ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

গার্মেন্টস শিল্পে সবুজ বিপ্লব
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৫৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 173

দেশের রফতানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর বৃহৎ এ খাতটি হোঁচট খেয়েছিল। এ রকম আরও অনেক দুঃসময় পার করেছে শিল্পটি। কিন্তু অনেক খারাপ খবরের ভিড়ে এ শিল্পের জন্য ভালো খবর হচ্ছে- তৈরি পোশাক শিল্পের সবুজ বিপ্লব। রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব টেকসই কারখানা প্রতিষ্ঠায় রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। একে একে গড়ে তোলেন পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি।

বিশ্বে এখন যে ১০টি প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশেই রয়েছে ৭টি। এটি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। নতুন করে আরও ৩টি সবুজ কারখানা হওয়ায় দেশে এখন সবুজ কারখানার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৮টি। নতুন তিনটি সবুজ কারখানা হলো- সাইহাম নিট কম্পোজিট অ্যান্ড সাইহাম স্যুটস লিমিটেড, ফ্লেক্সেন ড্রেস মেকার লিমিটেড এবং ফেবিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এদিকে রানা প্লাজা ধসের পর থেকে গত ৮ বছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্ব বাজারে দেশের ও গার্মেন্টস খাতের যে ইমেজ সঙ্কট হয়েছিল সেটিও পুনরুদ্ধার হয়েছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান সময়ের আলোকে বলেন, গ্রিন ফ্যাক্টরি দেশের গার্মেন্টস শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে বিদেশি ক্রেতারা আকৃষ্ট হবেন। রফতানি বাড়বে। তিনি বলেন, বর্তমানে যারাই ফ্যাক্টরি করছেন, তারা গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকেই কারখানা স্থাপন করছেন। কারণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারখানা না হলে ক্রেতারা অর্ডার দেবেন না। তাই উদ্যোক্তারা ব্যবসার আইনকানুন ও দেশের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা এখন পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলছি।

পৃথিবীর মধ্যে এখন যে ১০টি প্লাটিনাম গ্রিন কারখানা রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশেই রয়েছে ৭টি। তা ছাড়া আরও প্রায় ৫০০টি কারখানা গ্রিন সার্টিফিকেট পাবার অপেক্ষায় রয়েছে। 

সূত্র জানায়, পরিবেশবান্ধব কারখানার বিচারে বিশ্বের শীর্ষ দশটির মধ্যে সেরা ৭টি গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা দশটি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে বাংলাদেশের সাতটি কারখানা স্থান পেয়েছে। সেরা দশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশের সাতটি তৈরি পোশাক কারখানা হচ্ছে- এনভয় টেক্সটাইল, রেমি হোল্ডিংস, প্লামি ফ্যাশনস, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, এসকিউ সেলসিয়াস, জেনেসিস ফ্যাশনস ও জেনেসিস ওয়াশিং, এসকিউ কোলবেন্স ও এসকিউ বিরিকিনা।

দেশের বিভিন্ন জেলায় যেমন- ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, যশোর, পাবনা ও মানিকগঞ্জে এ ধরনের কারখানা তৈরি হচ্ছে। পোশাক খাতের দুর্নাম কাটাতে নানা চেষ্টার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল’ থেকে ধারণা নিয়ে দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরি তৈরি করছেন উদ্যোক্তারা। এখন ওই কাউন্সিলের সার্টিফিকেট নিয়েই নতুন যাত্রা শুরু করেছে দেশের পোশাক খাত।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন। একটি ফ্যাক্টরি করতে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। পাশাপাশি জমিও লাগে ৩ থেকে ১০ বিঘা। উদ্যোক্তারা জানান, এ পর্যন্ত দেশে যেসব কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরির খেতাব জিতে নিয়েছে, তাদের বেশির ভাগ উদ্যোক্তার বিনিয়োগই ৫০০ কোটি থেকে ১১০০ কোটি টাকার মধ্যে ছিল। তাদের মতে, গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এর জন্য উদ্যোক্তাকে উৎপাদনের শুরু থেকে প্লান্ট গুটিয়ে নেওয়া বা ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় শতভাগ আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রাখতে হয়।

সবুজ কারখানায় যা থাকবে : আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যে পরিমাণ জমির ওপর ফ্যাক্টরি হবে তার অর্ধেকটাই ছেড়ে দিতে হবে সবুজায়নের জন্য। সবুজ বাগান থাকবে। ফ্যাক্টরির চারপাশে খোলা জায়গা থাকবে। আর ফ্যাক্টরির ভেতরেও থাকবে খোলা জায়গা। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ থাকবে সুন্দর। এক শ্রমিক থেকে অন্য শ্রমিকের দূরত্বও থাকবে বেশ। এ ছাড়া সব কিছুই অটোমেশনে হবে। মেশিনারিজ হবে অত্যাধুনিক। ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। থাকবে সোলার প্যানেল, এলইডি লাইট। এ ছাড়া পানি রিসাইক্লিং হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]