ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গার্মেন্টস পণ্য চুরির অর্থে স্ত্রী সন্তানকে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 99

মো. সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদ। তিনি গার্মেন্টস পণ্য চোর চক্রের মূল হোতা। বিভিন্ন গার্মেন্টেসের আমদানি হতে যাওয়া পণ্য চুরি করে বিক্রিই তার নেশা। আর এই কাজ করেই কোটিপতি বনে গেছেন এই সাঈদ। চুরির টাকায় নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুধু কি তাই, তার রয়েছে অসংখ্য বাড়ি, গাড়ি। রয়েছে শত শত ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান। মৌলভীবাজারে রয়েছে তার বিশাল অট্টালিকা। এর সবই তিনি গড়েছেন গার্মেন্টস পণ্য চুরির অর্থে। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাঈদ এই চুরির কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তার পরিকল্পনা ও যোগসাজশে নিজস্ব যানবাহনে চার থেকে পাঁচ হাজার চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময় ধরা পড়লে তার নামে ২৪টি মামলা হয়। 

গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্রের মূল হোতা এই সাঈদ সম্প্রতি আট মাস কারাভোগও করেন। বেরিয়ে এসেই আবার যুক্ত হন চোরাই পেশায়। কিন্তু এবার শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ এই চোর চক্রের সাঈদসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। 
ডিবি জানায়, সাঈদের বিভিন্ন সময়ে চুরির ঘটনাগুলো এতটা প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামের গার্মেন্টসের ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাকের মধ্যে অর্ধেকের বেশি পোশাক চুরি হয়। এরপর এই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পর চুরির ঘটনা তদন্ত করতে এই চক্রের সন্ধান মেলে। 

গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৭০৫ পিস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে ডিবি। সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রটি। গত ১১ মে জয়ন্তি নিট ওয়্যার লিমিটেড তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০ পিস পণ্য শিপমেন্ট করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌঁছার পর তাদের জানানো হয়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম ছিল। এজন্য বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা করে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। এ ঘটনার ১৭ সেপ্টেম্বর মামলা হলে ইমরান মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করলে তাদের স্বীকারোক্তিতে বাকিদের নাম জানা যায়। এ ছাড়াও গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক একটি গার্মেন্টস তাদের রফতানি শিপমেন্টে ৫ হাজার পোশাক কম যাওয়ার অভিযোগ তুলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করে। এ ঘটনায় উত্তরা থেকে রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেফতার করা হয়। 

তাদের দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার নিমসার এলাকা থেকে চোরাই গার্মেন্টস মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আল-আমিন ও দুলালকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে পুরো চক্রের মূল হোতা মো. সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়।

এ চক্রের মূল হোতা সাঈদের ব্যাপারে হাফিজ বলেন, সাঈদের বিরুদ্ধে ২৪ মামলা রয়েছে। তার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির টাকায় সাঈদ বাড়ি গাড়ি করেছেন। স্ত্রী সন্তানকে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি মূলত তার ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানে পণ্য পরিবহনের নামে সেগুলো এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের মাধ্যমে এই চোরাই সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ ঘটনায় সাঈদের সঙ্গে আরও অনেকের নাম এসেছে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]