ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনাকালে শিক্ষার ‘উৎসব’: স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:৪২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 67

১৭ মাস পর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় ২ লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা মুখর হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি। গতকাল রোববার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রাণচা ল্য ফিরেছে। ৫৪৪ দিন পর শিক্ষকরা পেয়েছেন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সান্নিধ্য। সহপাঠীদের সঙ্গ পেল শিক্ষার্থীরা। শহরা লের ঘরবন্দি শিশুরা পেয়েছে মুক্তির আনন্দ। অবশ্য বন্যাদুর্গত ১৪টি জেলার সাত শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি।

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও একসঙ্গে সব শ্রেণির ক্লাস শুরু হচ্ছে না। ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও প ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাসে যেতে হবে। বাকিদের সপ্তাহে এক দিন করে মাত্র দুটি বিষয়ের ক্লাস হবে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ছিল উৎসবের আমেজ। এদিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলেছেন, শিক্ষক-ছাত্রদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা করণীয় সবকিছুই করা হয়েছে। তবুও সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, শরীরের তাপমাত্রা ও ওজন মাপার যন্ত্র রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জেড আকৃতিতে বসতে হবে শ্রেণিকক্ষে। টিফিন খেতে হবে একা একা। সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে হবে। এখন দেখার বিষয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এর কতটুকু মানাতে ও মানতে পারেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর করোনা সংক্রমণ বাড়লে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা কম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে কতটা মানা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেকেই শঙ্কায় আছেন এই করোনাকালে সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যাপারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো একটি চ্যালেঞ্জ। কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার জো নেই। পাশাপাশি কঠোর নজরদারিও থাকতে হবে।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে ক্লাসে আসা-যাওয়া করবে। স্কুল গেট থেকে তাদের যাবতীয় সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পারায় শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন আনন্দিত, তেমনি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কাও কম নয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এখন বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গত বছর বন্ধ হওয়ার পর মে মাস থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা ও জুলাই মাস থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষেই অনলাইন ক্লাস করা সম্ভব হয়নি।

আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। করোনার সংক্রমণ আপাতত কম হলেও আবার বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারি রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও কয়েক লাখ শিক্ষককে করোনার ঝুঁকির মধ্যে রেখে স্কুল খোলা যেমন শঙ্কার, তেমনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য। সুরক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সন্তানদের সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানাই হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার প্রধান বিষয়। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়ায় যে উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা যেন বজায় থাকে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]