ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পাইপলাইন জটে ৪ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা
এম আর মাসফি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:১৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 105

সক্ষমতার অভাবে খরচ করতে না পারায় দেশে ক্রমেই বাড়ছে পুঞ্জীভূত বিদেশি সহায়তার অর্থ। খরচ করতে না পারায় দাতারাও প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করছে না। এ ক্ষেত্রেও ততটা উদ্যোগ না নেওয়া বা গুরুত্বারোপ না করায় পাইপলাইনেই আটকে থাকছে দাতাদের প্রতিশ্রুতি। ফলে সরকার প্রতি অর্থবছরে যে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে থাকে তাতেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পাইপলাইন জট কমাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 


অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে পাইপলাইনে আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। বিদেশি অর্থায়নের আটকে থাকা এই অর্থ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেটের প্রায় ৭২ শতাংশ। 

বৈদেশিক অর্থ ব্যয় করতে না পারার বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, পাইপলাইন জমার প্রধান কারণগুলো হচ্ছে দাতাদের আমলাতান্ত্রিকতা, বৈদেশিক ঋণের অর্থ খরচে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ধাপে ধাপে ব্যাপক তদারকি, প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতা এবং সক্ষমতার অভাব ইত্যাদি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। গত ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত বৈদেশিক অর্থায়নের পাইপলাইনের আকার ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন করে আটকা পড়েছে আরও ২২৪ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে গত জুন মাস পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ১০৬ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতির মধ্যেই রয়ে গেছে বলে ইআরডির সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতি অর্থবছর বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির এই হিসাব করে আসছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ঋণ ও অনুদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেখান থেকে এই বিপুল অর্থ আটকে রয়েছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের জন্য জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঋণ চুক্তি করে। চুক্তির পর থেকেই তা প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিপুল এই অর্থ ছাড় না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে যেসব প্রকল্পের বিপরীতে বিভিন্ন দেশ ও সহযোগীদের অর্থায়ন করার কথা সেগুলো নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে না পারা। গত কয়েক বছর ধরে সহযোগীদের সঙ্গে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার করে ঋণ বা অনুদানের চুক্তি করেছে সরকার। অথচ ছাড় করতে পেরেছে এর অর্ধেক বা তার একটু বেশি। দাতাদের প্রতিশ্রুত বড় একটি অংশই খরচ হচ্ছে না বলে জানান তারা।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার প্রায় ৯৩৫ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করে। কিন্তু একই সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ছাড় করতে পেরেছে ৭১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরেও প্রায় ২২৫ কোটি ডলার পাইপলাইনে যুক্ত হয়েছে। একইভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে বিপরীতে ছাড় হয় ৭২৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ ওই অর্থবছরেও ২২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাইপলাইনে যুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেগুলোই পাইপলাইনে থাকে। এগুলো তো বেশি হবেই। প্রতিশ্রুতির পরই প্রকল্প অনুমোদন হয়। এরপর ব্যয় শুরু হয়। অনেক সময় প্রতিশ্রুতির পর সেটি অনুমোদনে দেরি হয়। আবার প্রকল্প অনুমোদনের পরে বিভিন্ন কারণে কিছু অংশ বাস্তবায়ন হয় না। অনেক সময় কেনাকাটার দরপত্রে দেরি হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিকভাবে না করে প্রকল্প নিলেও দেরি হয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা আবাসিক কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, পাইপলাইন কমাতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে হবে। এর আগে দরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রতিবছর এডিপিতে যে পরিমাণ নতুন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে সে পরিমাণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে এডিপির আকার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন না করতে পারলে পাইপলাইন কমবে না। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে চিহ্নিত বড় বাধাগুলো দূর করতে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত করা, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি বন্ধ করাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে পারলে বাস্তবায়ন বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বৈদেশিক সহায়তার এই অর্থগুলো মূলত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার হয়। গত কয়েক বছরে যে হারে প্রকল্পে বেড়েছে, সে হারে বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়েনি। তাই শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, পাশাপাশি সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে গতি বাড়লে পাইপলাইনে অর্থ আটকে থাকবে না।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]