ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কলেজমাঠে সাঁতার কাটছে হাঁস
আরাফাত ইসলাম, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:০৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 180

করোনা সঙ্কট কাটিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর পর রোববার থেকে দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্রেণিকক্ষে ফেরায় উচ্ছ্বসিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একটি কলেজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদে প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাঠদান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বন্যার কারণে এখনও খোলা সম্ভব হয়নি উপজেলা সদরের মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং আলহাজ শফি উদ্দিন মিঞা অ্যান্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, মির্জাপুর পৌরসভাধীন এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এবং বাইরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনের রাস্তা ও মাঠে এখনও হাঁটুপানি রয়েছে। সেই সঙ্গে মহিলা কলেজমাঠে এক ঝাঁক হাঁস পানিতে সাঁতার কাটছে আর মাঠের দক্ষিণ দিকে কচুরিপানা ভাসতে দেখা গেছে। অন্যদিকে একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজেরও সামনের রাস্তায় ও ভেতরে মাঠ প্লাবিত হয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মধ্যে রাখতে অ্যাসাইনমেন্ট চালু রয়েছে।

এদিকে উপজেলার অর্ধশতাধিকেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। যদিও গত এক সপ্তাহে পানি কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এসব পানিবন্দি বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পানি কমে গেছে সেসব বিদ্যালয়ে কাদা পানি মারিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু স্কুল-কলেজ খোলার এক সপ্তাহ আগেও বন্যাকবলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় সময়মতো পাঠদান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল।

স্থানীয় শিক্ষা অফিস সূত্র মতে, একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মির্জাপুর উপজেলায় সব মিলিয়ে ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে ১৭০টি, মাধ্যমিকে ৫৫টি, কলেজ ৮টি, মাদ্রাসা ১৪টি এবং ৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ স্থান নিম্নাঞ্চলে হওয়ার কারণে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তবে গত কয়েকদিনে বন্যার পানি কমতে থাকায় শঙ্কা কেটে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, আলহাজ শফি উদ্দিন মিঞা অ্যান্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ, চাকলেশ^র উচ্চ বিদ্যালয়, মারিশন কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দ্যে কাওয়ালজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয়, বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়, আটঘড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাথরঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এ ছাড়াও উপজেলার প্রায় ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এদিকে উপজেলার হিলড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুশুরিয়াঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িপাড়া মধুরটেকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইচাইল ও বহনতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি প্রবেশ করেছিল বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ বলেন, কলেজের সামনের রাস্তায় ও মাঠে এখনও হাঁটুপানি আছে। যে কারণে কলেজ খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে কলেজ খোলা সম্ভব না হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে। যদিও সদরের দুটি কলেজ নদী তীরবর্তী হওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি প্রবেশ করেছে। এজন্য সাময়িকভাবে কলেজ দুটি খোলা না গেলেও পানি কমে গেলে খুব শিগগিরই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেডও/





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]