ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনার ঝুঁকি কমল
সাড়ে ৬ মাস পর শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১:৪৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 109

দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার কমছে। সাড়ে ৬ মাস পর রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শনাক্তের হার এর চেয়ে কম ছিল গত ৭ মার্চ, ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ১ হাজার ৫৬২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মাঝারি থেকে স্বল্পঝুঁকিতে  নেমে এলো বাংলাদেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো এলাকায় করোনা সংক্রমণ হার ১০ শতাংশের বেশি হলে সেটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’, ৫-১০ শতাংশের মধ্যে হলে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৫ শতাংশের নিচে হলে ‘স্বল্পঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী, টানা দুসপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়। এ হিসাবে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এমনটি বলা যাচ্ছে না। তবে দেশে করোনা সংক্রমণের গতি ও মৃত্যু অনেকটা ধীর হয়ে এসেছে। টানা ১৭ মাস পর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু কমার এ প্রবণতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এর আগেও করোনার সংক্রমণ কমে গিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের ভুলে টানা সাড়ে ৫ মাস করোনার ভয়াবহকাল পার করে বাংলাদেশ। অক্টোবরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশেই করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার না হয়, জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে তাদের মত।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। মহামারি শুরুর পর থেকে সব মিলিয়ে দেশে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ২৭৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভারতীয় (ডেল্টা) ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপে চলতি বছরের জুনের প্রথমার্ধ থেকেই করোনা শনাক্তের পরিমাণ ব্যাপকহারে বাড়তে শুরু করে। তবে টানা লকডাউনের প্রভাবে বর্তমানে সংক্রমণ কমতে শুরু করে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে ১ হাজার ৬০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে দেশে করোনাজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তিনজন মারা গেছে। খুলনা বিভাগে ২, সিলেট বিভাগে ২ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছে। এ ছাড়া রংপুর ও বরিশাল বিভাগে একজনও মারা যায়নি।

ঢাকা বিভাগেই নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২ জন। বিভাগওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট রোগীর ৬৬ শতাংশের বেশি ঢাকা বিভাগের। ঢাকার পর চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ২০৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৩৭, রাজশাহীতে ৬২, খুলনায় ৯২, রংপুরে ৫০, বরিশালে ৩১ ও সিলেটে ৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৬ ও নারী ১০ জন। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীদের প্রায় দ্বিগুণ।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সময়ের আলোকে বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার না হয় এজন্য জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা, ভিড় এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা, সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়গুলোকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সময় ও সুযোগমতো করোনার ভ্যাকসিন নিতে হবে। অধ্যাপক কামরুল বলেন, সংক্রমণের হার কমলেও এখনও প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দ্রুত করোনা ছড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, অক্টোবরে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশেই করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক ডা. এএসএম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, করোনার সংক্রমণ ৫-এর নিচে নামলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। যেকোনো সময় এ ভাইরাস আচরণ পরিবর্তন করতে পারে। তিনি বলেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু কমার এই প্রবণতা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। টিকা নিতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে রিসোর্ট, সমুদ্রসৈকত, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টে ভিড় করে খাওয়া যাবে না। সেখানে বসে খেতে মাস্ক খুলতে হয়। ইনডোর যেকোনো অনুষ্ঠান কমাতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]