ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শরতের রঙ
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 147

সাদা কাশফুল, শিশির ভেজা দূর্বাঘাস আর শিউলি ফুল দেখলেই আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসে গেছে। বর্ষা শেষে প্রকৃতি অপরূপ রূপ নিয়ে আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। এই রূপ দেখে যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছেন কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকরা। তাই শরতের বর্ণনা উঠে এসেছে বাংলা ছড়া, কবিতা আর গানে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘শরতের রঙটি প্রাণের রঙ। অর্থাৎ তাহা কাঁচা, বড়ো নরম। রৌদ্রটি কাঁচা সোনা, সবুজটি কচি, নীলটি তাজা। এইজন্য শরতে নাড়া দেয় আমাদের প্রাণকে, যেমন বর্ষায় নাড়া দেয় আমাদের ভিতর-মহলের হৃদয়কে, যেমন বসন্তে নাড়া দেয় আমাদের বাহির মহলের যৌবনকে।’ তিনি শরৎকে তুলনা করেছেন শিশুর সঙ্গে। লিখেছেন, ‘তার, এই-হাসি, এই-কান্না। সেই হাসিকান্নার মধ্যে কার্যকারণের গভীরতা নাই, তাহা এমনি হালকাভাবে আসে এবং যায় যে কোথাও তার পায়ের দাগটুকু পড়ে না, জলের ঢেউয়ের উপরটাতে আলোছায়া ভাইবোনের মতো যেমন কেবলই দুরন্তপনা করে অথচ কোনো চিহ্ন রাখে না।’

শরতের কাশফুল, শিউলিফুল আর শুভ্র মেঘমালার রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিগুরু গেয়ে উঠেছেন-
আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ
আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা
নবীণ ধানের মঞ্জরী দিয়ে 
সাজিয়ে এনেছি ডালা॥

শরতের শিউলিফুল নিয়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গান রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন-
শিউলিতলায় ভোরবেলায় 
কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।
শেফালি পুলকে ঝ’রে পড়ে মুখে 
খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা॥

শরৎ শুধু সৌন্দর্যের ঋতু নয়, শরৎ বাঙালির উৎসবেরও ঋতু। উৎসবের মধ্যে শরতের প্রধান আকর্ষণ দুর্গাপূজা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারা বছর প্রতীক্ষায় থাকে এই উৎসবের। সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। ঢাকের আওয়াজ বয়ে আনে অনাবিল আনন্দের জোয়ার। ছোট থেকে বড়, ধনী থেকে গরিব- সবার মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পূজার ছুটিতে নেচে-গেয়ে আনন্দ করে থাকে।

এই দৃশ্য কল্পনা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন-
যে দিকে তাকাই সোনার আলোয়
দেখি যে ছুটির ছবি
পূজার ফুলের বনে ওঠে ওই
পূজার দিনের রবি।

বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের আনন্দ অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা ছাড়াও লক্ষ্মীপূজা, ভাইফোঁটা, জগদ্ধাত্রী পূজা সবই শরতের উৎসব। এসব উৎসবের আনন্দ এ সময় মানুষের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে।

শরৎ এলে বাংলাদেশের বিলে-ঝিলে ফুটে থাকে শাপলা ফুল। সবুজ সতেজ পাতায় ঘেরা গাছের ডালে শোনা যায় পাখির কিচির-মিচির শব্দ। মাঠ ভরা ধানক্ষেত হেসে ওঠে সূর্যের সোনালি আলোয়। তাইতো পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বলে ওঠেন-
শরৎ সে কবে চ’লে গেছে তার সোনালী মেঘের ছটা,
আজো উড়িতেছে মোর এই খেতে ধরিয়া ধানের জটা।
মাঝে মাঝে এর পাকিয়াছে ধান, কোনখানে পাকে নাই,
সবুজ শাড়ীর অঞ্চলে যেন ছোপ লাগিয়াছে তাই।

শরতে ফোটা কাশফুল নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন-
সবে তো এই বর্ষা গেল শরৎ এলো মাত্র,
এরই মধ্যে শুভ্র কাশে ভরলো তোমার গাত্র।
ক্ষেতের আলে নদীর কূলে পুকুরের ওই পাড়টায়,
হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশবনের ওই ধারটায়।

শরৎ আর কাশফুল নিয়ে বাংলায় কত ছড়া, কবিতা বা গান লেখা হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। কবি আল মাহমুদ লিখেছেন-
ভাসছে হৃদয় কাশের ফুলে ঘাস যেখানে
ঘন হয়ে ছড়িয়ে আছে কুঞ্জবনে
আসছে শরৎ আবার দেখো ভাসছে হৃদয়
হাসছে একা কাশের ফুলে সঙ্গোপনে।

তবে শরতে শুধু কাশফুলই যে ফোটে তা কিন্তু না। শাপলার কথা তো আগেই বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি, গগনশিরীষ, ছাতিম, বকফুল, মিনজিরি, কলিয়েন্ড্রা, হাসনাহেনা, দোলনচাঁপা, বেলী, ছাতিম, জারুল, রঙ্গন, টগর, রাধাচূড়া, মধুমঞ্জরি, শ্বেতকাঞ্চন, মল্লিকা, মাধবী, নয়নতারা, কল্কে, স্থলপদ্ম, কচুরি, সন্ধ্যামণিসহ কত যে ফুল ফোটে গাছে গাছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এ ছাড়া বর্ষার জল পেয়ে গাছপালাও এ সময় নতুন সাজে সেজে ওঠে। গাছে গাছে সবুজ পাতা আর রঙবেরঙের ফুলের কারণেই হয়তো শরৎকালকে বলা হয় ঋতুর রানী।


আরও সংবাদ   বিষয়:  শরতকাল     




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]