ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আফগানিস্তানের ঘটনাপ্রবাহে সৌদি আরব নেই কেন
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:১৩ পিএম আপডেট: ১৬.০৯.২০২১ ২:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 71

মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের প্রভাব ক্রমশ কমছে। এর প্রমাণ মিলছে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে দেশটির ভূমিকার অনুপস্থিতিতে। এমন দাবি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে। 

আশির দশক থেকে শুরু করে দুই দশক ধরে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা তাড়ানোর প্রক্রিয়ার অগ্রভাগে ছিল সৌদি আরব। আফগান মুজাহিদদের অর্থ-সম্পদের অন্যতম প্রধান যোগানদাতাও ছিল তারা।
আফগান গৃহযুদ্ধে জয়ী তালেবান ১৯৯৬ সালে কাবুলে সরকার গঠনের সময় তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল সৌদি। প্রথম দুই বছর তালেবানের ওই সরকারের অর্থকড়ির যোগানও আসত রিয়াদ থেকে। কিন্তু তালেবান যখন আবারও ক্ষমতায়, তখন কাবুলে সৌদি দূতাবাস বন্ধ। দুই প্যারা বিবৃতির বাইরে সৌদি সরকারের কাছ থেকে আফগান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো কথা নেই।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও দি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান সামি হামদীর মতে, ‘আফগান দৃশ্যপট থেকে উধাও সৌদি আরব। সারা বিশ্বের এবং এমনকি মুসলিম দুনিয়ায় সৌদি আরবের প্রভাব যে কমছে এটি তারই একটি জলজ্যান্ত নমুনা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী কাতার আফগানিস্তানে মুখ্য একটি ভূমিকায়। তারা কাবুল বিমানবন্দরকে সচল করছে। এক সময়কার সৌদিদের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তান নিয়ে কথা বলছে কাতার। এমনকি ইউএই অস্বস্তিতে পড়লেও বসে নেই। আফগান পরিস্থিতি নিয়ে তারা কথা বলছে সৌদিদের প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের সাথে। অথচ সৌদি আরব কোথাও নেই।’

প্রায় তিন বছর ধরে দোহায় আমেরিকার সঙ্গে তালেবানের যে দর কষাকষি চলেছে, তাতে মধ্যস্থতা করেছে কাতার। তালেবান কাবুল দখলের পর বিদেশিদের নিরাপদে আফগানিস্তান থেকে বের করে আনার বিষয়েও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে ২০১৭ সালের জুন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে কাতারর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছিল সৌদি আরব।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সময় সৌদি আরব তালেবানের অন্যতম প্রধান সমর্থক এবং নিয়ন্ত্রক হলেও সেই সম্পর্ক এখন তলানিতে।

সম্পর্কে ভাঙনের শুরু যখন ১৯৯৮ সালে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন গিয়ে আশ্রয় নেন আফগানিস্তানে। সৌদি আরব তাকে আটক করে তাদের হাতে তুলে দিতে বললে সেটি অগ্রাহ্য করে তালেবান সরকার। পরে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর তালেবান-সৌদি সম্পর্ক হিমঘরে চলে যায়।

পরে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদিদের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কে আবারও চিড় ধরে। এর কারণ ছিল, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় তালেবান রাজী না হয়ে কাতারের প্রস্তাবে তারা সায় দেয়।

২০০৯ সালে খবর বের হয় যে সৌদি আরব তালেবান নেতা তাইয়েব আগাকে সেদেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। এরপর ২০১৩ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় প্রতিষ্ঠিত হয় তালেবানের রাজনৈতিক অফিস। সেখানে বসেই আমেরিকা এবং আফগান সরকারের সাথে চলে আপোস মীমাংসা।

এরই মধ্যে গত মাসের মাঝামাঝি কাবুল দখলের পর সৌদি সমর্থিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ওয়াহাবি নেতাকে আটক করেছে তালেবান। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর কারণ হতে পারে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এখন আফগানিস্তানে তালেবানের প্রধান প্রতিপক্ষ এবং তারা মনে ওয়াহাবিরা ইসলামিক স্টেটকে সমর্থন করে। এছাড়া দেওবন্দী ছাড়া অন্য কোনো সুন্নি মতবাদ আফগানিস্তানে জায়গা পাক, তালেবান সেটি চায় না।

তবে আফগানিস্তানে অত্যন্ত রক্ষণশীল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে তালেবানের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তাদের ইসলামী পরিচয়। সৌদি আরব যদি কোনোভাবে আফগানদের হজ্জ এবং উমরাহ পালনে বাধা তৈরি করে, তাহলে তালেবানের জন্য সেটি বেশ ঝামেলার কারণ হতে পারে।

সময়ের আলো/এমআর


আরও সংবাদ   বিষয়:  আফগানিস্তান   সৌদি আরব  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]