ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

তিতাস নদী দখল করে পাকা ভবন
মীর মো. শাহিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:১৪ এএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২১ ৭:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 63

দখলদারদের থাবা থেকে কোনোভাবেই মুক্তি মিলছে না ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর তিতাস নদীর। দিন দিন দখল হয়ে মরা গাঙে পরিণত হচ্ছে নদীটি। এসবই হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অথচ দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

কালজয়ী কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মভিটা তিতাসপারের গোকর্ণঘাটের ঠিক অপর পাশেই রয়েছে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম। তিতাস নদীর কূল ঘেঁষে জনমানুষের বসবাস দীর্ঘকালের বলেই নদীর সঙ্গে তাদের নিবিড় সখ্য। অনেকে নদীর পাড় ঘেঁষে জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু নদীটিকে রীতিমতো গলা টিপে হত্যা করছেন এক শ্রেণির দখলদার। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বন্দোবস্তের আবেদন করে গড়ে তুলছেন স্থায়ী স্থাপনা।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, রসুলপুর গ্রামের মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবদুল কাদির তিতাস নদীর ১৪ শতক জায়গা দখল করে রেখেছেন। জায়গাটি স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্য ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর নাটঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দরখাস্ত করেন তিনি। তার দরখাস্ত মঞ্জুর না হলেও নদীতীরে প্রায় ৪ শতক জায়গা দখল করে পাকা ভবন বানিয়েছেন। শুধু আবদুল কাদেরই না, গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, একাধিক ব্যক্তিই নদীর জায়গা দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করেছেন। তাদের মধ্যে আবদুল কাদিরের আপন চাচাতো ভাইও রয়েছেন। আর ইলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নদীর দুই শতক জায়গায় তিনতলা ভবন বানিয়েছেন সেই ১০ বছর আগে। 

আবদুল কাদিরের স্ত্রী রিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে থাকেন। আমরা এ জায়গাটি অনেকদিন থেকেই কৃষিজমি হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। আমার স্বামী দুই বছর আগে এখানে বিল্ডিং করেছেন। এ পর্যন্ত কেউ এসে বাধা দেয়নি।’ 

আরেক দখলদার ইয়ালংব মিয়ার ছোট ভাই আরফান আলী বলেন, ‘আমাদের জায়গা অধিগ্রহণ করে তিতাসের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভাই এখানে জায়গা খালি পেয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করেন তিন বছর আগে।’
এ বিষয়ে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি জায়গাটি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত। সেটা হলে এখানে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি নোঙরের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান সংগ্রহ করে লিখিত আবেদন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, এগুলো সামাজিক সংগঠনকেই করতে হবে কেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাহলে করছেনটা কী। নদী সীমানা নির্ধারণ, সীমানা পিলার স্থাপন, দখল উচ্ছেদ নোঙরের দাবি দীর্ঘদিনের। দুঃখজনক হলেও সত্য এ ধরনের কার্যক্রম তিতাস নদীতে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটঘর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নায়েব সালেহ আহমেদ বলেন, আমি এক বছর আগে এখানে বদলি হয়ে এসেছি। এখনও বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে আমি জানি এ জায়গাটি রসুলপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৮৮৫ দাগের ৭ শতক ও ৮৭৩ দাগের ৭ শতক খাস জিম ভিটি দেখিয়ে স্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য আবদুল কাদির দুই বছর আগে দরখাস্ত করেছেন। তার দরখাস্ত এখনও মঞ্জুর হয়নি।

নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোশারফ হোসেন বলেন, নদীর জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়ারই সুযোগ নেই। সেখানে স্থায়ী ইমারত তো একেবারেই না। তারা কীভাবে ইমারত নির্মাণ করেছে বিষয়টি আমি জানি না। ভূমি নায়েবকে সেখানে পাঠিয়ে খবর নিচ্ছি। যদি নদী দখল করে ইমারত নির্মাণের প্রমাণ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো// এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া   নদী দখল  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]