ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নদীর সীমানায় স্থাপনা থাকলে অবশ্যই সরাতে হবে : নৌ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:১৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 42

নদীর সীমানা নির্ধারণ করে যে খুঁটি বসানো হয়েছে, সেই সীমানার মধ্যে কারো স্থাপনা থাকলে তা অবশ্যই সরাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৗ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নদীর জায়গায় যারা শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে, তাদের আমরা সুযোগ দিয়েছি। তারা সুযোগের সঠিক মূল্যায়ন না করলে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। 

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীর পাড়ে অনেক ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এজন্য তাদের কিছুটা সুযোগ দিতে চাই। কারণ এক সময় অনেকে ভাবেননি নদীরও নিজস্ব জায়গা আছে। এই ভাবনার জায়গাটা তৈরির দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র অনেক দিন সেই জায়গাটা তৈরি করেনি। নদীর সীমানা পিলারের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের প্রতিষ্ঠান সরাতে হবে। আমরা পিলার দিচ্ছি। পিলার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হয়নি। কাজ করতে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের সদিচ্ছা, সাহস ও প্রেরণা আছে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু রাঘববোয়াল নয়, সাধারণ মানুষও নদী দখল করে আছেন। সাধারণ মানুষ হয়তো জানেনই না, নদী দখল করে আছেন। অনেকে নদীর ২০০ ফুট ভেতরে চলে গেছেন অসাবধানতার কারণে। জোর যার মুল্লুক তার ছিল। এখন আর তা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে আবেদন করলে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। 

নদীর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে জানিয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীতে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তারা যেসব জিনিস উৎপাদন করে সেসবের দাম বেড়ে যাবে। তার মানে এই না আমরা তাদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করেছি। নারায়ণগঞ্জে অনেকগুলো সিক (দুর্বল) ইন্ডাস্ট্রি ছিল, যেগুলো অল্পদামে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেগুলো আবাসিক প্লটে পরিণত করা হয়েছে। যে মানুষটি সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন তার কী অপরাধ? এসব দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করেনি বলে এই সরকারের ওপর এখন বিরাট বোঝা পড়েছে। আমরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না করে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। কোনো কম্প্রোমাইজ করছি না।

খালিদ মাহমুদ বলেন, শুধু নদীর জায়গা নয়, যেকোনো অবৈধ দখলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ঢাকার চারপাশের নদীর পাশ থেকে অবৈধ দখলদারদের এখনও পুরোপুরি উচ্ছেদ করা হয়নি। কিছু মামলা মোকদ্দমা আছে, সেগুলো নিয়ে আইনজীবীরা কাজ করছেন। আমরা আশা করি সফলতা দেখাতে পারব। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দখলদার উচ্ছেদের কাজ পুরোপুরি বা শতভাগ সম্পন্ন করতে পারিনি। কিছু মামলা-মোকদ্দমা আছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের আইনজীবী প্যানেল কাজ করছে। আমরা বলতে পারি, এগুলোতে আমরা সফলতা দেখাতে পারবো।

নদীর সীমানা পিলার স্থাপন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে জানিয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেগুলোর বিষয়ে আমরা হেয়ারিং নিচ্ছি। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সমাধান করেছি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সারা দেশে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করতে চাই। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ ছিল। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরইমধ্যে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের মতো নতুন ও পুরনো নৌপথ তৈরি করতে পেরেছি। আমরা এর সুফল পেতে শুরু করেছি। এবার অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে পানি আসলেও তা বন্যায় রূপ নেয়নি। এর অন্যতম কারণ, নদীগুলোর ধারাবাহিক ড্রেজিং করা।

যমুনা অর্থনৈতিক করিডোর: যমুনা নদীকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি পরামর্শ চলছে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘যমুনা অর্থনৈতিক করিডোর’। এটার সমীক্ষার কার্যক্রম শুরু হবে। সমীক্ষায় সফলতা আসে, কাজটি যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে এখানে লাখ লাখ হেক্টর জমি শুধু সংগ্রহ করতেই পারবো না, যমুনার ভাঙনের একটি সমাধানও দিতে পারব। সংগ্রহ করা জমিতে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক করিডোর-১ ও অর্থনৈতিক করিডোর-২ এ দু’টি ধাপে কাজটি হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে বন্যা ও নদীভাঙনে মানুষ এতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিস্তা নদী নিয়েও একটি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো নিয়েও কার্যক্রম চলছে।

কেনা হচ্ছে তিনটি প্রমোদতরী: নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তিনটি ক্রুজ ভ্যাসেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে হ্যালিপ্যাডসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বিআইডবিøউটিসি (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন) এ ক্রুজ ভ্যাসেল সংগ্রহ করবে।

যমুনায় টানেল নির্মাণের চিন্তা: উত্তরাঞ্চলের বালাসীঘাট ফের চালু করা কিংবা সেখানে সেতু করার কোনো চিন্তা সরকারের আছে কি না- জানতে চাইলে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর বিকল্প একটি সেতুর প্রয়োজন আছে। দ্বিতীয় একটি টানেলের সমীক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেটার যদি সঠিক ফলাফল আসে তাহলে ভবিষ্যতে সেখানে একটি টানেল নির্মাণ করা হবে। এ ধরনের একটি চিন্তা-ভাবনার কথা আমরা জেনেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলীর পর দেশে দ্বিতীয় টানেল হবে যমুনায়।

রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে নদী রক্ষায় দাঁড়িয়েছে: রাজনীতির পরিবেশ ধ্বংস করে বা রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে অনেকে নদীর পরিবেশ রক্ষায় দাঁড়িয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেককে আমি দেখেছি, রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন। বলেন পরিবেশ বাঁচাও। রাজনীতির পরিবেশ ধ্বংস করে এখন নদীর পরিবেশ রক্ষা করতে চায়। এদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে। রাজনীতির ময়দানে পরাজিত হয়ে এখন এসব ছোটখাটো এই ধরনের সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে আরেক ধরনের মতলববাজি কাজকর্ম করছেন কিনা, সেগুলোও কিন্তু আমাদের নজরে আনতে হবে।

প্রতিমমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যখন নদীর অবৈধ দখল উদ্ধার করলাম, তখন এই ধরনের মতলববাজ সংগঠনের একজন বলল- আগে বেসরকারি দখলে ছিল এখন সরকারের দখলে চলে যাচ্ছে। মানে দখলদার ঠিকই আছে। এতে কিন্তু জনগণ বিভ্রান্ত হয়। 

পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরির ধাক্কা লাগেনি: মাওয়া ঘাটে কবে থেকে ফেরি চালু হবে এবং পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কা বিষয়ে তদন্ত কমিটি কী তথ্য পেলো, এ বিষয়ে পৃথক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ ৪ নটিক্যাল মাইলের নিচে পানির  স্রোত আসছে কি না, সেটা আমি জানি না। 

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে সর্বশেষ (ধাক্কা দেয়ার) যে ঘটনাটা ঘটে গেলো, সেখানে সেতু কর্তৃপক্ষ বলেছে ‘ধাক্কা লাগে নাই’। সিগন্যাল লাইট যখন নামিয়ে দেওয়া হয় তখন ভিডিওটা ধারণ করা হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, রিপোর্টারকে (একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদকর্মী) আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিলো। দ্রæত নিউজটা ছেড়ে দিয়ে সমগ্র দেশবাসীকে একটা আতঙ্কের মধ্যে রাখা ঠিক হয়নি। আরেকটু বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারতো ‘ধাক্কা লাগেনি’, আসলে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর যখন সেতু কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলেন, দেখলেন সেখানে কোনো ধাক্কা লাগেনি। আমি সাংবাদিকদের বলেছিলাম, ধাক্কা লাগলে ভেঙে যাবে বা দাগ লাগবে। কিন্তু লাইটেও ক্ষতি হয়নি, সেতুতে কোনো দাগও লাগেনি। এ বিষয়ে দেশবাসী আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ায় আমরা বিব্রত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]