ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আড়াই ডলারের প্রতিকেজি সুতা এখন সাড়ে ৪ ডলার
সুতার দাম বৃদ্ধিতে নতুন সঙ্কটে পোশাক খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:২৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 119

করোনার ধাক্কা সামলে যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প, ঠিক তখনই নতুন করে সঙ্কট দেখা দিয়েছে সুতার অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে। কয়েক মাস আগেও যেখানে তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরণ সুতার কেজি ২ দশমিক ৫০ ডলার ছিল, সেটি এখন ৪ দশমিক ২৫ ডলার থেকে সাড়ে ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গার্মেন্টস খাতের উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দশ মাসে তুলার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এ তুলা থেকে সুতা উৎপাদন করে দেশের স্পিনিং মিলগুলো, যার দাম গত ৯ মাসে বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত দশ মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা তুলা ও দেশের মিলগুলোয় উৎপাদিত সুতার দামের গতি-প্রকৃতি জানিয়ে বিটিএমএ বলছে, সুতার মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও সুতার পার্শিয়াল শিপমেন্ট অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ চেষ্টাকে অপচেষ্টা উল্লেখ করে গত মাসে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিটিএমএ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কতিপয় সংগঠন স্থানীয় সুতার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজার অপেক্ষা ৫০-৬০ শতাংশ বেশিÑ এ তথ্য উত্থাপনের মাধ্যমে বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দর দিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল তথা সুতা, বস্ত্র পণ্য আমদানি, সুতার আংশিক শিপমেন্টসহ এ সংক্রান্ত কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রস্তাব পেশ করেছে।

সুতা ও তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, করোনার ধাক্কা সামলে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পোশাক শিল্প তখনই বাধার সৃষ্টি করছে তুলা ও সুতার অত্যধিক দাম বৃদ্ধি। কয়েক মাস আগেও ৩০ কাউন্টের প্রতিকেজি সুতার মূল্য ছিল ২ দশমিক ৫০ ডলার, সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২৫ ডলার। সমস্যা হচ্ছে সুতার অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি হলেও ক্রেতারা কিন্তু পোশাকের ক্রয়মূল্য সেভাবে বাড়ায়নি। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক প্রতি মাত্র ১০-১৫ সেন্ট দাম বাড়াচ্ছে, যা দিয়ে উৎপাদন করে পোষাবে না। এজন্য অনেক উদ্যোক্তা অর্ডার ছেড়ে দিচ্ছে। সুতরাং করোনা-পরবর্তী পোশাক শিল্প প্রকৃত সুবিধা পেতে হলে একদিকে সুতার দাম কমাতে হবে, অন্যদিকে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে তাদের ক্রয়মূল্য বাড়াতে হবে।

জানা যায়, গত ৯-১০ মাস ধরে সুতার দাম বাড়তি। মাঝে এপ্রিল-মে মাসে বাজার ছিল অস্থির- প্রায় প্রতিদিনই সুতার দাম বাড়ছিল। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি না থাকলেও দাম বেশি। পোশাকের কাপড় তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত ৩০ কাউন্টের প্রতিকেজি সুতা ৪ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে ৪ ডলার ৪০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। গত নভেম্বরে দাম ছিল ৩ ডলারের কম। তবে হঠাৎ সুতার বাড়তি দাম নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের মালিকেরা।

পোশাক শিল্পের মালিকদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্পিনিং মিলগুলো অন্যায্যভাবে সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সেজন্য কারখানাগুলো পোশাকের ক্রয়াদেশ নিতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে বস্ত্রকল মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বাড়তি। করোনার কারণে কন্টেইনার ভাড়াও ৪-৫ গুণ বেড়েছে। তা ছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এককভাবে সুতার দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই।

কয়েকজন বস্ত্রকল মালিক জানান, বর্তমানে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম কমপক্ষে ১ ডলার ৭ সেন্ট। কেজি দাঁড়ায় ২ ডলার ১৭ সেন্ট। তার সঙ্গে জাহাজ ভাড়া ও অপচয় যোগ হবে। তাতে প্রতিকেজি সুতা উৎপাদনে ৩ ডলারের তুলা লাগছে। তার সঙ্গে গ্যাস, শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও মুনাফা যোগ হয়ে সুতার দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]