ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

উঁচু ভবনের দামি অফিসে চুরিই তাদের পেশা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 71

জামাল উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন। একটি পেশাদার চুরি চক্রের সদস্য। চুরির টাকায় গ্রামের বাড়িতে দালানও গড়েছেন দুজনে। চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল চুরি থেকে দুজনের হাতেখড়ি। এরপর সুউচ্চ ভবনে চুরি করতে চট্টগ্রাম থেকে পারি জমান রাজধানীতে। উঁচু ভবনের নামিদামি অফিসে চুরি করা শুরু করে। চুরির আগে দুই-তিন ধরে ঘটনাস্থলে এসে রেকি করে পালানোসহ সব কৌশল নিশ্চিত করত। সম্প্রতি উত্তরা প্যারাডাইস টাওয়ারে চুরির ঘটনায় এ দুজনসহ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানা যায়।


চক্রের অন্য সদস্যরা হলো- শফিক ভূইয়া ওরফে বাছা, তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার, কাদের কিবরিয়া ওরফে বাবু, মো. শাকিল ও আলামিন। গত সোমবার রাজধানীর ডেমরা ও কুমিল্লা জেলার কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা জোনাল টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হাতুড়ি, একটি রেঞ্জ, তিনটি হ্যাকস’ ব্লেড, একটি প্লায়ার্স, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১১ জুন উত্তরার প্যারাডাইস টাওয়ারের আট তলায় গোল্ডেন টাচ ইমপোর্ট আইএনসি অফিসে চুরির ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার ছায়া তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামালের বিরুদ্ধে ১৪টি চুরির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি চট্টগ্রামে ও ৪টি ঢাকায়। চক্রটিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন সুউচ্চ ভবনে চুরির ৭টি মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। গত ৩-৪ বছর ধরে তারা ঢাকায় বিভিন্ন সুউচ্চ ভবন, অফিস ও টাওয়ারে চুরি করে আসছে।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুউচ্চ টাওয়ারে অবস্থিত বিভিন্ন নামিদামি অফিসে প্রথমে চুরির টার্গেট করে। প্রথমে খোলা থাকা অবস্থায় অফিস ও ভবনে চোর চক্রের অন্যতম সদস্য শফিক ভূইয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তারের মাধ্যমে ২-৩ দিন ধরে রেকি করে চুরির কৌশল রপ্ত করত। এরপর রাত হলে যখন বেশিরভাগ অফিস বন্ধ হয়ে যেত, তখন অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে (যেসব অফিস রাতেও খোলা থাকে) ভেতরে প্রবেশ করত তারা। এরপর অফিসের তালা, সিকিউরিটি লক, ডিজিটাল লক ও অফিস কক্ষের ড্রয়ার ভেঙে চুরি করে সুকৌশলে বের হয়ে যেত। দ্রুত সটকে পড়ার জন্য নগদ টাকা ছাড়া কিছুই চুরি করত না তারা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চুরির টাকায় জামাল তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বিজয়কড়া গ্রামে দালান গড়েছে। অন্য সদস্য জসিমও তার রাজধানীর ডেমরা থানাধীন ডগাইর পূর্বপাড়া নান্টু রোডের আল আকসা মসজিদের সামনে দালান গড়েছে। চক্রটি আদাবর টাওয়ারের চতুর্থ তলার এক্সপার্ট গ্রুপ, কাকরাইলের নাসির উদ্দিন টাওয়ারের দশম তলায় আমিন গ্রুপ, গুলশানের জব্বার টাওয়ারের ১৯ তলায় এসিউর গ্রুপ, বাড্ডার একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় সফট লিংক এবং সপ্তম তলায় এক্সজিবল অফিসে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার কাজী শফিকুল আলম, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আছমা আরা জাহান, উত্তরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার বদরুজ্জামান জিল্লু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]