ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

রাপা প্লাজায় স্বর্ণ লুট, ডাকাত আনোয়ার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:০২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 52

রাজধানীর রাপা প্লাজার তিনটি দোকান থেকে ৫০০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনার কূলকিনারা মিলেছে। এই মার্কেটে ডাকাতিতে দাপিয়ে বেড়ানো ডাকাত আনোয়ার গ্রুপের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দাপিয়ে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই ডাকাতি করে। আবারও গা-ঢাকা দেয়। ঢাকাকে কেন্দ্র করেই তাদের ডাকাতির নেটওয়ার্ক। প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য নিয়ে গড়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট। তারা ডাকাতির জন্য জেলার বিভিন্ন নামিদামি মার্কেট, ধনী ব্যক্তির বাড়ি ও সোনার দোকানগুলোকে টার্গেট করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিআইডির সূত্র জানায়, সম্প্রতি মানিকগঞ্জের একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এসেছে। চক্রটির নেটওয়ার্ক ঢাকা বিভাগজুড়ে। চলতি বছর এ ডাকাত চক্রের সদস্যরা মানিকগঞ্জ ছাড়াও ঢাকার রাপা প্লাজা, নরসিংদী, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। এই চক্রের বিরুদ্ধে দেশের ১২টি জেলায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তেও তাদের সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে।

এ ছাড়া সিআইডি জানিয়েছে, এই ডাকাত দলের আবার দুটি ভাগ রয়েছে। একটিকে নিয়ন্ত্রণ করে জলপথের আতঙ্ক আনোয়ার, অন্যটিকে স্থলের সোহরাব। দুই দলে শতাধিক সদস্য রয়েছে, যাদের বেশিরভাগের বাড়ি ঢাকার দোহার, ডেমরা, শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরে। তাদের বিভিন্ন জন বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী। এই ডাকাত দলের মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষিত তালা কাটা ব্যক্তি, গাড়িচালক, স্বর্ণ ক্রয়কারী, আগাম তথ্য দেওয়া ব্যক্তি, টাকা ও স্বর্ণ রাখার ভল্ট ভাঙা পারদর্শী ব্যক্তি। এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী একটি গ্রুপ। তবে তারা এক জেলায় বারবার ডাকাতি করে না।

এ চক্রটি রাজধানী ছাড়াও দেশের ৫টি জেলায় অর্ধশতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে এবং আরও কিছু শহরে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ারা জানিয়েছে। গ্রুপের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।     

সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রটি ঢাকায় ডাকাতি করতে তেমন সাহস করে না কারণ হচ্ছে, রাজধানীতে যানজট, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি ও পালানোর পথ তেমন নেই। ফলে তারা রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোকেই বেশি বেছে নিচ্ছে। যেসব মার্কেট থেকে ডাকাতি করে দ্রুত পালানো যাবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন শক্ত নয়। তারা সেসব জায়গাকে এই ডাকাতির জন্য বিভিন্ন টিমকে বিভিন্নভাবে কাজে লাগায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, সম্প্রতি আনোয়ার ডাকাতের বাসায় অভিযান চালিয়ে বাসা থেকে ডাকাতির আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় আনোয়ারের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তারা জবানবন্দিতে এই দুই চক্রের শতাধিক সদস্যদের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছে। এখন অন্যদের ধরতে মাঠে নেমেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

কয়েক মাস আগে রাজধানীর রাপা প্লাজার কয়েকটি দোকানে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্যরা মার্কেটে ঢুকে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তবে এই তালা খোলার চাবি তারা কোথায় পেল সেই সময়ে ডাকাতির পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্তে সেই তালা-চাবি বানানো এমন ব্যক্তিও রয়েছে। সম্প্রতি এই ডাকাত দলের অর্ধশতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তারাই এমন তথ্য দিয়েছে।
 
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সময়ের আলোকে জানান, রাপা প্লাজায় স্বর্ণ ডাকাতিতে আনোয়ার ডাকাত দলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ডাকাত দলের সদস্যরা সিআইডিকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তারা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]