ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দখলমুক্ত হচ্ছে না মেয়র আনিসুল হক সড়ক
শিহাবুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:০০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে তেজতুরী বাজার রেলগেট পর্যন্ত রাস্তা আবারও কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, মিনিট্রাক বা পিকআপ ভ্যানের দখলে চলে গেছে। বারবার উচ্ছেদ করার পরও দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা যায়নি রাস্তাটি। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। তবে ট্রাক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। আর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্রাকস্ট্যান্ড বানানোর জায়গা বরাদ্দ পেলে ট্রাকস্ট্যান্ড বানিয়ে দেওয়া হবে। 

বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, চার লেনের সড়কটির দুই পাশের দুই লেনই অবৈধভাবে দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো গাড়ি মেরামতের কাজও করা হচ্ছে। এতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। তেজতুরী বাজার রেলগেট থেকে সাতরাস্তায় যাওয়ার দিকে অর্থাৎ সড়কের বাম পাশে রাখা হয়েছে ৯১টি গাড়ি, আর ফেরার দিকে অর্থাৎ ডান পাশে রাখা হয়েছে ১৪৯টি। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও মিনিট্রাকসহ পণ্যবাহী গাড়ি। এই সড়কসহ আশপাশের প্রায় সবগুলো ছোট গলিপথও বিভিন্ন ধরনের ট্রাকে ঠাসা। অথচ রাস্তা তো বটেই, এখন যেটা ট্রাকের স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও দখল করা।

মো. খোকন ২০ বছর ধরে রিকশা চালান তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া, বেগুনবাড়ী ও কারওয়ান বাজার এলাকায়। তিনি বলেন, দিনের চেয়ে রাতে আরও চাপিয়ে রাখে। যাওয়া-আসার সমস্যা হয়। কখনও কখনও ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা জ্যামে থাকতে হয়, এই গাড়িগুলো রাখার কারণে এমনটি হয়। অনেকদিন ধরেই এভাবে চলছে। এখন আমরা তো কিছু বলতে পারি না, এভাবেই চালাতে হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক নির্বাচিত হওয়ার পর এই অবৈধ দখল উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। দফায় দফায় ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরও কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি নিজে উচ্ছেদ অভিযানে যোগ দেন। এতে শ্রমিক-মালিকরা তাকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন, হুমকি দেন। শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ট্রাক মালিকরা সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে নেন। পরে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় এক সমাবেশে তেজগাঁও এলাকাকে পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করেন। দখলমুক্ত করে সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আনিসুল হকের মৃত্যুর পর এ সড়কটির নামকরণ করা হয় মেয়র আনিসুল হক সড়ক।

ফারুক আহমেদ সরকারি চাকরি করেন। থাকেন বেগুন বাড়ি। তিনি বলেন, মেয়র আনিসুল হক যখন ট্রাক সরিয়ে দিলেন তখন খুবই ভালো লেগেছিল। কিন্তু এখন আবার দখল করে নেওয়া হয়েছে রাস্তাটি। চর দখলের মতো অবস্থা হয়ে গেছে। পাশ দিয়ে রিস্ক নিয়ে হেঁটে আসতে হয়। হাঁটার রাস্তাও দখল হয়ে আছে। আমার ছেলে বিজ্ঞান কলেজে পড়ে, আর মেয়ে গার্লস স্কুলে পড়ে। এখান দিয়েই ওদের যেতে হয়। আগে বহু কষ্ট করেছি। মধ্যে উচ্ছেদ করার পর কিছুদিন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। কিন্তু এখন আবার আগের মতো হয়ে গেছে। এগুলো সরানো উচিত। এ জন্য পুলিশ দায়ী। রাস্তায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগে অনুতপ্ত নন ট্রাক শ্রমিক ও মালিকরা। 

বরং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারদলীয় একজন মন্ত্রীর ছায়াতলে থেকে তারা নির্দ্বিধায় অবৈধভাবে ট্রাক-পিকআপ পার্কিং করে রাখছেন। একই সঙ্গে ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংশ্লিষ্ট দুটি সংগঠন সম্প্রতি ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়। এরপর তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। ধর্মঘটে ১৫ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এর সঙ্গে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, ট্রাক রাখার সুব্যবস্থা না করা পর্যন্ত রাস্তার ওপরে ট্রাক রাখা হলে যেন পুলিশ মামলা না দেয়। সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব আদায় করে নিয়েছেন মালিক-শ্রমিক নেতারা।

অবৈধ পার্কিং সম্পর্কে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, ‘এখন অবৈধ পার্কিং করলে আইনের যে ধারা আছে সেটা এখন আপাতত প্রয়োগ হবে না। যেহেতু আমাদের পার্কিংয়ের জন্য সরকার সুব্যবস্থা করতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আপাতত পুলিশ অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য কোনো মামলা দেবে না। আমাদের বলা হয়েছে এক পাশে ট্রাক পার্ক করে রাখা যাবে। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে যতদিন জায়গা না দেয় ততদিন রাখা যাবে। কারণ আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি, তো আমরা গাড়ি কোথায় রাখব?’

ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করা ও ইজারা দেওয়ার দায়িত্ব নগরপিতা বা মেয়রের। সে হিসেবে এই ট্রাকস্ট্যান্ড পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এলাকার মধ্যে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা উচ্ছেদ করে এলে, পরদিনই আবার দখল করে ফেলে। আমরাও দুবার দখল উচ্ছেদ করেছি। আমরা ট্রাক টার্মিনাল বানানোর জায়গা চেয়েছি। জায়গা পেলে স্থায়ী সমাধান হবে। না হলে আমরা থাকি দৌড়ের ওপর, ওরাও থাকে দৌড়ের ওপর। এটাই চলছে। রাস্তার দক্ষিণ দিকে টিঅ্যান্ডটির ৫ থেকে সাড়ে ৫ একর জায়গা ফাঁকা রয়েছে। সেটা আমরা বরাদ্দ পেলে, ওখানে বহুতল ট্রাক টার্মিনাল বানানো হবে। আমরা চেষ্টা করছি স্থায়ী টার্মিনাল বানানোর জন্য। তখন আমরা ইজারা দিয়ে দেব, ট্রাক রাখার জন্য।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]