ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আবারও রাজনৈতিক সংলাপের সুর
কাদেরের ডাকে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবে বিএনপি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৯.২০২১ ৯:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 119

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও আলোচনায় আবারও উঠে এসেছে ‘রাজনৈতিক সংলাপ’-এর কথা। দেশের প্রধান দুই দলই সংলাপ নিয়ে কথা বলছেন। নেতাদের বক্তব্যে নমনীয়তার আভাসও মিলছে। বিশেষ করে এক টেবিলে বসে নির্বাচন ব্যবস্থা জোরদার করতে একমত তারা।

শুরুটা হয় গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়ার পর।
এর দুদিন পর শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, সেই নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে মোটা দাগে চার শর্ত দেন বিএনপি মহাসচিব। এর মধ্যে অন্যতম ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। এমন শর্ত দেওয়ার পরদিনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানানো হয়।  

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মেনে। বিএনপির শর্তের কিছু নেই। তবে তারা সংলাপে বসতে প্রস্তুত। তার মতে, নির্বাচনি ব্যবস্থা কীভাবে জোরদার করা যায় সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এমন হুমকি-ধমকি দিয়ে নয়।

নির্বাচনে কোনো পক্ষপাত হবে না বলে বিএনপিকে আশ্বস্ত করে কাদের বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবেই শেষ হবে। ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার এমন বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বিএনপি।

দলের নেতারা বলছেন, সংলাপের আহ্বান অবশ্যই ইতিবাচক। সংলাপে সমাধান বেরিয়ে আসে। তবে এককেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে সার্বজনীন মনোভাব দেখাতে হবে। নইলে সংলাপ নিছক ‘চা-চক্রেই’ থেকে যাবে। ফলপ্রসূ সমাধান হবে না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির খন্দকার মোশাররফ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ভালো দিক। বিষয়টি নিয়ে আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে। তবে আমাদের বিষয়টি পরিষ্কার, দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হবে না। এর প্রমাণ জাতি একাদশ নির্বাচনে দেখেছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ওনার বক্তব্য নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা করব। আমাদের মহাসচিব খুব স্পষ্ট করে বলেছেন বিএনপি দাবিগুলো কী।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সম্প্রতি সোচ্চার হয়েছে বিএনপি। আপাতত তারা এটিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে এগোচ্ছে। একটি ‘গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর’ নির্বাচন কমিশন গঠনে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে বিএনপি। আওয়াজ জোরালো করতে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক শুরু করেছে দলটি। কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করতে চায় তারা।

অন্যদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে রাজনীতির মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। মহামারি করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম ফের চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। রোববার কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বে থাকা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে দলীয় কার্যক্রমের অগ্রগতির জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম-সাংগঠনিক গঠন ও পুনর্গঠন পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পৃথকভাবে ধারাবাহিক সভা ডেকেছে বিএনপি।

এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাগুলোতে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করবেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির নির্ধারিত সদস্যরাও সভাগুলোতে উপস্থিত থাকবেন। ধারাবাহিক এ সভা প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, আগামী বুধবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক এবং আগামী বৃহস্পতিবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের রায়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হলে বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে তা প্রতিহতের ডাক দেয়। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট ঠেকাতে পারেনি তারা। শুরুতে আন্দোলনের কথা বললেও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি অংশ নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই। তবে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তারা একাধিকবার জানিয়েছে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]