ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ঝুঁকিতে মোটরসাইকেলের যাত্রী-চালকরা
শিহাবুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:২২ এএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২১ ৩:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 73

মূল রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে মোটরসাইকেল আর মোটরসাইকেল। চোখে চোখ পড়তেই প্রশ্ন করে, যাবেন নাকি? চার চোখ এক না হতেই যাত্রী ধরার জন্য যেন ওঁৎ পেতে বসে থাকে। তবে এই প্রযুক্তির যুগে শহরের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে জনপ্রিয়তা এখন মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এ কথা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না, একদিকে যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা, তেমনি অন্যদিকে ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথমে অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেল ‘পাঠাও’ শুরু হয়। কিন্তু দিনে দিনে এই অ্যাপ যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। এখন অ্যাপের পরিবর্তে চুক্তিতে ভাড়া নির্ধারিত হচ্ছে। যাত্রীও তার চাহিদার জন্য এই চুক্তি মেনে নিচ্ছে।

পাঠাও, উবার, সহজ, ও-ভাই, ও-বোনসহ আরও বেশ কয়েকটি মোবাইলভিত্তিক অ্যাপ রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে রাইড শেয়ার করা হয়। এ ছাড়া পার্সেল সার্ভিসও চালু রয়েছে এসব অ্যাপের মাধ্যমে। দৃশ্যপট ধরেই বলা যায়। বিকাল তখন সোয়া ৫টা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়। অফিস ফেরত মানুষেরা বাসায় ফিরতে শুরু করেছেন। মোড়ের চারদিকে দাঁড়ানো অনেকগুলো মোটরসাইকেল। প্রায় সবাই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন। রিকশাচালকদের মতো যাত্রীর খোঁজে ডাকা বা ইশারা-ইঙ্গিত। চলছে ভাড়া নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন, দরকষাকষি। চালক বা যাত্রী গন্তব্যে যাবেন চুক্তি হিসেবে। ঠিক সেই সময়েই এই প্রতিবেদক সরেজমিন দেখেন, সহজ ও পাঠাওয়ে কোনো চালক নেই, উবার অ্যাপে পাওয়া গেল মাত্র দুই চালককে। অথচ কারওয়ান বাজার মোড় থেকে ফার্মগেটের দিকে যেতে রাস্তার ওপর অপেক্ষা করছে ১৬টি মোটরসাইকেল। হাতিরঝিলের দিকে যাওয়ার রাস্তায় ইটিভি ও পেট্রোবাংলা ভবনের নিচে ১১টি, বাংলামোটরের দিকে যাওয়ার রাস্তায় প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলের পাশে ৫টিসহ মোট ৩২-৩৫টি মোটরসাইকেল ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র দুজন অ্যাপ খুলে রেখেছিলেন।

আরেক দৃশ্যপট। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার, নিউমার্কেট, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেট, পান্থপথ, বাংলামোটর, মতিঝিল, কাকরাইল, মালিবাগ ও মগবাজার মোড়েও একই চিত্র। পান্থপথ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আনোয়ার হোসেন উবার ও পাঠাও অ্যাপ ব্যবহার করে রাইড শেয়ার করতেন। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ‘অ্যাপ ব্যবহার করা খুবই ঝামেলার। ইন্টারনেট, তেল খরচ, শারীরিকভাবে পরিশ্রম করার পরও ১৫-২৫ শতাংশ টাকা কেটে নেওয়া হতো। একটু এদিক-সেদিক হলেই রেটিং কম দিত। ধরুন আমি এখন পান্থপথ মোড়ে রয়েছি, কিন্তু কল এলো সিটি কলেজের কাছ থেকে। ওই যাত্রী ওখান থেকে আসবেন ফার্মগেট। এখান থেকে ওখানে গিয়ে নিয়ে আসতে সময় ও তেল বেশি খরচ হবে। আবার কল কেটে দিলে অফিস থেকে রেটিং কম দিত। তো ভাবলাম এসব ঝামেলার দরকার নেই। পরে অ্যাপ বাদ দিয়ে সরাসরি যাত্রী নিয়ে যাই।

কারওয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষায় ছিলেন মাহমুদ উদ্দিন। তিনিও আগে অ্যাপ ব্যবহার করতেন, এখন করেন না। তিনি বলেন, অ্যাপে ৮০ টাকা ভাড়া এলে খরচ বাদ দিয়ে আয় থাকে ৬০-৬৫ টাকা। আর অ্যাপ ছাড়া চালালে ১০০-১১০ টাকা পাই এখন। এতে বেশি টাকা পাচ্ছি। আমি কেন অ্যাপ ব্যবহার করব? অ্যাপ ছাড়া তো ঝুঁকি আছেÑ এমন কথার জবাবে তিনি বলেন, তা আছে ঠিক। কিন্তু ভয় করলে তো আর সংসার চলবে না।

বাংলামোটর মোড় থেকে কমলাপুর যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের এক চালকের সঙ্গে কথা বলছিলেন ওবায়দুল ইসলাম। কাজ করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। তিনি বলেন, অ্যাপ চালু হওয়ার পর আমি তা ব্যবহার করতাম। এখনও মোবাইলে রয়েছে, কিন্তু ব্যবহার করতে পারছি না। কারণ আমি প্রায় ৩০-৪০ মিনিট ধরে উবার ও পাঠাওয়ে গাড়ি খুঁজছিলাম। কিন্তু পাচ্ছি না। একজন রিসিভ করলেন হাতিরঝিলের মধ্য থেকে। বললেন আসতে সময় লাগবে। আমি বললাম আসুন আমি অপেক্ষা করব। কিন্তু ফোন রেখে দেওয়ার পরই সে অ্যাপের কল কেটে দিল। এ রকম অনেকবারই আমার সঙ্গে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চুক্তিতে যেতে চাচ্ছি। চুক্তিতে বেশি টাকা দাবি করে, কিন্তু সহজেই পাওয়া যায়।

২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর শাহজাহানপুরের মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারে মো. মিলন নামে এক পাঠাও চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি অ্যাপ ছাড়াই চুক্তিভিত্তিক এক যাত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলেছিলেন। সেই যাত্রীই তাকে হত্যা করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে অ্যাপ ব্যবহার করা হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কারণ সে ক্ষেত্রে চালক ও যাত্রীর অবস্থান ট্র্যাকিং করা হয়। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালালে তা করা সম্ভব হয় না।

চালক ও যাত্রীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ব্যাকডোর প্রা. লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর হাসান জোহা বলেন, আমরা নামমাত্র ডিজিটাল হয়েছি, কাজে না। যারা সেবা দেবেন (চালকরা) তারা ভাবছেন কোম্পানির কমিশনটা বেশি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্লাউড কানেক্টিভিটি, অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স এগুলো তারা কাউন্ট করেন না। তারা দেখছেন ২০০ টাকা ভাড়ার মধ্যে ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে স্টেকহোল্ডারদের। এটা তারা নিতে পারছেন না। এজন্য যাত্রী যখন কল করছেন তখন তারা কেটে দিচ্ছেন বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন না।

তিনি বলেন, অ্যাপ ব্যবহার করলে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে, চুক্তিভিত্তিক কিন্তু পাবে না। এ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে যায় সে ক্ষেত্রে মানুষ সচেতন হবে।

এ বিষয়ে পাঠাও অ্যাপের বিপণন বিভাগের পরিচালক সৈয়দা নাবিলা মাহবুব সময়ের আলোকে বলেন, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি পাঠাও। অ্যাপভিত্তিক এই প্লাটফর্ম সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ করেছি সম্প্রতি রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু চালক ও যাত্রী ‘অফলাইন ট্রিপের’ প্রতি ঝুঁকছেন। অ্যাপবহির্ভূত রাইড সার্ভিসে নানা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় তা বন্ধ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। এ ছাড়া চালক ও যাত্রীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন করতে নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পেইনের আয়োজন করছে পাঠাও।

চুক্তিভিত্তিক যাত্রী পরিবহন অবৈধ জানিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার সময়ের আলোকে বলেন, রাইড শেয়ারিং আমাদের নীতিমালায় চলে। এর বাইরে কেউ যদি ভাড়া টানে (চুক্তিভিত্তিক) তা হলে আমরা অ্যাকশনে যাব। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট আছে, চেকিংয়ে যদি ধরা পড়ে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমদের কাছে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, পাশাপাশি আমরা পুলিশকেও জানিয়েছি।

/এসএ/এমএইচ/


আরও সংবাদ   বিষয়:  রাইড শেয়ারিং  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]