ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাধারণ ছুটিতে মানুষ ঢাকা ছাড়ায় করোনার বিস্তার ঘটে : গবেষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 78

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মানুষ ঢাকা ছাড়ায় করোনা ছড়িয়েছে। দেশি-বিদেশি সাত প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সে সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রাথমিক কারণ। 

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ গবেষণার বিষয়ে জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), আইসিডিডিআরবি, বাংলাদেশ সরকারের এ-টু-আই প্রোগ্রাম, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্যাঙ্গার জিনোমিক ইনস্টিটিউট, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের বিজ্ঞানীরা গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাদের যৌথ উদ্যোগে ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই গবেষণা শুরু হয়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রবেশ, বিস্তৃতি এবং এর বিস্তার প্রতিরোধে বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ এবং জনসাধারণের গতিবিধির ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণাটি ৪ সেপ্টেম্বর নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় প্রাথমিকভাবে গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ৩৯১টি করোনাভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের উদ্ভব হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। পরে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মাধ্যমে আরও ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। বিস্তার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার মার্চ মাসের ২৩ তারিখে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকারের এ-টু-আই প্রোগ্রাম থেকে সংগৃহীত ফেসবুক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে জনসাধারণের ঢাকা ত্যাগ করার প্রাপ্ত ডেটার সঙ্গে সার্স-কোভ-২ জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়। এ সময় বিপুল মানুষ ঢাকা ছাড়ে। দেশব্যাপী করোনাভাইরাস বিস্তারের এটিই প্রাথমিক কারণ।

এই গবেষণাপত্রের মূল লেখকদের একজন লরেন কাউলি বলেন, গবেষণাটিতে মহামারি প্রতিরোধে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য মহামারির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নিকোলাস থমসন বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ওপর একসঙ্গে কাজ করছি। বিজ্ঞানীরা যখন জনস্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করেন, তখন কতটা সাফল্য অর্জন করা যায়, এই গবেষণাপত্র তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।’

এই গবেষণায় ফেসবুক ডেটা ফর গুড, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি আজিয়াটা লিমিটেড জনসংখ্যা মোবিলিটি তথ্য সরবরাহ করেছে। বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সার্স-কোভ-২ নমুনার সিকোয়েন্সিংয়ে সহায়তা করেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]