ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শরীরে সুগার বাড়ার লক্ষণ
জীবন যখন যেমন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 135

রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরে কী ধরনের সমস্যা হয় তা কমবেশি সবাই জানেন। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়াদাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনোভাবে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে।

সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো চেনা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলেই ডায়াবেটিসে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে ঠিক কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শরীর থেকে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য। সে কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এতে শরীরে পানির ঘাটতি হতে থাকে, যার ফলে ঘন ঘন পানির তেষ্টা পায়।

খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা শরীরে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষণ। সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে তা শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম লক্ষণ। পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে এই লক্ষণ প্রকাশ পায়।

শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে দৃষ্টিশক্তির ওপর। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
যখন শরীর থেকে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য কিডনিতে চাপ পড়ে তখন ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। আর তখন কিডনি শরীরের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। এতে শরীরে জলের ঘাটতি হতে থাকে, যার ফলে ঘন ঘন জলতেষ্টা পায়।

ডায়াবেটিস হলে করণীয়
যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। যথাসম্ভব শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখুন। নিয়মিত ডায়াবেটিস চার্ট মেনে চলুন। দিনে চার থেকে পাঁচবার ব্লাড সুগার পরিমাপ করুন। প্রতিদিন একই সময় ঘুমানো, ঘুম থেকে ওঠা, ব্যায়াম অথবা কায়িক পরিশ্রম করুন। রোগীর বয়স, উচ্চতা, বর্তমান ওজন ও প্রাত্যহিক পরিশ্রমের ধরন বুঝে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা তৈরি করুন। এটি মেনে চলা খুব জরুরি। চিকিৎসকের দেওয়া রুটিনের হেরফের হলে অসুখ বেড়ে যেতে পারে।

যেসব শিশুর ওজন বেশি, যাদের বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের ডায়াবেটিস রয়েছে, যাদের মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হয়েছিল, সেই সব শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে তাদের উচিত আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা।  ডায়াবেটিস রোগ ঠেকাতে সবার আগে বাদ দিতে হবে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস। কারণ এগুলো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বাড়িয়ে দেয়। মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, ভারী খাবার স্থূলতার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা মিষ্টি, ফাস্টফুড, পোলাও, বিরিয়ানি, রেড মিটের মতো ভারী খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্যকর তেল, বাদাম খাওয়াও ভালো। ওমেগা থ্রি তেল আছে যেসব মাছে সেগুলো বেশি খেতে হবে। যেমন সারডিন, স্যামন এবং ম্যাকেরেল।

তথ্যসূত্র : দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]