ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

প্রণোদনায় সমৃদ্ধ হবে শিল্প: রফতানি বাড়ছে বাইসাইকেলের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:৪২ এএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২১ ৭:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 87

ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের বাইসাইকেল শিল্প। একসময় পুরোপুরি আমদানিকারকের দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন বাইসাইকেল আমদানিকারক দেশ। বিশ্বের ২৭টি দেশে রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল। শুধু তাই নয়, বাইসাইকেল রফতানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অষ্টম। বছরে ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের বাইসাইকেল রফতানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় সেটি ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জানা গেছে, আগে যেখানে বছরে এ খাতে রফতানি আয় ৮ কোটি ডলারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করত। করোনা মহামারিতে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ৫৮ শতাংশের বেশি হয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ দেশে বাইসাইকেল রফতানিতে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে এখন তৃতীয় অবস্থানে উঠে গেছে।

অন্যদিকে বিশে^র মধ্যে বাইসাইকেল রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। তবে যেভাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে সে হিসাবে এই অবস্থান কয়েক বছরেই পাঁচের মধ্যে চলে আসবে। পরিবেশবান্ধব বাইসাইকেলের বাজার একসময় ছিল আমদানিনির্ভর। বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ সাইকেল বা যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে বাজারজাত করতেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ উপকরণ আমদানি করা হয়, বাকিটা দেশীয়।

রফতানির উদ্দেশে দুই যুগ আগে ১৯৯৬ সালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি বাইসাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠান কিনে নেয় মেঘনা গ্রুপ। বর্তমানে ট্রান্সওয়ার্ল্ড বাইসাইকেল, ইউনিগ্লোরি ও মাহিন সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে তিনটি ইউনিটে সাইকেল উৎপাদন করছে তারা। মেঘনা গ্রুপ ২০০৩ সাল থেকে বাইসাইকেল রফতানি শুরু করে। এই গ্রুপটির তৈরিকৃত বাইসাইকেলের টায়ার ও টিউব যাচ্ছে ১৮ দেশে। আর ২০১৪ সালে দুরন্ত ব্র্যান্ড নিয়ে আসে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের বাইসাইকেল রয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে। বাংলাদেশের তৈরি সাইকেলগুলো ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় জার্মানিতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক ও চতুর্থ অবস্থানে যুক্তরাজ্য। এর পরের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ইতালি ও বুলগেরিয়া। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ কোটি ৮ লাখ ডলারের বাইসাইকেল রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছর রফতানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বাইসাইকেল রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ৫৮ শতাংশের বেশি। এর আগের চার অর্থবছরও ৮ কোটি ডলারের ঘরেই আটকে ছিল রফতানি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাইসাইকেল থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৮ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬.৮৩ শতাংশ। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি আয় ৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এ বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৯৪ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় ছিল ৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি ছিল ১.৭৪ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার।

দেশের রফতানিকারকরা বলছেন, আগামীতে শুধু স্থানীয় নয়, রফতানি বাজারেও বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক থাকায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্রেতারা বর্তমানে কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে সাইকেল কিনতে আগ্রহী। এসব দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত দিক থেকেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার বাজারেও বাংলাদেশের রফতানির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এ খাতের রফতানি বাড়াতে প্রয়োজন সরকারের নীতি-সহায়তা। বিশেষ করে কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন রফতানিকারকরা। পাশাপাশি রফতানির বিপরীতে সহজে নগদ সহায়তা দেওয়ারও দাবি তাদের। যথাযথ সহায়তা পেলে সাইকেল রফতানি থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব বলে রফতানিকারকরা মনে করেন।

বাংলাদেশ বাইসাইকেল মার্চেন্টস অ্যাসেমব্লিং অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমএআইএ) তথ্য অনুযায়ী, বংশালে দুই শতাধিক বাইসাইকেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সারা দেশে সাড়ে ৪ হাজার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর মিলে দেশের প্রায় ৮০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে সাইকেল আনছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই যন্ত্রাংশ এনে দেশে সংযোজন করছে।
 
প্রণোদনায় সমৃদ্ধ হবে শিল্প
এদিকে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে নতুন করে আরও ৪টি পণ্যে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বাইসাইকেল। বাইসাইকেল ও বাইসাইকেলের যন্ত্র রফতানি করলে ৪ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেবে সরকার। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন চারটি পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। পণ্য চারটি হচ্ছে- দেশে উৎপাদিত বাইসাইকেল ও বাইসাইকেলের যন্ত্র, চা, সিমেন্ট শিট এবং এমএস স্টিল দ্রব্য।

এই চারটি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেবে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকার বাইসাইকেল রফতানি করলে সরকার তাকে ৪ টাকা দেবে। গত অর্থবছরের ৩৮টি পণ্যের সঙ্গে নতুন এই চারটি মিলে এখন মোট ৪২টি পণ্য রফতানিতে বিভিন্ন হারে নগদ সহায়তা দেবে সরকার। এ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রণোদনা দেওয়ায় আরও সমৃদ্ধ হবে বাইসাইকেল শিল্প।

এফবিসিসিআই সভাপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]