ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ছয় মাস পর শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:০৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 74

দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ২৫ জন এবং নারী ২৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ১০৯ জনের। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৬২ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ২০৩ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। যা ছয় মাসের বেশি সময় পর শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে নামল। এর আগে গত ১১ মার্চ শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি মাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ হার কমতে শুরু করায় কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিল্ড হাসপাতালে নেই রোগী ও স্বজনদের ভিড়। কমেছে ভোগান্তি। স্বজনদেরও আর শয্যা পেতে হাহাকার করতে হচ্ছে না। মোট ৩৫৭ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন মাত্র ৫০ জন আর বাকি শয্যা রয়েছে ফাঁকা। তা ছাড়া রোগীর চাপ না থাকায় বাড়ানো হচ্ছে না শয্যা সংখ্যা।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যদি করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশে নেমে আসে এবং পর পর চার সপ্তাহ তা অব্যাহত থাকে, তা হলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিবেচিত হবে। তবে সংক্রমণ কমলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই এমনটা সতর্ক করে তারা বলছেন, দেশের মানুষ এখন যেভাবে চলাচল করছেন, সেই শঙ্কাই রয়েছেই।
দেশে বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কম-বেশি হলেও গত জুন থেকে করোনার ডেল্টা ধরনের দাপটে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। যা দুই মাসের বেশি সময় ধরে করোনার ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে আগস্টের শেষ দিকে করোনা সংক্রমণ ও এতে মৃত্যু কমতে শুরু করে। এ ছাড়াও সেপ্টেম্বরের প্রথম তিন দিন শনাক্তের হার ১০-এর কিছুটা ওপরে থাকলেও গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে করোনা শনাক্তের হার কমে ১০-এর নিচে নেমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫৪৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। যা আগের দিন ছিল ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫১ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। এই সময়ে সর্বোচ্চ ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ জন ও রংপুর বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি।

বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড ফিল্ড হাসপাতালে গিয়ে গেছে, রোগী ও স্বজনদের কোনো ধরনের ভিড় নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কাউকে ভর্তি হতে দেখা যায়নি। এমনকি হাসপাতালে স্থাপিত ডেস্কেও কেউ কোনো তথ্য নিতে আসেনি। অথচ হাসপাতাল চালুর শুরুতে একটু পর পর সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের আসা-যাওয়া চোখে পড়ত। এখন আর সেই দৃশ্য নেই। গত ৭ আগস্ট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যাত্রা শুরু করে এ হাসপাতালটি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব কোভিড ফিল্ড হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৭শরও বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন রোগী। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২শরও বেশি রোগী। এ ছাড়া বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকে করোনা সেন্টারে ১৩ হাজার ১৮০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৭৭০ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৬৯৬ জন। বর্তমানে করোনা সেন্টারে ভর্তি আছেন ৮৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হন ৮ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ৮ জন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়া এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন নাজমা বেগম। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। হাসপাতালের সামনে কথা হয় নাজমার ছেলে সুমন মিয়ার সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমার মায়ের অবস্থা খুব জটিল ছিল। এখানে ভর্তির পর অনেকটা সুস্থ আছেন। হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা এবং খরচ কম হওয়ায় তিনি খুব সন্তুষ্ট বলেও জানান।

করোনা আক্রান্ত আরেক রোগী মৌলদা খাতুনের ছেলে মনিরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহে ৮ দিন চিকিৎসা করে কোনো ধরনের উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এখানে মাকে নিয়ে আসি। এখানে গত ১২ দিনের চিকিৎসায় ধীরে ধীরে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মনিরুজ্জামান জানান, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট রয়েছে এবং তিনি ডায়াবেটিসের রোগী।

বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান সময়ের আলোকে বলেন, সারা দেশেই করোনার সংক্রমণ এখন নিচের দিকে। কোভিড ডেডিকেটেড অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তাই এখন আর শয্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশে সংক্রমণ কমলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]