ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ফেসবুকের মুনাফার বলি ব্যবহারকারীরা
বাধন অধিকারী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 205

ফেসবুকের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ নথি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাবেক এক কর্মী ফ্রান্সেস হাউগেন। সেসব নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফেসবুকের কাছে সব ব্যবহারকারীই সমান- এমন দাবি করা হলেও বাস্তবতা হলো, বিশেষ একটি এলিট শ্রেণিকে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি কমিটির কাছে দেওয়া বক্তব্যে হাউগেন বলেছেন, ফেসবুক এবং তাদের অ্যাপগুলো শিশুদের ক্ষতি করছে, বিভেদ বাড়াচ্ছে এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা ফাঁস হওয়া এসব তথ্যে বিস্মিত নন।


তারা বলছেন, সঙ্কটটা আসলে শুধু ফেসবুকের নয়, সামগ্রিক ‘নজরদারি পুঁজিবাদী’ ব্যবস্থার। এ ব্যবস্থায় বিনা সম্মতিতে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তাকে মুনাফার অস্ত্র করা হয়। মানুষ ও সমাজের কল্যাণের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় মুনাফার স্বার্থকে। ফেসবুক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফেসবুক বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী মাসে তাদের ২৭০ কোটি নিয়মিত ব্যবহারকারী রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এ প্রতিষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইন্সটাগ্রামের মতো পণ্যও ব্যবহার করে। তবে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে।

ফ্রান্সেস হাউগেন ছিলেন ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার। এখন তিনি এই কোম্পানির নানা গোপনীয় তথ্য তুলে ধরতে শুরু করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি যেসব নথি সরবরাহ করেছেন, তার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে; ফেসবুক এলিটদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সামাজিক মাধ্যম মাদক কারবারি ও মানব পাচারকারিদের তৎপরতা ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে অপতৎপরতা ঠেকাতেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া খোদ ইন্সটাগ্রামের (ফেসবুকের নিজস্ব ছবি শেয়ারিংয়ের সামাজিক মাধ্যম) নিজস্ব গবেষণায় উঠে এসেছে যে, অ্যাপটি মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তথ্য দিয়েই ক্ষান্ত হননি হাউগেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে সিনেট কমিটির সামনে শুনানিতে ফেসবুকের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন ৩৭ বছর বয়সি সাবেক এ কর্মী। বলেছেন, ‘ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের কর্তাব্যক্তিরা জানেন যে, কীভাবে এগুলোকে আরও নিরাপদ করা যায়; কিন্তু তারা সেসব পদক্ষেপ নেননি। কারণ তারা জনগণের ভালোর চেয়ে নিজেদের মুনাফার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।’

শুনানির পর এক বিবৃতিতে ফেসবুক বলেছে, হাউগেন যেভাবে অনেক বিষয়ে চরিত্রাঙ্কন করেছেন, তার সঙ্গে তারা একমত নয়। তবে তারাও মনে করে, ইন্টারনেটের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন তৈরির সময় এসেছে। বুধবার সকালে (যুক্তরাষ্ট্রের সময় মঙ্গলবার রাতে) ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ লম্বা একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি ফেসবুকের সাম্প্রতিক বিভ্রাট এবং হাউগেনের বক্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। জাকারবার্গ বলেছেন, তাদের বিষয়ে যেসব তথ্যপ্রমাণ সম্প্রতি প্রচার করা হচ্ছে, তাতে ফেসবুকের কাজ এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যেভাবে কোম্পানিকে তুলে ধরা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমরা সবসময়ই নিরাপত্তা, মঙ্গল এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্ব দিই।

তবে জাকারবার্গের প্রথম দিকের পরামর্শদাতা ও ‘জাকড : ওয়াকিং আপ টু ফেসবুক ক্যাটাস্ট্রফি’র লেখক রজার ম্যাকনামি বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাসি নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তাদের ভ্যালু সিস্টেম দক্ষতা, গতি, বৃদ্ধি, মুনাফা ও ক্ষমতার সমন্বয় যা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ তিনি বলেন, ফেসবুকের কর্মকর্তারা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

তিনি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তিনি নিজে ছাড়া সেখানে তাকে জবাবদিহি করার মতো আর কেউ নেই।’

সম্প্রতি ফেসবুকের সার্ভার ডাউন হওয়ার বাস্তবতা সামনে এনে হিউগেন সিনেট কমিটিকে বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি যে, ইন্টারনেট থেকে ফেসবুক কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি জানি না সেটা কীভাবে হয়েছে; কিন্তু পাঁচ ঘণ্টার জন্য হলেও ফেসবুক তাদের বিভক্তি ছড়াতে পারেনি, গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারেনি এবং নারী ও শিশুদের তাদের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারেনি।’ তবে এই সঙ্কটকে কেবল ফেসবুকের সংকট হিসেবে দেখতে রাজি নন ম্যাকনামি। তিনি এটাকে দেখছেন ‘নজরদারি পুঁজিবাদ’-এর কাঠামোগত সঙ্কট হিসেবে। ডেমোক্র্যাসি নাউকে তিনি বলেছেন, এটা সম্ভাব্য সব উপায়ে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহে নজরদারি চালানোর এক ব্যবসায়িক মডেল। এর মধ্য দিয়ে আমাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে তারা জানতে সক্ষম হয় এবং সেই পছন্দ-অপছন্দ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

মিডিয়া অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ফ্রি প্রেসের সহ-প্রধান নির্বাহী জেসিকা গঞ্জালেস ডেমোক্র্যাসি নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের এ ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, ‘এটা হলো জননিরাপত্তা, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও সব মানুষের কল্যাণের [কেবল ফেসবুক ব্যবহারকারী নয়] ওপর নিজেদের মুনাফাকে স্থান দেওয়ার বিষয়। এবং এ কারণেই আমি মনে করি, ফেসবুকের এ জটিলতা তারা নিজেরা মেটাতে সক্ষম নয়। আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

গঞ্জালেসের মতে শুধু ফেসবুক নয়, সব সোশ্যাল মিডিয়াই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেমোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ ও বাছাই করে; সুতরাং তারা জানে কোন ওয়েবসাইট দেখে আমাদের কী প্রতিক্রিয়া হয়, আমাদের দুর্বলতা কোথায়, আমাদের প্রবণতা কিংবা আচরণ কী হয়। ‘তারা আসলে আমাদের এমনসব জিনিস দিয়ে টার্গেট করছে, তাদের বিবেচনায় যেগুলোতে আমরা আরও বেশি জড়িত হব। সুতরাং এটি লক্ষ্যভিত্তিক মিথ্যা তথ্য, লক্ষ্যভিত্তিক ঘৃণা ছড়ানোর পরিসর। তারা আমাদের তাদের বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করছে এবং সে কারণেই, এটি [ফেসবুক] কীভাবে কাজ করে তা না বুঝেও, আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি।’ বলেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]