ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নাম পাল্টিয়ে মেডিকেল অফিসার থেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
শিহাবুর রহমান, রাজবাড়ী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৪:৪৯ পিএম আপডেট: ১৬.০৯.২০২১ ৪:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 270

নিজের নাম পাল্টে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থেকে সরাসরি হয়ে গেছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন চিকিৎসক। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে আলিসান ভবনে চক্ষু হাসপাতাল খুলে রোগীও দেখছেন তিনি। এ কাজে প্রত্যক্ষভাবে তাকে সহযোগিতা করছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এমন এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া গেছে রাজবাড়ীতে। 

২০২০ সাল থেকে প্রতারণার মাধ্যমে এমন কার্যক্রম চালালেও ওই চিকিৎসক ও চক্ষু ক্লিনিকটির কথা জানতেন না সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকও। নানা ডিগ্রীধারী এমবিবিএস ওই চিকিৎসকের নাম মো. সোলায়ামন হোসেন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম শিমুল মুন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোলায়মান হোসেন পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে চাকরি করেন। ২০২০ সালে রাজবাড়ী শহরের বড়পুলে রাবেয়া টাওয়ারের তৃতীয় তলায় সরকারী কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলেন ‘আইভি আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টার’ নামে চক্ষু হাসপাতাল। সেখানে নিজের নাম পাল্টে সোলায়মান হোসেন থেকে সেজে যান বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার। এই নামেই তৈরী করেন ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ড। ভিজিটিং কার্ডে তার উপাধী দেওয়া হয় সিয়াম সামী আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের কনসালটেন্ট হিসেবে। ভিজিটিং কার্ডে এই সিয়াম সামী আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারটি কোথায় সেই ঠিকানা না দেওয়া থাকলেও সেখানে এম.বি.বিএস, ডি.ও (ডি.ইউ) এ.পি.ডি/স্পেশাল ট্রেনিং মাইক্রো সার্জারী, ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল, ঢাকা/ট্রেইন্ড ইন অরবিস (আমেরিকা) নামে নানা ডিগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়। একই ভাবে ক্লিনিকটির চেম্বারেও তার পরিচয় লিখে রাখা হয়। চেম্বারের অপরপ্রান্তে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ৮/১০টি বেড। 

একই ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী শিমুল মুনকে নিয়ে বসবাসও করেন তিনি। ২০২০ সাল থেকে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সোলায়মান হোসেন বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার সেজে ৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করে আসছেন। তার এই প্রতারণার কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শিমুল মুন। শিমুল মুনও নিজেকে অপথালমোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। পাবনার বেড়া থেকে সপ্তাহে ৩ দিন (বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার) এখানে এসে মিথ্যা ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চক্ষু রোগী দেখেন সোলায়মান হোসেন।

যেভাবে এই চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া গেল
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সময়ের আলোর রাজবাড়ী প্রতিনিধির সাথে স্থানীয় আরো দুই সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে রোগী সেজে আইভি আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে যান। তার আগে আইভি আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে থাকা মোবাইল নম্বর নিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ারের সিরিয়াল নেওয়া হয়। সিরিয়াল নেওয়ার সময় পুরুষ কণ্ঠে এক ব্যক্তি জানান, বিকেল ৩টা থেকে ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার রোগী দেখবেন। বিকেলে আসলেই তাকে দেখাতে পারবেন।

এরপর বিকেলে আইভি আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের রিসিপশনে গিয়ে ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার আছেন কিনা জানতে চাইলে জানানো হয় তিনি আছেন। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে একটি সাদা প্রেসক্রিপশন ও একটি মানি রিসিট দেওয়া হয় রিসিপশন থেকে। এ সময় ডাক্তারের ভিজিটিং কার্ড চাইলে ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ারের নামে বানানো ভিজিটিং কার্ড বের করে দেন সোলায়ামান হোসেনের স্ত্রী শিমুল মুন। তিনি নিজেকেও একজন অপথালমোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর শিমুল মুন নামে ওই নারী ক্লিনিকটির বয়কে দিয়ে একই ভবনের বাসা থেকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে আসেন ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার নামধারী সোলায়মান হোসেনকে। সোলায়ামন হোসেন এসেই নিজেকে মোস্তফা সরোয়ার পরিচয় দিয়েই রীতিমত তিন সাংবাদিকের মধ্যে একজনের চোখে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা শুরু করে দেন। এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে সোলায়মানকে নানা প্রশ্ন করলে বেরিয়ে আসে তার থলের বিড়াল। এ সময় তিনি নিজেকে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোলায়মান হোসেন নিজেকে যে নামে পরিচয় দিতেন সেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. মো. মোস্তফা সরোয়ার টাঙ্গাইলের রোকেয়া আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের পরিচালক ও চীফ কনসালটেন্ট। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাজবাড়ীর আইভি আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নেই। এখানে তিনি কোনদিনও রোগী দেখেননি। তার নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে তাহলে সেই প্রতারকের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা তুজ জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোলায়মান হোসেন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। এখানে তার ডিউটি তিনি ঠিকমতোই পালন করেন। এখানে তার স্ত্রী ও দুই ছেলেও রয়েছে। রাজবাড়ীতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও প্রতারণার বিষয় আমার জানা ছিলো না। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহীম মো. টিটোন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

/আরএ/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]