ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাহিত্যে নোবেল: পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেছেন যারা
সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:১০ পিএম আপডেট: ০৮.১০.২০২১ ১২:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 263

নোবেল পুরস্কারের জনক শিল্পপতি ও বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল। তিনি তার উইল করা নোটে বলে গেছেন, শুধু তাদেরকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে, যাদের মধ্যে একটি আদর্শগত প্রবণতা থাকবে। একই সঙ্গে সেই আদর্শের ভিত্তিতে অনন্য সাধারণ কাজ দেখাতে পারবেন।

যখন প্রথম এই পুরস্কার দেওয়া হয় তখন বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কারণ উইলে নোটের সঙ্গে অনেক বিখ্যাত লেখকের অনেক ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক বড় কোনো আদর্শের জন্ম দিতে পারেননি। যে কারণে তারা নোবেল পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন লিও তলস্তয় ও হেনরিক ইবসেন। তবে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় কিন্তু নোবেল পুরস্কার পাননি। আবার পাঠকদের কাছে ততটা পরিচিত নন, কিন্তু পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে দারিও ফো ও এলফ্রিদে ইয়েললিনেক।

১৯৫৮ সালে রুশ সাহিত্যিক বরিস পাস্তেরনাক নোবেল পুরস্কার পেলেও, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের চাপে তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। একইভাবে জা পল সার্ত্র নোবেল পুরস্কার পেলেও, তিনি এই পুরস্কারও নেননি। কেন নেননি এ ব্যাপারে তার বক্তব্য ছিল, যা পাশ্চাত্যের লেখক ও প্রাচ্যের বিপ্লবীদের বাকরুদ্ধ করে দেয়। আলজেরিয়ায় যুদ্ধ চলাকালে তারা ১২১ জনের বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তখন পুরস্কার দেওয়া হয়নি। দিলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে বলে তারা গ্রহণ করতেন। ১৯৬৬ সালে বার্ট্রান্ড রাসেলের উদ্যোগে গঠিত ‘যুদ্ধাপরাধ আদালত’-এর প্রথম সদস্য হিসেবে যোগ দেন সার্ত্রে। এমনকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তানের বর্বর অত্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান। তবে ১৯ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলে কী হবে, পুরস্কারের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভিয়েতনামের সংগ্রামী নেতা লে দুকতো স্বেচ্ছায় পুরস্কার প্রত্যাখান করেন। বার্ট্রান্ড রাসেলও নোবেল নিতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেন।

এখন দেখা যাক ১৯০১ থেকে এ পর্যন্ত কত জন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন। স্যুলি প্রুদুম ফরাসি লেখক। তার কাব্যে শৈল্পিক নৈপুণ্য ছিল। ছিল হৃদয় ও বৃদ্ধিমত্তার একটি বিরল সমন্বয়। ফ্রান্স থেকে তিনি প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। এর পরের বছর জার্মানি লেখক টেওডোর মমজেন এই পুরস্কার পান। ইতিহাস আর আইনের সমন্বয়ে তার কালজয়ী রচনার জন্য নোবেল এনে দেয়। পরের বছর হঠাৎ নরওয়ের লেখক ইয়র্নস্টান ইয়ননের ভাগ্যে চলে আসে নোবেল পুরস্কার। আবারও ফ্রান্স। ১৯০৪ সালে ফ্রেদেরিক মিস্ত্রালের ভাগ্যে মিলল অপ্রত্যাশিত নোবেল। তার ভাষাতত্ত্বের বিষয়টি নোবেল কমিটি পর্যবেক্ষণ করে। তবে এ সালেই আরও একজনের ভাগ্যে নোবেল চলে আসে। আর তিনি হলেন, স্পেনের হোসে এচেগারাই। তিনি অসংখ্য নাটক লিখেছেন, যা বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে ধরা দেয়।

ইউরোপের মধ্যে যেন নোবেল ঘুরপাক খায়। ১৯০৫ সালে পোল্যান্ডের হেনরিক শিনকিয়েউইচ মহাকাব্যের জন্য নোবেল পেয়ে যান। পরের বছর ইতালির জোযুয়ে কার্দুচ্চি পদ্যের জন্য নোবেল পান। একাধারে উপন্যাস, ছোটগল্পের জন্য ১৯০৭ সালে যুক্তরাজ্যের রুডইয়ার্ড কিপলিং নোবেল পুরস্কার পান। আবার জার্মানিতে চলে এলো পরের বছর। ১৯০৮ সালে সত্য অনুসন্ধানের জন্য রুডলফ ক্রিস্টোফ ইউকেনের ভাগ্যে চলে আসে সেই প্রত্যাশিত পুরস্কার।

নোবেল পুরস্কার জগতে এই প্রথম নারী হিসেবে পেলেন ১৯০৯ সালে। সুইডেনের সেলমা লাগেরলফ তার লেখনির মহৎ আদর্শের জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন। গীতিকবি ও নাট্যকার হিসেবে সুপরিচিত পল হাইসে পরের বছর পুরস্কার লাভ করেন। জার্মানির এই লেখকের অসংখ্য পাঠক রয়েছে। বহুমুখী প্রতিভাবান বেলজিয়ামের লেখক মরিস মেটার লিংক মূলত নাটক ও প্রবন্ধের জন্য এই পুরস্কার পান। আবারও জার্মানিতে। এক বছরের ব্যবধানে ১৯১২ সালে চমকপ্রদ কাজের জন্য গেরহার্ট হাউপ্টমান নোবেল পেয়ে যান।
 
নোবেল জগতে এই প্রথম বাঙালি লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের লেখক হিসেবে পুরস্কার পান। কাব্যের অতি উচ্চমানের সংবেদনশীল চিন্তা-চেতনার বিষয়টি নোবেল কমিটির দৃষ্টিতে পড়ে। পরের বছরে কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ১৯১৬ সালে সুইডেনের ফের্নার ফন হাইডেনশটাম, ডেনমার্কের কার্ল এডলফ গিয়েলেরুপ যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। পরের বছর আবারও ডেনমার্কে। হেনরিক পন্টোপ্পিদান পুরস্কার পান। ১৯১৮ সালে কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ১৯১৯ সালে সুইজারল্যান্ডের কার্ল স্পিটেলার, ১৯২০ সালে নরওয়ের নাট হ্যামসুন, ১৯২১ সালে ফ্রান্সের আনাতোল ফ্রস, ১৯২২ সালে স্পেনের হাসিন্তো বেনাভেন্তে, ১৯২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস, ১৯২৪ সালে পোলান্ডের লাডিস্লো রেইমেন্ট, ১৯২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের জর্জ বার্নার্ডশ, ১৯২৬ সালে ইতালির গ্রাজিয়া দেলেদ্দা, ১৯২৭ সালে ফ্রান্সের অরি বগসা, ১৯২৮ সালে নরওয়ের সিগ্রিড উন্ডসেট, ১৯২৯ সালে জার্মানির টমাস মান, ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনক্লেয়ার লুইস, ১৯৩১ সালে সুইডেনের এরিক এক্সেল কার্লফেল্ট, ১৯৩২ সালে যুক্তরাজ্যের জন গলসওয়ার্দি, ১৯৩৩ সালে রাশিয়ার আইভান আলেক্সেইভিচ বুনিন (তিনি নির্বাসনে ছিলেন), ১৯৩৪ সালে ইতালির লুইজি পিরানদেল্লো। পরের বছর কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ১৯৩৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিন ও নিল, ১৯৩৭ সালে ফ্রান্সের রজার মার্টিন দ্য গড, ১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল এস বার্ক, ১৯৩৯ সালে ফিনল্যান্ডের ফ্রান্স ইমিল সিলানপা, পরবর্তী কয়েক বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ১৯৪৪ সালে ডেনমার্কের জোহানেস ভি জেনসন, ১৯৪৫ সালে চিলির গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, ১৯৪৬ সালে সুইজারল্যান্ডের হেরমান হেস, ১৯৪৭ সালে ফ্রান্সের আন্দ্রে জিদ, ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের টিএস এলিয়ট, ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম ফকনার, ১৯৫০ সালে যুক্তরাজ্যের বার্ট্রান্ড রাসেল, ১৯৫১ সালে সুইডেনের পার ল্যাগারভিস্ত, ১৯৫২ সালে ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া মরিয়াক, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাজ্যের উইনস্টন চার্চিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আর্নেস্ট হেমিওয়ে, ১৯৫৫ সালে আইসল্যান্ডের হ্যালডর ল্যাক্সনেস, ১৯৫৬ সালে স্পেনের হুয়ান রামোন হিমেনেস, ১৯৫৭ সালে ফ্রান্সের আলবেয়ার কামু, ১৯৫৮ সালে রাশিয়ার বরিস পাস্তেরাক (তিনি অবশ্য এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন), ১৯৫৯ সালে ইতালির সালভাদর কোয়াসিমোদো, ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের সা জ পেস, ১৯৬১ সালে যুগোস্লাভিয়ার ইভো আন্দ্রিচ, ১৯৬২ সালে জন স্টেইনবেক, ১৯৬৩ সালে গ্রিসের গিয়গোর্স সেফেরিস, ১৯৬৪ সালে জ পল সাত্র (তিনি এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন), ১৯৬৫ সালে রাশিয়ার মিখাইল শলোখভ ও ইসরাইলের শমুয়েল ইয়োসেফ, ১৯৬৬ সালে জার্মানির নেলি সাক্স, ১৯৬৭ সালে গুয়াতেমালার মিগেল আনহেল আন্তুরিয়াস, ১৯৬৮ সালে জাপানের ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা, ১৯৬৯ সালে আয়ারল্যান্ডে স্যামুয়েল বেকেট, ১৯৭০ সালে রাশিয়ার আলেক্সান্দর সলঝেনিতনিস, ১৯৭১ সালে চিলির পাবলো নেরুদা, ১৯৭২ সালে জার্মানির হাইনরিখ বোল, ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট্রিক হোয়াইট ও সুইডেনের আইভিন্ড জনসন, ১৯৭৪ সালে সুইডেনের হ্যারি মার্টিনসন, ১৯৭৫ সালে ইতালির ইউজেনিও মন্তালে, ১৯৭৬ সালে কানাডার সলবেলো, ১৯৭৭ সালে স্পেনের ভিসেন্তে আলেকইক্সান্দ্রে, ১৯৭৮ সালে পোল্যান্ডের আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার, ১৯৭৯ সালে গ্রিসের ওডিসিয়াস এলাইটিস, ১৯৮০ সালে পোল্যান্ডের চেশোয়াফ মিওস, ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের এলিয়াস কানেত্তি, ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গ্যাব্রিয়েল মার্কেস, ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যের উইলিয়াম গোল্ডিং, ১৯৮৪ সালে চেকের ইয়াররোস্লাভ, ১৯৮৫ সালে ফ্রান্সের ক্লদ সিমো, ১৯৮৬ সালে নাইজেরিয়ার ওলে সোয়িংকা, ১৯৮৭ সালে রাশিয়ার জোসেফ ব্রডস্কি, ১৯৮৮ সালে মিসরের নাগিব মাহফুজ, ১৯৮৯ সালে স্পেনের কামিলো হোসে সেলা, ১৯৯০ সালে মেক্সিকোর অক্টভিও পাজ, ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাডিন গর্ডিমার, ১৯৯২ সালে সেন্টলুসিয়ার ডেরেক ওয়ালকট, ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টনি মরিসন, ১৯৯৪ সালে জাপানের কেনজোবুরো ওহয়ে, ১৯৯৫ সালে আয়ারল্যান্ডের শেমাসহিনি, ১৯৯৬ সালে পোল্যান্ডের ভিশ্লাভা শিম্বোসর্কা, ১৯৯৭ সালে ইতালির দারিও ফো, ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের হোসে সারেগামা, ১৯৯৯ সালে জার্মানির গুন্টারগ্রাস, ২০০০ সালে গণচীনের কাও শিংচিয়েন, ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের বিদ্যাধর নাইপল, ২০০২ সালে হাঙ্গেরীর ইমরে কার্তেজ, ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জন ম্যাক্সওয়েল কুতসি, ২০০৪ সালে অস্ট্রিয়ার এলফ্রিডে ইয়েলিনেক, ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের হ্যারল্ড পিন্টার, ২০০৬ সালে তুরস্কের ওরহান পামুক, ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের ডোরিস লেসিং, ২০০৮ সালে ফ্রান্সের জ মারি গুস্তাভ, ২০০৯ সালে জার্মানির হেটা মুলার, ২০১০ সালে পেরুর মারিও বার্গাস, ২০১১ সালে সুইডেনের টমাস ট্রান্সট্রোমার, ২০১২ সালে গণচীনের মো ইয়ান, ২০১৩ সালে কানাডার এলিস মুনরো, ২০১৪ সালে ফ্রান্সের পাত্রিক মোদিয়ানা, ২০১৫ সালে বেলারুশের সভেতলানা, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বব ডিলান, ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাজুও ইশিগুরো, ২০১৮ সালে পোল্যান্ডের ওলগা তোকারচুক, ২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ার পেটার হান্ডকে, ২০২০ সালে লুইস গ্লুক।


আরও সংবাদ   বিষয়:  নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান   আলফ্রেড নোবেল  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]