ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১ আশ্বিন ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কাবুল দখলের ১ মাস : এবার অর্থনৈতিক যুদ্ধের মুখে তালেবান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:২১ এএম আপডেট: ১৬.০৯.২০২১ ১:২২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 72

এক মাস আগে কাবুল দখলের পর তালেবানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সামরিক যুদ্ধের অবসান হলেও অর্থনৈতিক যুদ্ধের মুখে পড়েছে তালেবান। ত্বরিতগতিতে অর্জিত সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘস্থায়ী একটি শান্তিকালীন সরকারে রূপান্তর করতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়া আফগানদের অনেকের ঘরে এখন একটুখানি ময়দা কিংবা রান্নার তেলও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আফগান শরণার্থীদের পুনর্বাসন কাজে সহায়তা দিতে একটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিন প্রেসিডেন্ট- জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা। চার দশকের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু পেরিয়ে গত মাসে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ ঘোষণা দেয়, আফগানিস্তান তাদের কাছ থেকে আর কোনো সহযোগিতা আপাতত পাবে না।

এদিকে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাবতীয় সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় সে দেশে চলমান প্রকল্পগুলোতে তহবিল স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। সবমিলে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে দেশটি। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে দেশটির জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ আসত বিদেশি সাহায্য থেকে। তবে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতনের পর সেখানে হাজার হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক অনুদান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি দেখা গেলেও দেশটির অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে। খরা ও দুর্ভিক্ষ দেশটির হাজার হাজার মানুষকে শহরে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আশঙ্কা, চলতি মাসের শেষদিকে মজুদ থাকা খাদ্য ফুরিয়ে যেতে পারে। তেমনটা হলে এক কোটি ৪০ লাখ আফগান অনাহারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে বলেও অনুমান তাদের।

নতুন তালেবান সরকার নারী অধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কি না বা আল-কায়দার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে কি না, পশ্চিমা দেশগুলো এসব দিকে বেশি মনোযোগ দিলেও বেশিরভাগ আফগানের কাছে এখন কোনোমতে টিকে থাকাই প্রধান অগ্রাধিকার। ‘সব নারী, পুরুষ, শিশু ক্ষুধার্ত, তাদের কাছে এক ব্যাগ ময়দা বা রান্নার তেলও নেই,’ বলেছেন কাবুলের বাসিন্দা আবদুল্লাহ।

কাবুলের ব্যাংকগুলোর বাইরে এখনও অপেক্ষমাণদের দীর্ঘ সারি। যারা কাউন্টার পর্যন্ত পৌঁছতে পারলে এক সপ্তাহের জন্য তুলতে পারছেন সর্বোচ্চ ২০০ ডলার বা ২০ হাজার আফগানি। ক্ষীণ হতে থাকা রিজার্ভের সুরক্ষায় এ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কাবুলজুড়ে এখন অসংখ্য ছোটখাটো অস্থায়ী বাজার, যেখানে মানুষজন অর্থের জন্য ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করতে নেমেছেন, যদিও ক্রেতার সংখ্যা সীমিত।

শত শত কোটি ডলারের বিদেশি সাহায্যের পরও আফগানিস্তানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকছিল; জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধির সঙ্গে প্রবৃদ্ধি তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়। চাকরি দুষ্প্রাপ্য। সরকারি কর্মীদের অনেকে জুলাই মাস থেকে বেতনও পাননি। দেশটির বেশিরভাগ মানুষই কয়েক দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসানকে স্বাগত জানালেও অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে তাদের চোখেমুখে স্বস্তির দেখা নেই।

‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন অনেক ভালো; কিন্তু আমাদের আয় নেই। প্রতিদিন অবস্থা আরও খারাপ, আরও তিক্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সত্যিই খুব খারাপ’ বলেছেন এক মাংস বিক্রেতা, যিনি কাবুলের বিবি মাহরো এলাকার বাসিন্দা। গত মাসে বিদেশি নাগরিক, কূটনীতিক ও তাদের আফগান সহযোগীদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কাবুল বিমানবন্দরে দেখা গেছে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা। এরপর বিমানবন্দরটি ফের খোলার পর সেখানে ত্রাণ নিয়ে আসা ফ্লাইটগুলো নামতে শুরু করেছে।

জরুরি সহযোগিতা না মিললে ‘পুরো দেশই ধসে পড়বে’- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এমন সতর্কবার্তার পর আন্তর্জাতিক মহল আফগানিস্তানকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে তালেবান ঘোষিত নতুন সরকারে সব পুরনো নেতা ও কট্টরপন্থি স্থান করে নেওয়ায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে শীতল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। কট্টরপন্থি ইসলামী এ গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দেবে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিতও মেলেনি। আফগানিস্তানের বাইরে দেশটির যে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিদেশি রিজার্ভ আছে, তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠারও লক্ষণ নেই। দৃশ্যপট থেকে যুদ্ধ সরে যাচ্ছে; কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। ‘চুরি-ডাকাতি নাই হয়ে গেছে। একই সঙ্গে রুটিও নাই হয়ে গেছে,’ বলেছেন এক দোকানদার।

এদিকে আফগান শরণার্থীদের পুনর্বাসন কাজে সহায়তা দিতে ‘ওয়েলকাম ইউএস’ নামের একটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিন প্রেসিডেন্ট- জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং তাদের স্ত্রীরা। জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নেতা মঙ্গলবার এ জোটের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আফগানিস্তান থেকে পালানো লাখো আফগান নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বর্তমান প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সমর্থন দিচ্ছে ‘ওয়েলকাম ইউএস’।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]