ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

টাইম ম্যাগাজিনে বারাদার
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 67

তালেবানের কাবুল দখল কিংবা তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সময় ওই সশস্ত্র সংগঠনের যে নেতাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে, তিনি মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তালেবানের এ সহপ্রতিষ্ঠাতা জায়গা পেয়েছেন ২০২১ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায়। এদিকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে তালেবানের অন্য অংশের সঙ্গে বিবাদে নিজের আহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন তিনি।

প্রভাবশালী তালিকায় স্থান পাওয়া ১০০ ব্যক্তির প্রোফাইল প্রকাশ করেছে টাইম। সেখানে বারাদারের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। এ ছাড়া তালেবানের প্রভাবশালী সামরিক নেতাও তিনি। পাকিস্তানি সাংবাদিক আহমেদ রশিদ টাইমের জন্য বারাদারের এ পরিচিতিমূলক লেখা লেখেন।

বারাদারকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিন যা বলছে
টাইম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের সমঝোতায় মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বারাদার। আর এ সমঝোতার ওপর ভিত্তি করেই আফগানিস্তানের ক্ষমতার মসনদ দখল করতে পেরেছে তালেবান। বলা হয়ে থাকে, তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন বারাদার। আফগানিস্তানের সাবেক সরকারি কর্মীদের জন্য যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে, সে সিদ্ধান্তও তিনি নেন। কাবুলে তালেবানের প্রবেশের সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ ও সফরেও তিনি ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়।

টাইমে বারাদারের প্রোফাইলে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যারা কাজ করবেন, তাদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে। তবে একটি প্রশ্ন তাকে নিয়ে থাকছে, তা হলো আফগানিস্তান থেকে মার্কিনিদের বিদায়ে যিনি কাজ করেছেন, তিনি তালেবানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারবেন কি না।

তালেবান যাত্রার শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বারাদার। প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ভগ্নিপতি তিনি। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, উরুজগান প্রদেশে ১৯৬৮ সালে বারাদারের জন্ম। তিনি বেড়ে উঠেছেন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারে। আশির দশকে অন্যান্য তালেবান নেতার মতো তিনিও মুজাহিদিনে যোগ দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা ফিরে গেলে তিনি কান্দাহারে ফিরে যান এবং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তালেবান প্রতিষ্ঠায় মোল্লা ওমরকে সাহায্য করেন তিনি।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন সেই সরকারে উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন বারাদার। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালালে দেশ ছেড়ে পালান তিনি। এরপর ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বারাদার।

ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসে তালেবানের অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর অস্বীকার
এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে তালেবানের অন্য অংশের সঙ্গে বিবাদে নিজের আহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন বারাদার। তালেবানের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা বেশ কয়েকদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বারাদারের সঙ্গে প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্কের অনুগতদের মধ্যে বিবাদ হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল বিবিসি। তার আগে গুজব উঠেছিল, অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষে বারাদারের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে বারাদার তালেবানের ভেতর অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন।

‘না, এটা সত্য নয়। আমি ঠিক আছি, সুস্থ আছি। আমি কাবুলের বাইরে ছিলাম, ভুয়া খবর অস্বীকার করতে ইন্টারনেটে ঢোকারও উপায় ছিল না,’ আহত হয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন নতুন প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত এ উপপ্রধানমন্ত্রী।

দোহায় অবস্থিত তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় বারাদারের সাক্ষাৎকারের ছোট এই ভিডিও ক্লিপটি টুইটারে প্রকাশ করে। ভিডিওতে তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতাকে সোফায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হয়ে যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তার পাশে বসে থাকতে এবং কাগজ থেকে কিছু পড়তে দেখা গেছে।

‘আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো, আমরা একে অন্যকে শ্রদ্ধা করি। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক পরিবারের চেয়েও ভালো,’ অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর অস্বীকার করে বলেন বারাদার।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]