ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ঢাকাকে আরেকবার সুযোগ দিতে চায় বার্লিন
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 94

ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের ভিসা পেতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরওপের আগে আরেকবার ঢাকাকে সুযোগ দিতে চায় বার্লিন। গত আগস্টে ইইউ কমিটিতে লেখা এক সুপারিশপত্রে ঢাকার পক্ষে এমন সাফাই করেছে বার্লিন। তার আগে জার্মানি থেকে কমবেশি হাজারখানেক অনিয়মিতদের দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। যাদের মধ্যে ৫০-৫৫ জনের প্রথম দলটি আগামী ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরবে এবং আগামী ছয়মাসে পর্যায়ক্রমে আরও ৪০০ জন দেশে ফিরবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে করা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) চুক্তির আওতায় গত জুন মাসে হাজার খানেক আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক পত্র দেয় ইইউ। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশ সেই আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয় কমিশন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিসা কড়াকড়ির পরামর্শ দিয়ে একটি বিবৃতি প্রচার করে। এরপরই নড়েচড়ে বসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র সচিব জার্মানি সফর করেন এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশ আনডকুমেন্টেডদের ফিরিয়ে নেবে। এরপরই জার্মানি ইইউ কমিটিকে চিঠি লিখে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিসা কড়াকড়ির প্রস্তাব রহিত করে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

জার্মান সচিবালয় থেকে ইইউ কমিটিকে লিখিত মতামতে বলা হয়, অনিয়মিত নাগরিকদের নিয়মিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ কিছুটা উন্নতি করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। তবে এই সকল বৈঠকে বাংলাদেশ যে অঙ্গীকার করেছিল তার সবটুকু পালন করেনি। গত জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ জনের পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে কথা দিলেও তা পূরণ করেনি।

জার্মান আরও লিখেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইইউ কমিশনের ভিসা কড়াকড়ির প্রস্তাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আপাতত স্থগিত রেখে বাংলাদেশকে আগামী মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কেননা কড়াকড়ি আরোপের আগে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহযোগিতা না করলে বছর শেষে তাদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক গভীর বলেই তারা আমাদের পক্ষে সুপারিশ করেছে’, এমন মন্তব্য করে জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া গতকাল শুক্রবার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে কথা দিয়েছি যে কোনো আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশি সেখানে থাকবে না। বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত, এই সময়ে অবৈধ উপায়ে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা গিয়েছেন সেটা অনেক আগের ঘটনা। জার্মানি ৮১৬ জন আনডকুমেন্টেড এর সংখ্যা আমাদের জানিয়েছে। যার মধ্যে কমবেশি ৩০০ জন আনডকুমেন্টেড অনেক আগেই দেশে ফেরত গেছেন’।

রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ৪০০ জনের পরিচয় শনাক্ত করে পাঠানো হয়েছে। এদেরকে পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রথম দলে ৫০-৫৫ জন আগামী ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরবে। বাকিরা আগামী ছয়মাসে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবে। এর বাইরে আরও কমবেশি ৩৫০ জন আনডকুমেন্টেড রয়েছে যাদেরকে এখনও পরিচয় শনাক্ত হয়নি’।

/এএমকেজে/জেডও/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]