ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ৩৮ শতাংশ রফতানি বাণিজ্যে রেকর্ড আয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১, ৬:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 309

করোনায় যেভাবে ধস নেমেছিল সেখান থেকে গত তিন-চার মাসে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে রফতানি আয়। তবে সদ্য বিদায়ি সেপ্টেম্বর মাসে রফতানি আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। একক মাস হিসাবে সেপ্টেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা দেশের ইতিহাসে এর আগে আর কখনও হয়নি। মূলত প্রধান খাত তৈরি পোশাক রফতানির উল্লম্ফনের কারণেই এ অবস্থা হয়েছে। আগের মাস পর্যন্তও যেখানে পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল সেখানে সেপ্টেম্বরে নিটওয়্যার পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ, আর ওভেন পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এক মাসের হিসাবে এটি রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য রফতানি থেকে এত বেশি বিদেশি মুদ্রা আসেনি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার রফতানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের 
তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বা ৩৮ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে ৩০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ১ হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ (১১.০২ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময় পণ্য রফতানি থেকে ৯৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই তিন মাসে মোট রফতানি আয়ের ৮২ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এই তিন মাসে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অথচ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় মাস আগস্টে সেই প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় এসে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশে ওঠে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক রফতানিতে এক লাফে সেই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয়েছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১ হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। ইপিবির পরিসংখ্যান আরও বলছে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাক ও বিশেষত নিটওয়্যার পণ্য রফতানি বেড়েছে। এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াপণ্য, কৃষি, প্লাস্টিক পণ্য রফতানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৯০৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার পণ্য রফতানি করেছে ৫১৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার, এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬ শতাংশ। আর ওভেন পণ্য রফতানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ৫২ লাখ ডলারের, এই খাতে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গতবছরের নেতিবাচক রফতানি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এখন করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। এ ছাড়া ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে পোশাকের ক্রেতা কিছুটা বাংলাদেশমুখী হতে থাকায় রফতানি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রফতানিকারকারা।

পোশাক রফতানি আয়ের উল্লম্ফনের বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, করোনার কারণে রফতানি বাণিজ্য একরকম থমকে গিয়েছিল। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রফতানি বাণিজ্য। একইভাবে পোশাক রফতানিও ভালো অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। এখন আমাদের কারখানাগুলোয় প্রচুর পরিমাণ অর্ডার আসছে। পোশাকের দামও বাড়ছে। করোনার মধ্যে কারখানা খোলা রেখে আমরা কেবল ব্যবসা ধরে রেখেছি। এখন তার ফল পাচ্ছি।

ফারুক হাসান বলেন, পশ্চিমা ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। পোশাকের আরও বেশি দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা পাওয়ার পথও সুগম হয়েছে। ফলে আশা করছি, সামনের দিনগুলোয় রফতানি আয় আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, গত বছর করোনার শুরু থেকে কয়েক মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আর এখন ঠিক তার উল্টো চিত্র। প্রচুর অর্ডার আসছে, 

কারখানাগুলোয় এখন রাত-দিন কাজ চলছে। গত বছর আমাদের পোশাক রফতানিতে ধস নামে। ওই বছর আমরা ৩৪ বিলিয়ন পোশাক পণ্য রফতানির লক্ষ্য নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের রফতানি হয়েছে মাত্র ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যা ছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। তাই গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর আয় বেশি দেখাবে। তবে ২০১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে আয় খুব বেশি হবে না।
এদিকে ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে 

কৃষিপণ্য রফতানিতে আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য রফতানির আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। 

তিন মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় চামড়াজাত খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ২৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
তবে এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২১ কোটি ২৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।


আরও সংবাদ   বিষয়:  রফতানি বাণিজ্যে রেকর্ড   প্রবৃদ্ধি  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com