ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রুয়েটে কেটে ফেলা হচ্ছে ৫০ প্রাচীন বৃক্ষ
শ.ম সাজু, রাজশাহী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:০৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 118

নতুন প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য কেটে ফেলা হচ্ছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ৫০টি প্রাচীন গাছ। ইতোমধ্যে ১৫টি গাছ কেটেও ফেলা হয়েছে। উন্নয়নের নামে গাছ কেটে রাজশাহীর পরিবেশকে বিপন্ন করে তোলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়কে ‘পরিবেশ বিধ্বংসী উন্নয়ন চাই না’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পালিত হয়। সে সময় বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে বিভিন্ন সরকারি দফতর উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার অশুভ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পুরনো গাছ এভাবে কেটে ফেললে রাজশাহীর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুয়েট কর্তৃপক্ষ যে ৫০টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগ অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরনো। বন বিভাগকে না জানিয়ে এরই মধ্যে ১৫টি গাছ কেটেও ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ১৫টি কৃষ্ণচূড়া ও মিনজিরি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকরা গাছের গুঁড়ি রিকশা-ভ্যানে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। আরও যেসব গাছ কাটার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে আম, লিচু, মেহগনি, করই ও কৃষ্ণচূড়া। স্থানীয়রা জানান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর গাছগুলো রুয়েট ক্যাম্পাসে লাগানো হয়েছিল।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহমেদ নিয়ামুর রহমান বলেন, ‘সরকারি গাছ কাটার জন্য কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন নেওয়া উচিত এবং বন বিভাগের উচিত গাছের দাম মূল্যায়ন করা। রুয়েট কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে কোনো কিছুই অবহিত করেনি।’

রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘আশির দশক থেকে ক্যাম্পাসে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি। সম্প্রতি সরকার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার আওতায় আছে ১০টি ১০ তলা ভবন নির্মাণ। এজন্য মোট ৫০টি গাছ কাটা হবে।’ রেজিস্ট্রার আরও বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর এবং রুয়েটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তদারক করছেন।’ যোগাযোগ করা হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমিত রায় চৌধুরী এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক জগলুল সাদাত জানান, তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দিতে পারবেন না। তবে রুয়েটের সিনিয়র সহকারী নিরাপত্তা পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘যথাযথ ক্রয়বিধি মেনে রুয়েটের কর্মচারী গোলাম মোস্তফার কাছে ১৫টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে।’ গাছের ক্রেতা গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি গাছ কাটার জন্য শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন।

স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, কাটা গাছের প্রতিটির দাম হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে ১৫টি গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে, রুয়েট কর্তৃপক্ষ সেগুলো মাত্র এক লাখ ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেন জানান, এক বছর ধরে ক্যাম্পাসে প্রায় এক হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর ফলে যে ৫০টি গাছ কাটা হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষতি পূরণ হয়ে যাবে। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নতুন গাছ লাগালে পুরনো গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ সম্ভব হয় না।’

গাছ কাটার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে রুয়েটের প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে পরিবেশ আন্দোলন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব টুংকু জানান, ‘আমরা লক্ষ্য করছি রাজশাহীতে বিভিন্ন সরকারি দফতর উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার অশুভ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত গাছগুলো বাঁচিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]