ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বঙ্গভ্যাক্স টিকা : বানরের পরীক্ষায় শতভাগ কার্যকর
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ১১:২৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 336

দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ বানরের পরীক্ষায় ডেল্টার বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ ১১টি ভ্যারিয়েন্ট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ছিল। এই ১১ ভ্যারিয়েন্টের সিকোয়েন্স অ্যানালাইসিস করে ভ্যাকসিনের সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখা গেছে, বানরের পরীক্ষায় প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেই বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে বানরের ওপর পরীক্ষা শেষ হবে এবং মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) ফল জমা দেওয়া হবে। অনুমতি পেলে নভেম্বরে মানবদেহে পরীক্ষা শুরু করা হবে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের সিনিয়র ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, প্রাথমিক ফলে আমাদের টিকা বানরে নিরাপদ এবং কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এখন আমরা ভ্যাকসিনেটেড বানরে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করছি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডেল্টার বিরুদ্ধে বঙ্গভ্যাক্স শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের ফলও আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যাব।

‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকার সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা জানিয়েছেন, আমেরিকার মডার্নার টিকা মডিফাইড সজঘঅ দিয়ে তৈরি, অন্যদিকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় সজঘঅ-এর সঙ্গে ভাইরাসের তিনটি প্রোটিনযুক্ত কিন্তু ‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকাটি ন্যাচারাল/পিওর সজঘঅদিয়ে তৈরি, তাই এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

তারা আরও জানিয়েছে, মডার্না ইঁদুরে পরীক্ষা করেই মানবদেহে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা করেছে, তারপর মানবদেহে তৃতীয় পর্যায়ে ও বানরে একসঙ্গে পরীক্ষা করেছে। অন্যদিকে ফাইজার-বায়োএনটেক মানবদেহে ও প্রাণীদেহে একসঙ্গে পরীক্ষা করেছে। ‘বঙ্গভ্যাক্স’ ও মডার্নার অনুরূপ প্রক্রিয়ায় মানবদেহে পরীক্ষা করতে চেয়েছিল আর সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি ইঁদুরে পরীক্ষা করে মানবদেহে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা করার নৈতিক অনুমোদনের জন্য বিএমআরসিতে আবেদন করা হয়।

গ্লোব বায়োটেক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে জুলাই মাসে ওষুধ প্রস্তুতকারী গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়। গত বছরের ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেক কর্তৃক আবিষ্কৃত এমআরএনএ ভ্যাকসিনকে কোভিড-১৯ টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরে ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল বঙ্গভ্যাক্সের গবেষণাগার পরিদর্শন করে সব তথ্য-উপাত্ত ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নথিপত্র পর্যালোচনা করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করে। পরবর্তী সময়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ওই গবেষণাগার ও উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন সাপেক্ষে গত ২৮ ডিসেম্বর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ‘বঙ্গভ্যাক্স’ উৎপাদনের অনুমতি দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্লোব বায়োটেক প্রথমে টিকাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য একটি কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিআরও) সঙ্গে কাজ করে। তারা গবেষণাকেন্দ্র ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম দেখে প্রশংসা করলেও তাদের ফেজ-১ ও ফেজ-২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগের অভিজ্ঞতা না থাকায় পরবর্তী ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন লিমিটেডের মাধ্যমে টিকাটির ফেজ-১ ও ফেজ-২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ইথিক্যাল ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রটোকলসহ আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। বিএমআরসির ইথিক্যাল কমিটি প্রটোকল পর্যালোচনা করে শতাধিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ একটি চিঠি দেয় এবং সংশোধিত প্রটোকল ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ বিএমআরসিতে জমা দেওয়া হয় এবং গত ১৮ মে বঙ্গভ্যাক্সের গবেষণাপত্রটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মেডিকেল জার্নাল ভ্যাকসিনে প্রকাশিত হয়। এর দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ২২ জুন বিএমআরসি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগে বানর অথবা শিম্পাঞ্জিতে টিকাটির ট্রায়াল সম্পন্ন করতে হবে। তারপরই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

দেশের ওষুধ ও টিকা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, বিশ্বে করোনার টিকা তৈরিতে এখন পর্যন্ত অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই বানরের দেহে পরীক্ষা লাগেনি। কিংবা একই সঙ্গে প্রাণী ও মানবদেহে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তা হলে গ্লোব বায়োটেকের ক্ষেত্রে কেন লাগবে, এমন প্রশ্নও করেন তারা।

তবে বিএমআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় অনুমোদন এরই মধ্যে দিয়ে দিয়েছে। এখন আর তাদের হাতে কিছু নেই। বানরের ওপর পরীক্ষার ফলসহ পরবর্তী সব কিছুই দেখবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।

গ্লোব বায়োটেক সূত্রে জানা গেছে, খরগোশ ও ইঁদুরের ওপর ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হওয়ার পর প্রায় অর্ধশত বানরের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে ‘বঙ্গভ্যাক্স’। আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বানর সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বানরের ওপর পরীক্ষা করা হয়।

এ বিষয়ে গ্লোব বায়োটেকের সিনিয়র ব্যবস্থাপক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা এবং ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছি। কিন্তু বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়ালে যাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা, সেই বিএমআরসির কোনো সহযোগিতাই আমরা পাইনি বরং বিএমআরসি অনুমোদন না দিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে।

তিনি বলেন, অক্টোবরের মধ্যে বানরে পরীক্ষা শেষ করে বিএমআরসিতে রিপোর্ট জমা দিতে পারব। যদি বিএমআরসি আর কালক্ষেপণ না করে নৈতিক অনুমতি দিয়ে দেয়, তা হলে আমরা ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নভেম্বরের শুরুতেই মানবদেহে পরীক্ষা শুরু করতে পারব। আমরা আগামী মাসেই সবাইকে চমক দিতে পারব, যা শুধু বাংলাদেশকেই নয়, গোটা বিশ্বকেই।

বঙ্গভ্যাক্সের অনুমোদনের প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন সময়ের আলোকে বলেন, বঙ্গভ্যাক্সের বিষয়ে আমাদের যা করার করেই দিয়েছি। আমরা তো নথিপত্র সব সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে জমা দিয়েছিলাম। তারা সময় নিয়েছে। আমরা কালক্ষেপণ করেছি, এ অভিযোগ সঠিক নয়।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  বঙ্গভ্যাক্স টিকা   টিকা  




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]