ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দাম্পত্য সম্পর্ক মধুর রাখতে
গাজী আনিস
প্রকাশ: বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১, ২:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 768

রাকিব আর তিতলির সম্পর্ক নিয়ে বন্ধুমহলে বেশ আলোচনা চলে। একে অপরকে উদাহরণ দিতে তাদের সম্পর্কের কথাই বারবার তুলে ধরে সবাই। ওদের বোঝাপড়া, ভালোবাসায় সবাই অবাক। যেকোনো সমস্যার সমাধান ওরা যেমন ঠান্ডা মাথায় দুজন মিলে করে তার প্রশংসা সবার মুখে মুখে। এ নিয়ে তিতলির কাছে বন্ধুরা কম পরামর্শ চায়নি। কিন্তু তিতলি কখনও তেমন কোনো উত্তর দেয়নি। সব সময় হেসে এড়িয়ে যান। আজকাল বেশিরভাগ সম্পর্কে নানা সমস্যা। এমনকি ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও অনেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। তেমনই পাঁচ বছরের প্রেমপর্ব চুকিয়ে বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতে অনেকে বিচ্ছেদের রাস্তায় হাঁটছেন। এ সবকিছুর মূলে রয়েছে বোঝাপড়ার অভাব। একে অপরকে বুঝতে না পারা, অবিশ্বাস কিন্তু থাকে সম্পর্ক ভাঙনের মূলে। 

বর্তমানে এমন অনেকেই আছেন কেউ কাউকে ছাড় দিতে চান না। তাই যেন ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। তাই আজ রাকিব আর তিতলির থেকে কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্য। জেনে নিন সঙ্গীর সঙ্গে কীভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং আপনাদের ভালোবাসার কারণে সম্পর্ক হবে দীর্ঘমেয়াদি।

একসঙ্গে সময় কাটান
বিয়ের পর একসঙ্গে সময় কাটানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা, চাকরি এসব সামলে প্রতিদিন হয়তো সময় পাওয়া যায় না তবুও ছুটির দিনে একসঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। যদি একে অন্যের থেকে দূরে থাকেন তাহলেও মাঝেমধ্যে একে অন্যের কাছাকাছি আসুন। দেখা করুন। একসঙ্গে সময় কাটালে কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

দুজনের আলাদা পরিচয় তৈরি করুন
বিয়ের পর চেষ্টা করবেন দুজনের নিজের পরিচয় তৈরি করতে। অর্থাৎ স্বামীর পরিচয়ে স্ত্রীর পরিচয় যেমন হয় না তেমন উল্টোটাও হয় না। দুজনে নিজের আলাদা কাজের জগৎ তৈরি করুন, দেখবেন কাজের জগতে নিজে সুপ্রতিষ্ঠিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এ জন্য একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করতে পারেন।

মূল্যবোধকে মর্যাদা দিন
যেকোনো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনে আলোচনা করুন। একে অন্যের মতামত শুনুন। এরপর সিদ্ধান্ত নিন। কখনও অন্যের মূল্যবোধের অমর্যাদা করবেন না। সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা। এতেই সম্পর্ক হবে মজবুত। সেই সঙ্গে একে অন্যের কাজকেও সম্মান করুন। একজনের মতামত ভুল হলেও শুরুতে তাকে নিরুৎসাহিত করবেন না।

নিজেদের মতো সময় কাটান
সব সময় যে দুজনকে একসঙ্গে সময় কাটাতে হবে এমন নয়। কিছুটা সময় কিন্তু নিজেদের জন্যও রাখা প্রয়োজন। সেই সময়টা দুজনে যে যার বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান, আড্ডা দিন ও নিজের মতো করে কাটান। নিজের ভালোলাগার কাজ করুন, কফি ডেটে যান, রূপচর্চা করুন। মোট কথা নিজের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি। এই সামান্যটুকু মেনে চললেই সম্পর্ক ভালো হবে।
শারীরিক-মানসিক অত্যাচার 

করছেন কি না খোঁজ নিন
অনেকেই নানা দায়বদ্ধতার কারণে বিবাহিত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন। স্বামী-স্ত্রীর যদি একে অপরের প্রতি ভয় থাকে, কেউ কারও দ্বারা শারীরিক অত্যাচারের শিকার হন, তাহলে সেই বিয়ের সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না। এ জন্য সাহস সঞ্চয় করুন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর মানসিক শান্তি আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি অপরজনকে বলুন। একজন আরেকজনকে কষ্ট দিলে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন।

তৃতীয় পক্ষ না, নিজেরাই সমাধান করুন
স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে যদি কোনোভাবে ছেদ বা দূরত্ব এসে পড়ে তা হলে জীবনটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। দাম্পত্য জীবনে যত বেশি সুখ থাকবে সংসারে তত বেশি উন্নতি হবে। 

এই দূরত্ব মেটানোর দায়িত্ব নিতে হবে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই। তাই যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে তা হলে শুরুতে নিজেরা বসুন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। যেকোনো ঝামেলায় শুরুতে 
তৃতীয় পক্ষকে না ডাকা উত্তম।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]