাকি সবার স্ট্রাইক রেটই একশর নিচে। বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের টপ-মিডল অর্ডারের চারজন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট একশর ওপরে। পুরো সিরিজে হাফ সেঞ্চুরির নাগাল পাননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান। সেখানে কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম পেয়েছেন দুটি হাফ সেঞ্চুরি।

পুরো সিরিজেই পাওয়ার প্লের চেষ্টাই করেনি টাইগাররা। বাংলাদেশের ইনিংসে সর্ব্বোচ্চ রান ১৪১। ওই ম্যাচেও কোনো উইকেট না হারানোর পরও প্রথম ৬ ওভারে ৩৬ রান তোলে বাংলাদেশ। পঞ্চম ম্যাচে প্রথম ৬ ওভারে কিউই ইনিংসে যোগ হয় ৫৮ রান। ম্যাচে জয়ের জন্য ১৬২ রানের টার্গেটের সামনে প্রথম ৬ ওভারে একটিমাত্র উইকেট হারালেও মাত্র ৩৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। সামনে বড় টার্গেট; কিন্তু হারার আগেই মানসিকভাবে হাল ছেড়ে দেয় টাইগাররা। তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ৬ ওভার থেকে ৪০ রান যোগ করে সফরকারীরা।

বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলটিকে দ্বিতীয় সারির বললেও যথেষ্টই কম বলা হবে। এই দলটির একজনও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাননি। বিপরীতে উইকেটের সুবিধার সঙ্গে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের টাটকা স্বাদ ছিল টাইগার শিবিরে। সফরকারী দলটি কতটা শিক্ষানবিশ সেটা অনুধাবন করার জন্য একটি মাত্র তথ্যই যথেষ্ট। দলটির অধিনায়ক ল্যাথাম সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন আড়াই বছর আগে। অথচ এই দলটিই কি না বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিল দ্রুততম সময়ে। প্রথম ম্যাচে কিউইরা অলআউট মাত্র ৬০ রানে। আর শেষ ম্যাচে তারা স্কোরবোর্ডে জমা করে ১৬১ রান।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর সবাই ভেবেছিল ঘূর্ণিফাঁদে খুব সহজেই আটকে যাবে কিউইরা। প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বড় হয়ে ওঠে এমন শঙ্কাই। অথচ বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ম্যাচের পর ম্যাচ উন্নতি করেছে দলটি। ব্যাটে- বলে দুই জায়গাতেই হার না মানা মানসিকতা দেখিয়েছে তারা। ৯৩ রানের পুঁজি নিয়েও ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর। চতুর্থ ম্যাচে সফরকারীদের গড়া ৯৩ রান টপকাতে ২০তম ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। গৌরবময় অনিশ্চয়তার ক্রিকেটে আগাম কিছু বলা যায় না। তারপরও অনেকের মনেই এ প্রশ্নটা জাগছে। সিরিজটা যদি ৭/৮ ম্যাচের হতো! কিংবা বাংলাদেশে আরও আগে এসে যদি তারা প্রস্তুতি নিতে পারত, তাহলে আদৌ মুখরক্ষা হতো কি না সন্দেহ?

যেহেতু সিরিজ জিতেছে তাই হয়তো চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা সেই অর্থে নেই। কেননা, ইতিহাসে সবকিছুই থাকে বিজয়ীদের পক্ষে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে টি -টোয়েন্টি স্পিরিট থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানদের যে মানসিক দূরত্ব তা থেকে মুক্তির উপায় কী? তবে শিক্ষানবিশ কিউইরা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের শিক্ষাটা টাইগারদের ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]