ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আত্মসমালোচনা নিজেকে সংশোধন করে
শাহ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 78

মানুষের মন্দ স্বভাবগুলোর অন্যতম হলো অন্যের সমালোচনা করা। কে কোথায় কী করল, সেই চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত থেকে অনেকে দিনের একটি বড় অংশ ব্যয় করে। অথচ অন্যের সমালোচনা গর্হিত কাজ, এ কারণে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়। পক্ষান্তরে মানুষের উত্তম স্বভাবগুলোর একটি হলো নিজে নিজের সমালোচনা করা। এটা শরিয়তস্বীকৃত একটি ভালো স্বভাব। কোরআন ও হাদিসে অপরের সমালোচনার প্রতি নিষেধ করা হয়েছে এবং নিজের সমালোচনার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এর চর্চার মাধ্যমে নিজের দোষত্রুটিগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টিকে আত্মসমালোচনা বলা হয়।

সচেতনভাবে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বা পরিত্যাগ করা, যাতে কৃতকর্ম সম্পর্কে নিজের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। সুতরাং কাজটি যদি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টিমূলক হয়, তবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে এবং অসন্তুষ্টিমূলক হলে তা থেকে কঠিনভাবে বিরত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে নিজেকে সর্বদা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রাখতে হবে। একেই আত্মসমালোচনা বলে।
 
আল্লামা ইবনুল কাইউম (রহ.) বলেন, ‘আত্মসমালোচনার অর্থ নিজের করণীয় এবং বর্জনীয় পৃথক করে ফেলা। অতঃপর সর্বদা ফরজ ও নফল কর্তব্যসমূহ আদায়ের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং হারাম বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করার ওপর সুদৃঢ় থাকা।’ আত্মসমালোচনাকে উৎসাহিত করতে পবিত্র কোরআনে একাধিক আয়াত নাজিল হয়েছে।

এটিকে প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য ঘোষণা করে কোরআনে কারিমে মহান আল্লাহ বলছেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামীকালের জন্য (আখেরাতের জন্য) সে কী প্রেরণ করেছে, তা চিন্তা করা। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহ তাদের আত্মভোলা করে দিয়েছেন (তারা কোন কাজটি ভালো, কোনটি মন্দ তা বাছাই করার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে)। নিশ্চয়ই তারা পাপাচারী।’ (সুরা হাশর : ১৮)

আত্মসমালোচনাকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে। এর গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত ওমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের আমলনামার হিসাব নিজেরাই গ্রহণ করো, চূড়ান্ত হিসাব দিবসে তোমাদের কাছ থেকে হিসাব গৃহীত হওয়ার পূর্বেই। আর তোমরা তোমাদের আমলনামা মেপে নাও চূড়ান্ত দিনে মাপ নেওয়ার আগেই। কেননা আজকের দিনে নিজের হিসাব নিজেই গ্রহণ করতে পারলে আগামী দিনের চূড়ান্ত মুহূর্তে তা তোমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। তাই সেই মহাপ্রদর্শনীর দিনের জন্য তোমরা নিজেদের সুসজ্জিত করে নাও, যেদিন তোমরা (তোমাদের আমলসহ) উপস্থিত হবে এবং তোমাদের কিছুই সেদিন গোপন থাকবে না।’ (তিরমিজি : ২৪৫৯)

আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজের দোষত্রুটি নিজের সামনে প্রকাশ পায়, এর মাধ্যমে একজন মানুষ স্বীয় ভুলত্রুটি সম্পর্কে জানতে পারে।

ফলে তার হৃদয় ভালো কাজের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকে। আত্মসমালোচনা দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম, যা মানুষকে আল্লাহর দরবারে একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নেয়ামতসমূহ সম্পর্কে জানতে পারে।

আর বান্দা যখন আল্লাহর নেয়ামত ও তার অবস্থান সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে, তখন সে আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ে উদ্বুদ্ধ হয়।

এর আরও একটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এতে করে মানুষের মধ্যে জবাবদিহিতার উপলব্ধি সৃষ্টি হয়। এটা জীবনের লক্ষ্যকে সজীব করে রাখে। এর ফলে কোনো পাপ দ্বিতীয়বার করতে গেলে বিবেক বাধা দেয়। ফলে পাপ কাজ থেকে মুক্তির পথ সহজ হয়ে যায়।

আত্মসমালোচনা মানুষের পার্থিব জীবনে দায়িত্বশীলতা সৃষ্টি করে, পরকাল নিয়ে ভাবনার উদ্রেক ঘটায় এবং বিবেককে শানিত করে। এর ফলে একজন মানুষ তার করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে সে অনুযায়ী জীবন সাজাতে পারে।

সর্বোপরি আত্মসমালোচনা মানুষের আত্মসংশোধনের পথকে সুগম করে। ফলে যেকোনো মানুষ তার ভুলত্রুটিগুলো শুধরে একজন ভালো মানুষ হওয়ার কল্যাণময় পাথেয় লাভ করে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]