ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

হাজী সেলিমের ভাড়াটিয়াদের দখলে!
ফয়সাল খান
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:২০ এএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২১ ৮:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 194

বছর না ঘুরতেই ফের দখল হয়ে গেছে সোয়ারীঘাটসহ এর আশপাশের এলাকার বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল। পুরান ঢাকার আলোচিত সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা জায়গা ফের দখল করেছেন তারই ভাড়াটিয়ারা। এ ছাড়া নদীর জায়গা অবৈধভাবে পুনঃদখল করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

গত বছর ডিসেম্বরে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধারে নামে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দেড় শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই নতুন রূপে ফিরে আসেন পুরনো দখলদাররা। উচ্ছেদ করা স্থাপনার ভাঙা অংশ অনেকেই পুনর্নির্মাণ করেছেন। কেউ আবার অস্থায়ী দোকান, টং বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। আর যেটুকু জায়গা খালি আছে, তার সবটুকু জুড়েই ট্রাক, পিকাপ আর কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সোয়ারীঘাট থেকে পশ্চিম দিকে কামালবাগ এলাকায় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা পানির ট্যাঙ্কের শোরুমসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। এরপর এই শোরুমটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নদীর জায়গা বাদ দিয়ে মদিনা ভবনের বাকি জায়গায় ঘর করে ভাড়া দিয়ে দেন। এসব ঘরে বর্তমানে ভাঙারি জিনিসপত্র কেনাবেচা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে সোয়ারীঘাট গিয়ে দেখা যায়, হাজী মো. সেলিমের কাছ থেকে উদ্ধার করা নদীর জায়গায় ড্রামের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর পেছনে দোতলা লাল রঙের একটি ভবন রয়েছে। এই ভবনের পূর্বদিকের অংশে লেখা আছে ‘মদিনা ভবন’। নিচতলার ভাঙারি মালের গোডাউনের সাইনবোর্ডে অবশ্য ‘মদিনা পানির ট্যাঙ্ক মার্কেট’ লেখা। এই ভবনের নিচতলার ৯টি ঘর প্রতিটি ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানকার ব্যবসায়ীরাই ড্রাম দিয়ে স্তূপ করে রেখেছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মালামালও নিয়মিত এখানেই রাখেন তারা। জায়গাটি খালি থাকায় ব্যবহার করছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি ওই ব্যবসায়ীরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মধ্যে দুজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, দোকানের সামনের অংশ (নদীর জায়গা) ব্যবহারের জন্য কাউকে কোনো টাকা দেন না তারা। শুধু দোকানই ভাড়া নিয়েছেন। দোকান মালিক পক্ষও এখান থেকে মালামাল সরাতে তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ বা অন্য কোনো সংস্থার লোকজন তাদের কিছু বলেনি।

মদিনা পানির ট্যাঙ্ক মার্কেট থেকে পশ্চিম দিকে নদীর জায়গায় মাছ বাজারের কিছু অংশ ও বেশ কিছু স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। মাছ বাজারের সামনের রাস্তার পাশে থাকা একটি সীমানা পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে হাজী মো. সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মহিউদ্দিন বেলাল জানিয়েছেন, হাজী সেলিম কথা বলতে পারবেন না। আর নদীর জায়গায় মদিনা গ্রুপ বা হাজী সেলিমের কোনো স্থাপনা নেই। বরং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের নদী উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

এদিকে সোয়ারীঘাটের পূর্বদিকে পানঘাট ও এর আশপাশের এলাকায়ও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। পানঘাট এলাকায় দুটি মার্কেটের সামনে নদীর সীমানা পিলারের ভেতরে নতুন করে গোডাউন ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের অভিযানে এসব স্থাপনার প্রায় অর্ধেক ভেঙেছিল বিআইডব্লিইটিএ। নতুন ভবন যে ভাঙা অংশের সঙ্গে জোড়া দিয়ে বানানো হয়েছে, তা দেখলেই যে কেউ খুব সহজে বুঝবেন। চায়ের দোকান, পানের টং ছাড়াও অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে নদীর সীমানা পিলারের মধ্যে।

এই এলাকায় মার্কেটগুলোর সামনে রাখা বড় বড় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের কারণে অনেক পিলার দেখাই যায় না। আবার পিলারের ভেতরে জায়গাও অপরিচ্ছন্ন। ময়লা আবর্জনায় ঠাসা এসব জায়গা দিয়ে পথচারী চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। পাশের ছোট রাস্তায় প্রায় সারা দিনই যানজট লেগে থাকে। তাই নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন জায়গা দিয়েই হাঁটতে হয় পথচারীদের।

সোয়ারীঘাট, পানঘাট, চম্পাতলী ও কামালবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নদীর জায়গা পুনঃদখল করেছেন প্রভাবশালীরা।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেকের সঙ্গে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকা নদী বন্দর কর্মকর্তা গুলজার আলীকে ফোন ও খুদেবার্তা দেওয়া হয়। খুদেবার্তার জবাবে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান এবং জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সময়ের আলোকে জানান, বন্দর এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হচ্ছে না। সীমানা পিলারের ভেতর কোনো স্থাপনা রাখা হবে না। উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর মধ্য দিয়েই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর বুড়িগঙ্গা নদী তীরে হাজী সেলিমের মদিনা ট্যাঙ্কের শোরুম ও গোডাউনসহ ১৭১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। এ সময় আলোচিত এ সংসদ সদস্যের পেট্রোল পাম্পের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া সোয়ারীঘাট থেকে কামালবাগ পর্যন্ত পাঁচতলা বিশিষ্ট পাঁচটি টিনের ঘর, চারতলা বিশিষ্ট আটটি টিনের ঘর, ১০টি দোতলা টিনের ঘর, পাঁচটি পাকা দোতলা ভবন, ১০টি পাকা একতলা ভবন, ৩৫টি আধা পাকা ঘর, ৭০টি টং ঘর, একটি কার ওয়াশ রুম, দুটি স্টিলের গোডাউন ও ২৫টি দোকান মোট ১৭১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাজী মো. সেলিম   দখল  




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]