ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ট্রাঙ্কে তরুণীর লাশ
৬ বছর পর রহস্যের সমাধান, প্রেমিকের হাতেই খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:১৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 76

ছয় বছর আগের কথা। রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসের বাক্সে রাখা ট্রাঙ্কে পাওয়া গিয়েছিল এক তরুণীর লাশ। পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত হিসেবে দাফনের পর থানা পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। ঘটনার ছয় বছর পর জানা গেল, অজ্ঞাত ওই তরুণী তার কথিত প্রেমিকের হাতেই খুন হয়েছিলেন। নিহতের নাম শম্পা বেগম। প্রেমিক রেজাউল করিম স্বপনের সঙ্গে বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের এক পর্যায়ে মনোমালিন্য হলে তাকে হত্যা করা হয়। শম্পার পরিবার জানত সে নিখোঁজ বা পাচারের শিকার হয়েছে; কিন্তু গতকাল জানতে পারল তাকে হত্যা করা হয়েছে। 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শম্পার বাবা। 

পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনা ঘটান প্রেমিক স্বপন। তিনি নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য (পরে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত)। খুনি স্বপনকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ইপিজেড এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। স্বপন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিও দিয়েছে। 

যেভাবে পরিচয় ও সম্পর্ক : পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, ২০১৩ সালে খুলনা তিতুমীর নৌঘাঁটিতে কর্মরত নৌবাহিনী সদস্য রেজাউল করিম স্বপনের সঙ্গে খুলনা শহরের একটি হাসপাতালে খুনের শিকার শম্পা বেগমের পরিচয় হয়। সেই হাসপাতালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন শম্পা। পরিচয়ের সূত্র ধরে এক পর্যায় রেজাউল-শম্পার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শম্পা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রেজাউল বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে আসে। এরপর শম্পাও চট্টগ্রামে চলে যান। পরে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনের টিনশেড বাড়িতে একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এভাবে তারা ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একত্রে বসবাস করে। 

যেখাবে শম্পার লাশ অজ্ঞাত বানানো হয় : তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালের ২ মার্চ গভীর রাতে স্বপন শম্পাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ^াসরোধে হত্যা করে। পরদিন ৩ মার্চ সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে টিকেট কেটে স্বপন একটি ট্রাঙ্ক তুলে দেয় বাসের বাক্সে। এর ফাঁকে শম্পার বাবাকে ফোন করেন স্বপ্ন জানিয়ে দেন, তার মেয়েকে বাসে তুলে দিয়েছে। পরদিন বিকাল পৌনে ৬টায় গাবতলীতে পৌঁছলে বাসের চালক-হেলপার সেই ট্রাঙ্কটি নামাতে গিয়ে দেখেন সেটি খুব ভারী। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তারা দারুসসালাম থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ট্রাঙ্কটি খুলে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। সেটি অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করে পুলিশ। এরপর অজ্ঞাত মামলা হলে দারুসসালাম থানা পুলিশ সেটি প্রায় ৩ মাস তদন্তও করে। পরে সেটি সিআইডিতে পাঠানো হয়। তারাও প্রায় ৪ বছর তদন্ত করে; কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সেটির ভার পড়ে পিবিআইর ওপর। পিবিআই ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। প্রায় ২১ মাস পর এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হলো। 

শম্পার পরিবার যা জানত : পিবিআই জানায়, ২০১৫ সালে শম্পা তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে শম্পার ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান শ্যালিকা নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি জিডি করেন। খুনের শিকার শম্পার বাবা একই বছরের ২৭ মার্চ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এই অভিযোগের পর নৌবাহিনী থেকে বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০১৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় রেজাউল করিমকে। শম্পার বাবা গতকাল পর্যন্ত জানতেন না, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এতদিন তিনি জানতেন মেয়ে হারিয়ে গেছে অথবা কেউ তাকে পাচার করে দিয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল ও পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম।

/এমএইচ.




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]