ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শ্রীহীন সৈয়দপুরের ‘সাহেবপাড়া’
মো. নজরুল ইসলাম, সৈয়দপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:১৯ এএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২১ ৭:২১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 321

চারদিক সীমানা প্রাচীরে ঘেরা বাগান। তাতে নানা ধরনের ফুল-ফলে ভরা অপরূপ সৌন্দর্য্যরে সমাহার। তার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রোমান স্থাপত্যের আদলে নির্মিত দ্বিতল বিশাল ভবন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও অবৈধ দখলে সেই শ্রী হারিয়ে সাহেবপাড়া পরিণত হয়েছে বিশাল এক বস্তিতে।

সূত্র মতে, ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ-ভারতের সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে কারখানা। এটি প্রতিষ্ঠার আগেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয় আবাসিক এলাকা বা রেলওয়ে কলোনি। এগুলোর নামকরণও করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদমর্যাদা অনুসারে। যেমনÑউচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকার নাম অফিসার্স কলোনি। সাব-অর্ডিনেট (মধ্যম স্তর) কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকার নাম সাহেবপাড়া। আর পদমর্যাদার শ্রেণিভেদে বাবুপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, খালাশী মহল্লা এবং সুইপারদের আবাসিক এলাকাগুলোর নাম সুইপার কলোনি।

সৈয়দপুরে সাহেবপাড়ার সাব-বাংলোগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কারখানাসহ অন্যান্য বিভাগে কর্মরত ইউরোপিয়ান ও অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সাব-অর্ডিনেট (মধ্যম স্তরের) কর্মকর্তাদের। আর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল অফিসার কলোনির সুবিশাল বাংলো।

অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারী আফাজউদ্দিন বলেন, প্রবীণদের কাছে শুনেছি, ’৪৭-এর দেশ ভাগের পর ইউরোপিয়ানরা (সাহেবরা) সৈয়দপুর ছেড়ে নিজেদের দেশে ফিড়ে যায়। তবে সাহেবপাড়া নামটি রয়ে যায়।

স্বাধীনতার পর আশির দশক থেকে সাহেবপাড়ার বাংলোগুলোর দিকে নজর পড়ে লোহাচোরদের। এ সময় বাগানের ফেনসিংয়ের লোহার খুঁটি ও লোহার পাতগুলো রাতের আঁধারে চুরি করে নিয়ে যায় একাধিক লোহাচোর চক্র।

সরেজমিন দেখা যায়, সাহেবপাড়ার টি-২১ নং বাংলো সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অংশ বহু আগেই বেদখল হয়েছে। এর সীমানার ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল, বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এ অবৈধ দখলের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, বাংলোটির ফাঁকা জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়েছেন তৎকালীন রেলওয়ের এক শ্রমিক নেতা। এ ছাড়াও ওই শ্রমিক নেতা একই এলাকার এস-৩৩ নং সাব বাংলোর সামনের বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে গড়ে তুলেছেন বিশাল মার্কেট, রেস্তোরাঁ। এ ছাড়াও প্লট আকারে ২৫টি দোকান বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা।

এলাকার একাধিক সূত্র জানান, ওই শ্রমিক নেতার নিজস্ব দাপট ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পূর্ত বিভাগকে ম্যানেজ করে তিনি এ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। একইভাবে টি-৩৭, এলআর-৩০, এল-২৪, এল-১২৪, এল-১৮৬, এল-২৮-সহ প্রায় সব বাংলোর সীমানার ভেতরের পুরো অংশ চলে গেছে অবৈধ দখলে। আর এই দখলদারদের একটি বড় অংশই হলেন রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মচারীরা। কোয়ার্টার ও সাব-বাংলো বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট কর্মচারী (ব্যারাক মাস্টার) মো. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।

তবে রেলওয়ের বাসা-বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জনান, এক শ্রেণির রেলওয়ে কর্মচারীর অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য উপর মহলে জানিয়েছি। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]