ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সিপিডির আলোচনা সভা
ই-কমার্সের প্রতারিত গ্রাহকদের মালিকানা দেওয়ার প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৪:১৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 107

ই-কমার্সের প্রতারিত গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মাধ্যমে মালিকানা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইভ্যালির সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার ‘ই-কমার্স খাতের চ্যালেঞ্জ : সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিডিডি) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন, বিডি জবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, চালডাল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম, শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক, অ্যাসিক্স বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফসানা আসিফ, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ তমালসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, তদারকি প্রতিষ্ঠানের সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবে সম্ভাবনাময় ই-কমার্স বাণিজ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সুশাসন না থাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের হাজার কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুমিয়ে ছিল। এ অবস্থায় গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়াসহ এ খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান আইনের সংশোধনসহ একটি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভোক্তাদের তাদের শেয়ারের মাধ্যমে মালিকানা দিয়ে এ খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন তারা। 

এ সময় ব্যারিস্টার তানজীব বলেন, পাওনা পরিশোধের একটি উপায় আছে। ইভ্যালিকে দীর্ঘদিন দেশে নানাভাবে প্রমোট করা হয়েছে। সেটি হয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। তাই এ সময়ে যারা ইভ্যালির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সুবিধা নিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করতে হবে, যা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের পাওনা হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে এখন জমা ৩০ লাখ টাকা। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে গ্রাহক চিন্তিত, সরকার বিব্রত। এমন বাস্তবতায় টাকা উদ্ধারে নতুন এ ফর্মুলা দেন দেশে ব্যবসা নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট এ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল-আলম।

ইভ্যালি নিয়ে ব্যারিস্টার তানজীব বলেন, ‘ইভ্যালির লেনদেন হয়েছে অনলাইনে। তাদের কাছ থেকে কারা কত টাকা নিয়েছে সেগুলো নিশ্চয়ই অনলাইন লেনদেনের হিসাবে ডকুমেন্ট রয়ে গেছে। মোটা দাগে আমরা ক্রিকেট বোর্ডে ইভ্যালিকে স্পন্সর হতে দেখেছি। সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাও টাকা নিয়েছে। গণমাধ্যমেও এর বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে। ‘এসব খাতে লেনদেনে অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের ডিটেইল তদন্ত করতে হলে সবার আগে ইভ্যালিতে একজন লিক্যুইডিটর নিয়োগ দিতে হবে। সেটি নিয়োগ দিতে পারে একমাত্র আদালত। আদালত সেটি স্বেচ্ছায় করতে পারবে না। পাওনা উদ্ধার প্রক্রিয়ার উপায় হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে রিট করতে পারেন। তখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

ওয়েবিনারে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। এখন সরকারের উচিত প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে নজর দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া।

ওয়েবিনারের শুরুতে চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, ‘আলাদা আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ খাত পরিচালনায় আলাদা কোনো সংস্থা নেই।’

বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘ই-কমার্সে শৃঙ্খলা আনতে হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে আরও কার্যকর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দেশে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই না।’

শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক বলেন, ই-কমার্সকে যদি নজরদারি করা হয়, তাহলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না।

আবদুল ওয়াহিদ বলেন, ‘ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনায় দায়িত্বশীল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কিংবা প্রতিযোগিতা কমিশন এদের সবারই কিছু না কিছু দায় আছে। কারণ এদের প্রত্যেকের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এখন আগের জমানা নেই। যখন যেটা ঘটে, তখন সেটার পুনরাবৃত্তি রোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়।

সঙ্কট থেকে উত্তরণে পরামর্শ দিয়ে অন্য বক্তারা বলেন, ইভ্যালিসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ভোক্তারা প্রতারিত হয়েছে তাদের ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দেওয়া হোক। মালিকানার জন্য যথাযথ নিরীক্ষার জন্য সরকারের একটি কর্তৃপক্ষ কাজ করতে পারে। এ জন্য বিদ্যমান আইনে সমাধান করা না গেলেও প্রয়োজনে আইন সংশোধন হতে পারে। এ ছাড়া সঙ্কটে উচ্চ আদালতও এগিয়ে আসতে পারে। বিশে^র অনেক দেশে এ ধরনের উদাহরণ আছে।

আলোচকরা বলেন, গত ৪-৫ বছরের মধ্যে ই-কমার্স খাত বিকশিত হতে শুরু করলেও করোনাকালে ঘরে বসে সহজে পণ্য পাওয়ায় এর দ্রুত প্রসার হয়েছে। ৩ কোটি ৯০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং প্রায় ৩০ হাজার অনলাইন প্রতিষ্ঠান এ খাত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সিপিডির তথ্য অনুসারে ই-কমার্স খাতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। এর প্রবৃদ্ধিও প্রায় শতভাগ। প্রতিবছরই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের আশা ২০২৩ সালের মধ্যে এর বার্ষিক বাজার দাঁড়াবে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সাম্প্রতিক জালিয়াতি ও প্রতারণা বিকশিত এই খাত পুরো ধসের মুখে পড়েছে।
সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সুশাসনের অভাবে ই-কমার্স খাতে এ ধরনের প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কথা উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, ইভ্যালি যখন ৪৫ দিনে পণ্য ডেলিভারি, শতভাগ ক্যাশ দেবে এমন অফার দিচ্ছিল, তখনও নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুমিয়ে ছিল। এমন ভুয়া অফারেও তাদের ঘুম ভাঙেনি। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান নগদ এবং বিকাশও তাদের দায় এড়াতে পারে না। তারাও ২০ শতাংশ ক্যাশ ব্যাকের নামে ভোক্তাদের প্রতারিত হতে উৎসাহিত করেছিল।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]