ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

এ কেমন বৃক্ষরোপণ!
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 139

করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ও খেলাধুলায় মুখরিত হয়ে উঠেছে স্কুল-কলেজের মাঠ। কিন্তু গোপালগঞ্জের এক স্কুলের খেলার মাঠে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে সারি সারি গাছ। আবার গাছ রক্ষায় মাঠটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে বেড়া! ঘটনা জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের। এতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মাঠ দখলের প্রতিবাদে ও দখলমুক্ত করার দাবিতে স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেছে।

জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে স্কুলটি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সুনাম ধরে রেখেছে। বর্তমানে স্কুলে প্রায় সাড়ে ৮শ শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বাড়ৈ বলেন, তৃতীয় দফা স্কুলের মাঠ বালু ভরাট করে উঁচু করার সময় স্থানীয় গোপালপুর গ্রামের উপেন্দ্রনাথ টিকাদার মাঠের জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি তুলে বাধা দেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বালু ভরাট কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার দিন দেখা যায়, কে বা কারা স্কুলের মাঠে অস্থায়ীভাবে বেড়া দিয়ে মেহগনি ও কলাগাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে দিয়েছে।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপেন্দ্রনাথ টিকাদার রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে স্কুলের মাঠ ভরে গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। এ মাঠে বিভিন্ন সময় ফুটবলসহ গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের মাঠ স্কুলের নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি। স্কুল থেকে নিয়মিত এই জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়। মাঠ দখল করে গাছ লাগানোয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মিষ্টি বাইন বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস ঘরবন্দি ছিলাম। প্রথম দিন স্কুলে এসে দেখলাম মাঠ দখল হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম অনেকদিন পর স্কুলে এসে বন্ধবীদের সঙ্গে মাঠে ঘুরব আর খেলাধুলা করব। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযুক্ত উপেন্দ্রনাথ টিকাদার বলেছেন, মাঠটি আমার বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি। স্কুলের নামে কীভাবে রেকর্ড হলো তা আমার জানা নেই। আমি মামলা করেছি কিন্তু আমার পক্ষে রায় আসেনি। আগে যখন বালু ভরাট করেছে তখন আমার পক্ষে লোকজন ছিল না তাই বাধা দিতে পারিনি। এখনও আমার পেছনে লোকজন আছে তাই আমি বাধা দিয়েছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছিল বিষয়টি সমাধান করে দেবে কিন্তু বালু ভরাট করা হলেও কোনো সমাধান না দেওয়ায় আমি বেড়া দিয়ে গাছ লাগিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুষেন সেন বলেছেন, দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে এই মাঠটি স্কুল ব্যবহার করছে। এত দিন কেউ বলেনি এটি তাদের। বিষয়টি বসে সমাধানের চেষ্টা করব।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজালাল বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাদের জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে বলেছি। আশা করি বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম হেদায়েতুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিষয়টি তদন্তের জন্য সরেজমিন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমির দাবিদারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]